ছাংতের হ্যাটট্রিক, ডেকানকে ৬ গোল দিয়ে শিল্ড শুরু মোহনবাগানের

মোহনবাগান: ৬ (ছাংতে হ্যাটট্রিক, অভিষেক, সন্দীপ, এরউইন)
শ্রীনিধি ডেকান : ০

৩৬৫ দিন।রোহন রায় চৌধুরী।বড় দলের আত্মসম্মানে ঘা লাগলে তারা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করে। আজ দুপুরে নিজেদের ঘরের মাঠে মোহনবাগানের ম্যাচটা দেখার পর সেটাই মনে হবে। কলকাতা লিগ জয়ের পর এবার আইএফএ শিল্ড টার্গেট করেছে বাগান। গতবার তারা এই টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবারও চ্যাম্পিয়নশিপ ধরে রাখতে মরিয়া সবুজ মেরুন ব্রিগেড। আজ ছিল শিল্ডের প্রথম ম্যাচ। আর সেই ম্যাচে দল গঠন নিয়ে চিন্তায় ছিলেন বাগান কোচ প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিস। আপুইয়া, মনবীর সিং, মেহতাব সিং, অভিষেক সিং, সাহাল আবদুল সামাদ, অনিরুদ্ধ থাপারা জাতীয় শিবিরে। এছাড়াও সমীর জেলকোভিচের মতো বিদেশি চোটের তালিকায়। প্রথম একাদশে ম্যাকলারেন, রডরিগেজ, দ্রাজিচ ও মিগুয়েলকে রেখে দল সাজান পানোস। ছিলেন ছাংতে, লিস্টন, সূর্যবংশীরাও।
তাঁদের নিয়ে বৃষ্টিভেজা মাঠে শুরু থেকে আগ্রাসী ফুটবল উপহার মোহনবাগানের। ৫ মিনিটে সূর্যবংশীর বাড়ানো বলে শুভাশিস বসুর হেড বিপদমুক্ত করেন ডেকানের গোলরক্ষক কমলজিৎ। তবে ৮ মিনিটে প্রীতম কোটালের ভুলের সুযোগ নিয়ে দ্রাজিচ বল বাড়ান সূর্যবংশীকে। দূরপাল্লার দুরন্ত শটে গোল করে সবুজ-মেরুনকে এগিয়ে দেন তিনি। ২৯ মিনিটে সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল শ্রীনিধিও। জেরির শট অনেকটা বাইরে চলে যায়। ৪৪ মিনিটে শুভাশিসের থ্রু চলে আসে মিগুয়েলের কাছে। তাঁর বাড়ানো বল জালে পাঠাতে কোনও ভুল করেননি ছাংতে। বিরতির পর আরও ভয়ংকর মোহনবাগান। ৫২ মিনিটে ম্যাকলারেনের সেন্টার থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে, গোলরক্ষক কমলজিৎকে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ছাংতে। পাঁচ মিনিট পর লিস্টন ও মিগুয়েলের যুগলবন্দির সুফল কাজে লাগিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ছাংতে। ম্যাকলারেনের জায়গায় নামেন লি এরউইন। পরে মিগুয়েল ও দ্রাজিচকে তুলে নামানো হয় সুহেল ও কিয়ানকে। তাতেও সবুজ-মেরুনের গোলের উৎসবে ভাটা পড়েনি। ৮১ মিনিটে ছাংতের বাড়ানো বলে কিয়ানের মাইনাস বিপক্ষের পায়ে লেগে সন্দীপ মালিকের সামনে আসে। ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে স্কোর লাইন ৫-০ করেন। মিনিট খানেক পরেই ছাংতের বাড়ানো বল থেকে লাফিয়ে হেড করে জালে পাঠান লি এরউইন। সবুজ-মেরুন জার্সিতে অভিষেক ম্যাচেই গোল পেলেন স্কটিশ তারকা। আরও একটা দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন তিনি। নিশানায় থাকেনি বল। এই ম্যাচে মোহনবাগানের প্রাপ্তি ছাংতের হ্যাটট্রিকের সঙ্গে মিগুয়েলের বিচক্ষণ ফুটবল, এরউইনের গোল। সবুজ-মেরুনের পরের ম্যাচ নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে। আলাদিন, আশির, রিদিমদের নর্থ ইস্ট অবশ্য অনেক লড়াকু এবং কোয়ালিটি দল। তাই আগামী ২৯ তারিখ এই ম্যাচটা বাগানের পক্ষে আজকের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন ভাবে সেটা নিশ্চিত। তবে একটা বড় ব্যবধানে জয় একটা দলের মনোবল বাড়ায়। আজ মোহনবাগানের এই ছটা গোল কিছু না হলেও দলটার মনোবল বাড়াতে সাহায্য করবে। যেভাবে গোটা দলটা আজ একটা ইউনিট হিসেবে পারফর্ম করল তাতে ভরসা রাখতেই পারেন সমর্থকরা। আর একটা কথা না বললেই নয়। মোহনবাগানের ফিটনেস আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে। সেটা পুরো ম্যাচে ফুটবলারদের মুভমেন্ট দেখে বোঝা গেছে। ছাংতে মুম্বই থেকে মোহনবাগানে এসেছেন বিরাট টাকায়। তিনি সফল হবেন কিনা এই নিয়ে অনেক লেখা হয়েছে এর মধ্যেই। এর আগে মহমেডানের বিরুদ্ধে ম্যাচটায় তার লব থেকেই প্রথম গোলটা করেছিলেন সামাদ। আজ মিজোরামের তারকা ফুটবলার বুঝিয়ে দিলেন নিজের ৭০ শতাংশ ফুটবলটাও যদি খেলতে পারেন তাহলে বিপক্ষ অনেক দলের কপালে দুঃখ আছে এ বছর। তাকে কিভাবে ব্যবহার করেন গ্রিক কোচ সেটা দেখতে হবে। যাই হোক আজ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে যে মোহনবাগান সমর্থকরা মাঠে এসেছিলেন খেলার শেষে হাসিমুখ নিয়ে তারা বাড়ি ফিরলেন। এটাই বা কম প্রাপ্তি নাকি? মাঝে পাঁচ দিন সময় আছে। তারপর আলাদিনের নর্থইস্ট ইউনাইটেডর বিরুদ্ধে লড়াই বাগানের।

Scroll to Top