শহরের সমাধিক্ষেত্রে ‘অল সোলস ডে’ পালন

৩৬৫ দিন। সারি সারি সমাধির সামনে জ্বলছে মোমবাতি। ফুলের মালায় সাজানো কবর সঙ্গে ধূপের গন্ধে ভরে উঠেছে চারপাশ। প্রিয়জনের
সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে প্রার্থনায় মগ্ন স্বজনরা। কারও চোখে হারানোর বেদনা, কারও প্রার্থনায় প্রিয়জনের আত্মার শান্তি কামনা। সোমবার ২
নভেম্বর, ‘অল সোলস ডে’ উপলক্ষে কলকাতার একাধিক সিমেট্রিতে দেখা গেল এমনই ছবি। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি প্রয়াতদের স্মৃতিচারণে দিনটি কাটালেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে ‘অল সোলস ডে’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। প্রতি বছর ২ নভেম্বর প্রয়াত আত্মীয়স্বজন ও প্রিয়জনদের স্মরণে এই দিনটি পালন করা হয়।বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর আত্মা স্বর্গ, নরক কিংবা পারগেটরি এই তিন অবস্থার কোনও একটিতে অবস্থান করে। পারগেটরি হল এমন একটি মধ্যবর্তী অবস্থা, যেখানে থাকা আত্মার পরিশুদ্ধি ও মুক্তির জন্য জীবিতরা প্রার্থনা করেন। সেই বিশ্বাস থেকেই এই বিশেষ দিনের প্রচলন। ইতিহাস বলছে, খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দীর শেষদিকে এই প্রথার সূচনা। ৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের বেনেডিক্টাইন সন্ন্যাসী সেন্ট ওডিলো অব ক্লুনি ২ নভেম্বর প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে প্রার্থনার রীতি চালু করেন। পরবর্তী সময়ে রোমান ক্যাথলিক চার্চের ধর্মীয় ক্যালেন্ডারে দিনটি বিশেষ জায়গা করে নেয়।কলকাতার সিমেট্রিগুলিতেও এ দিন প্রিয়জনদের সমাধিতে ফুল, মোমবাতি ও ধূপ দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বহু মানুষ। মৃত্যুর পরেও স্মৃতির যে কোনও মৃত্যু নেই, প্রার্থনা আর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সেই বার্তাই যেন বহন করে ‘অল সোলস ডে’।

Scroll to Top