৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। সিনিয়র দল নিয়ে নিউজিল্যান্ডে যাচ্ছেন কোচ খালিদ জামিল। স্বাভাবিক ভাবেই অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ নৌশাদ মুসার হাতে আসে সাফ কাপে কোচিং করানোর দায়িত্ব। যে দলে সিনিয়র ফুটবলারদের জায়গায় বেশিরভাগই অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ফুটবলার। তবে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ফুটবলারদের নিয়ে এই প্রথম সাফে ভারতীয় দল খেলতে নামবে, এরকমটা নয়। এর আগেও কলিন টোল, সুখবিন্দর সিং, আর্মান্দো কোালাসোরা সাফল্য পেয়েছেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতিটাই আলাদা। পাকিস্তান ম্যাচ ৫ নভেম্বর। যা ফিফার ক্যালেন্ডারে নির্দিষ্ট করে দেওয়া দিনে নয়। ফলে ৫ নভেম্বরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জাতীয় দলের জন্য ফুটবলার ছাড়তে ক্লাবগুলি বাধ্য ছিল না। কিন্তু গ্রুপের পরের ম্যাচ মালদ্বীপের বিরুদ্ধে ফিফার ক্যালেন্ডারের তারিখেই খেলতে নামবে ভারতীয় দল।
ফলে ক্লাবদেরও ফুটবলার ছাড়তে কোনও অসুবিধা নেই।সেই কারণেই মোহনবাগান, কেরালা ব্লাস্টার্স, পাঞ্জাব এফসি, মহামেডানের মতো কিছু দল ফুটবলার ছাড়ায় ১৮ জন ফুটবলার নিয়ে পাকিস্তান ম্যাচ খেলতে যেতে পারছেন কোচ নৌশাদ মুসা।ভারতীয় দল আসিয়ান কাপে খেলতে যাবে। শুধুমাত্র এই কারণের জন্যই সাফ কাপ পিছিয়ে নভেম্বরে করে দেওয়া হয়। এই অবস্থায় দল তৈরি করতে গিয়ে সমস্যা হওয়ায়, ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের তরফে সাফের কাছে অনুরোধ করা হয়, পাকিস্তান ম্যাচের দিন পিছিয়ে দিতে। কিন্তু সাফ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ভারতের জন্য বারবার ম্যাচের দিন বদল করা সম্ভব নয়। এতে ভারতীয় দল যদি সাফে না খেলে, তাহলেও আর কিছু করার নেই। এরপরেই ঠিক হয়, পাকিস্তান ম্যাচের আগে ১৮ জন ফুটবলার যাবে। আর পরের ম্যাচে মালদ্বীপের বিরুদ্ধে ২৮ জন ফুটবলার নিয়ে দল তৈরি করে নিতে পারবে ভারত। সাফের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার (৯) চ্যাম্পিয়ন ভারত। তবে এবার বাংলাদেশ, পাকিস্তান এমনকি শ্রীলংকা দলেও বেশ কয়েকজন বিদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় রয়েছে। প্রত্যেকটা দল নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে এই করে। সেখানে ভারতের প্রত্যেকে ঘরের ছেলে। তবে এটা নিয়ে বিশেষ অজুহাত দিতে রাজি নন নওশাদ মুসা। ভারতের কোচ বলে দিয়েছেন তার কাছে যে দল আছে তাকে সন্তুষ্ট তিনি। ভারত নিজেদের ফুটবলারদের ওপর বিশ্বাস রাখছে এবং তাদের লড়াই করার ক্ষমতার ওপর ভরসা করছে। মূল দলের ছেলেরা না থাকলেও এই দলে যারা সুযোগ পেয়েছেন তাদের কাছে এবং তাদের ফুটবলার জীবনের কাছে এই টুর্নামেন্ট নিজেদের প্রমাণ করার একটা মঞ্চ। সেটাকেই কাজে লাগাতে চায় ভারতের তরুণ ফুটবলাররা এমনটাই জানিয়েছেন মুসা। পাকিস্তান ছাড়াও ভারতের গ্রুপে আছে মালদ্বীপ। সেভাবে বলতে গেলে পুরো দল নিয়ে সাফের প্রস্তুতিতে মাত্র ‘একদিন’ সময় পাচ্ছেন মুসা। কিন্তু তাতেও মনে করছেন, পাকিস্তানকে হারাতে সমস্যা হবে না ভারতীয় দলে। বলছিলেন, ‘পাকিস্তানের বেশ কয়েকটা খেলা দেখে নিয়েছি। মনে তো হয় না হারাতে কোনও সমস্যা হবে। আসলে ম্যাচটা ফিফা ডেটে না হওয়ায়, ক্লাবরাও সবাই ফুটবলার ছাড়তে পারছে না। কিন্তু মালদ্বীপ ম্যাচের আগেই বাকি ১০ জন ফুটবলারকে পেয়ে যাব আমরা।’ ভারতের এই দলটাতেও যারা আছে তারা ক্লাব ফুটবলে বেশ অভিজ্ঞ। সুহেল ভাট, ফারুক চৌধুরী, সুরেশ, মহাম্মদ সুহেল, সানা সিং, নিখিল, বিষ্ণু, লিস্টন যথেষ্ট ম্যাচিওর এবং পরিশ্রমী ফুটবলার।
বাংলাদেশে সাফ খেলতে যাওয়ার আগে কলকাতায় দুদিনের প্রস্তুতিতে ভারতীয় ফুটবল দল
- khabar365din
- November 3, 2026
- 12:54 pm
- No Comments




