‘আমরা ১৭ সাংসদ যোগ দিতে চলেছি বিজেপিতে’ কোচবিহারের সাংসদ জগদীশের দাবি

৩৬৫ দিন।আসন্ন দূর্গা পূজার আগেই অথবা সামান্য পরে আমরা ১৭ সাংসদ সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছি। তবে মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু এলাকা থেকে জিতে আসা তিনজন সাংসদ আমাদের সঙ্গে বিজেপিতে যাচ্ছেন না। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জিতে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বসুনিয়া আজ এমন বিস্ফোরক দাবি করলেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে যখন লোকসভার অধ্যক্ষ ইতিমধ্যেই তাদের দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য জবাবদিহি তলব করেছেন এবং অভিষেকের দায়ের করা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, সেই সময় দাঁড়িয়ে ফের একবার দলবদলের কথা ঘোষণা করলেন জগদীশ। দলত্যাগবিরোধী আইনে ওই সাংসদদের সদস্যপদ খারিজের আর্জি জানিয়েছিলেন লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এখনো তারা তৃণমূল ছেড়ে সরাসরি এনসিপিআই সাংসদ হিসেবেও লোকসভার রেকর্ডে স্বীকৃতি পাননি। সেখান থেকে রাতারাতি আবার কিভাবে বিজেপিতে যোগ দেবেন সেই অংক অবশ্য মেলাতে পারেননি জগদীশ। কিন্তু গত এক মাসের মধ্যে পরপর দুবার নিজের নির্বাচনে এলাকা সহ নিজের বাড়িতে ঢুকতে যাওয়ার পথেই যেভাবে এলাকার বিজেপি নেতাকর্মীদের জুতো ঝাঁটা এবং বেইমান স্লোগানের মুখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন পুলিশ পাহারায়, সেখানে বাধ্য হয়েই কোন একটা পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছেন জগদীশের ঘনিষ্ঠরা।
দলত্যাগ বিরোধী আইনের অংক
এখনো পর্যন্ত তৃণমূলের সাংসদ হিসেবেই লোকসভায় স্বীকৃত তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যাওয়া এই ২০ সাংসদ। তাদের দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য একদিকে যেমন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দিয়ে ডেড লাইন বেঁধে দিয়েছেন, তেমনভাবেই ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন লোকসভার অধ্যক্ষ। তৃণমূলের থেকে যদি একসঙ্গে কুড়ি সাংসদ নতুন রাজনৈতিক দলে যোগদান করেন এবং তা স্বীকৃতি পায়, তার পেছনে যে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অংক রয়েছে সেই অংক ধোপে টিকবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয় সুপ্রিম কোর্টে। তার মধ্যেই আবার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ থেকে নির্বাচিত ৩ সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে বেঁকে বসেছেন মুর্শিদাবাদের বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক আগে নিজেদের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক বাঁচানোর মরিয়া তাগিদে। সেই কথা স্বীকার করে নিয়ে জগদীশ বলেন, ওঁদের এলাকা সংখ্যালঘু অধ্যুষিত, তাই সরাসরি বিজেপিতে না গিয়ে ওঁরা এনডিএ-কে বাইরে থেকে সমর্থন জানাবেন। তবে ওঁদের জন্য পৃথক দপ্তর বা দায়িত্ব নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতিতে কাকলি সুদীপ জগদীশদের সঙ্গে রয়েছেন মোট ১৭ জন। অর্থাৎ তৃণমূলের মোট সাংসদ এর দুই তৃতীয়াংশের থেকে যা সংখ্যায় কম। ‌ তারা যদি সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেন তাহলে প্রত্যেকের সাংসদ পদ খারিজ হবে। যদিও জগদীশ বসুনিয়া নতুন অংকের অবতারণা করে দাবি করেন, ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৪ জন গেলেই তো দুই-তৃতীয়াংশের আইনি শর্ত পূরণ হয়ে যায়। সেখানে আমাদের সঙ্গে ১৭ জন রয়েছেন, ফলে কোনো দলবিরোধী আইনের প্যাঁচে পড়ার ভয় নেই। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এন সি পি আই সংসদ হিসেবে স্বীকৃতি যেখানে পাননি সেখানে ২০ সাংসদের মধ্যে থেকে দুই-তৃতীয়াংশ ভাগ করার যুক্তি জগদীশ বাবুর মাথায় কোথা থেকে এসেছে সেটা নিয়ে সন্দিহান মমতা পন্থী তৃণমূল নেতৃত্ব।যাচ্ছেন না মুর্শিদাবাদের ৩ সাংসদ
জগদীশ বসুনিয়ার দাবি, সংখ্যালঘু ভোটার অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদের তিন লোকসভা থেকে নির্বাচিত তিনজন যেহেতু সরাসরি বিজেপিতে যেতে চান না, তাই এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করে বিজেপিই। আমরা এনসিপিআই-তে যাওয়ার কথা জানতাম না। এখন আমাদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। তিনজন সংখ্যালঘু থেকে যেতে চাইলেও আমরা বিজেপিতে যোগ দেব।
বিজেপিতে যাচ্ছি না – আবু তাহের
তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিজেপিতে যোগদানের কথা উড়িয়ে দিয়ে আবু তাহের বলেন, আমরা নিজেদের এলাকায় কাজ করার কথা ভাবছি। অন্য ১৭ জনের দায়িত্ব, ১৭ জন নেবে। বসুনিয়া তাঁর কথা বলেছেন। আমাদের কোনও দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়নি। এটা ওঁর ব্যক্তিগত মতামত। এর সঙ্গে আমাদের মতামতের কোনও মিল নেই। আমরা বিজেপিতে বা এনডিএ-তে নেই। আমরা নিজেদের এলাকায় কাজ করার কথা ভাবছি। অন্য় ১৭ জনের দায়িত্ব, ১৭ জন নেবে। এরকম কোনও চুক্তি আমাদের সঙ্গে হয়নি। ১৭ জনের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলুন।
সুদীপে আপত্তি সজল ঘোষের
এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপিতে যোগদানে যে আপত্তি আছে, সে কথা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, আমার অঞ্চলের সাংসদ যদি যোগ দেন, সেটা আমার মনের বিরুদ্ধে। তাঁকে আমি চাই না। এ বিষয়ে বলতে কোনও দ্বিধা নেই। দল যদি নির্দেশ দেয়, মানতে হবে।

Scroll to Top