৩৬৫ দিন। বিধবা আবার বিয়ে করবে! তাও প্রেম করে! এ যে ভয়ঙ্কর অনাচার। সমাজ মানবে কেন? অত এব সমাজের মাতব্বররা নখ দাঁত বের করে ঝাঁপিয়ে পড়বে। নীতি পুলিশগিরি এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায়। বিধবা প্রেম করে ফের বিয়ে করবে বলায় তাকে ও তার প্রেমিককে পোস্টে বেঁধে মুখে চুন কালি মাখানো হল নাগাড়ে চলল মারধর। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে বাড়ি পাঠিয়ে দিলেও বিস্ময়ের বিষয় হল যারা এই ঘটনা ঘটালো তাদের একজনকেও পুলিশ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে চন্দ্রকোনার গোঁসাইবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এখানকার বাসিন্দা এক মহিলার তিন মাস আগে স্বামী মারা যায়। ঘর থেকে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কি কারণে ওই ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছিলেন তার তদন্ত এখনো চলছে। সম্প্রতি ওই বিধবা মহিলার সঙ্গে সন্দেশখালির বাসিন্দা এক ব্যক্তির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই খবর চাউর হতেই প্রথমে ওই বিধবা মহিলাকে হুমকি দেওয়া হয় তারপর তার প্রেমিককে ডেকে পাঠিয়ে প্রথমে দুজনকে পোস্টে বাঁধা হয় তারপর তাদের ব্যাপক মারধর করা হয় শেষে তাদের চুন কালি মাখানো হয়। আক্রান্ত মহিলার দাবি, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার উস্কানিতে এই ঘটনা ঘটে। তারা তার স্বামীর আত্মহত্যার জন্য তার এখনকার সম্পর্ককে দায়ি করে ওই এলাকায় বাড়িতে বাড়িতে রটিয়ে দেয় যে, স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক মানতে না পেরে তার স্বামী আত্মহত্যা করেন। এমনকি সেই তার স্বামীকে মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছে প্রেমিকের সাহায্য নিয়ে, এমন-ই রটানো হয়। মহিলার অভিযোগ হল, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করে ঠিক-ই কিন্তু যারা এই হেনস্থা করল তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই হল না। যদিও পুলিশ বলছে, এই ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ হলে নিশ্চয় ব্যবস্থা নেওয়া হত যদিও প্রশ্ন উঠছে মহিলাকে বেঁধে পেটানো তার মুখে চুন কালি মাখানো তো শ্লীলতাহানির সামিল। পুলিশের তো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করা উচিৎ।
‘বিধবার প্রেম বিয়ে’! যুগলকে পোস্টে বেঁধে মার
চন্দ্রকোণায় নীতি পুলিশগিরি





