মোহনবাগান – ১
ইউনাইটেড স্পোর্টস – ১
৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। একটা নিশ্চিত জেতা ম্যাচ মাঠে ফেলে এল মোহনবাগান। সোমবার নিজেদের ঘরের মাঠে শেষ দু মিনিটে বদলে গেল চিত্র। সিনিয়রদের নামিয়ে, একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে জিততে পারল না মোহনবাগান। সাহাল আব্দুল সামাদ, মনবীর সিং, দীপক টাংরি, শুভাশিস বসু, আপুইয়ার মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে মাঠে নেমেছিল সবুজ-মেরুন। বলের দখল ছিল, আক্রমণ ছিল, গোলের সুযোগও ছিল। কিন্তু বল জালে জড়াতে হিমশিম খেল তারা। এমন কী সাত মিনিটের ইনজুরি টাইম পেরিয়ে ম্যাচ ১০২ মিনিটে গড়াল, তাতেও গোলের মুখ খুলতে পারল না মোহনবাগান। শেষ পর্যন্ত ইউনাইটেডের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগ করেই মাঠ ছাড়তে হল তাদের। ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে মোহনবাগান। সাহাল, কিয়ান এবং মনবীরের আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ইউনাইটেড স্পোর্টসের রক্ষণ। ২২ মিনিটে গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন সাহাল। কিন্তু তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দীপক টাংরির জোরালো শট ইউনাইটেডের গোলরক্ষক সুশোভন ঘোষ অসাধারণ দক্ষতায় আটকে দেন। ৩১ মিনিটে ফের গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মনবীর। কিন্তু তাঁর শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট। একটা সময় মনে হচ্ছিল, গোল শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু যত সময় গড়িয়েছে, ততই যেন গোলের সামনে মোহনবাগানের অস্বস্তি বেড়েছে। সুযোগ তৈরি হয়েছে, কিন্তু শেষ মুহূর্তের সেই একটা নিখুঁত পাস, একটা নিখুঁত শট কিংবা ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং— কোনওটাই দেখা গেল না। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ জেতার সবচেয়ে বড় সুযোগটি আসে মনবীর সিংয়ের সামনে। কিয়ানের থ্রু বল ধরে গোলের দিকে ছুটছিলেন তিনি। তাঁকে আটকাতে বেরিয়ে এসেছিলেন সুশোভন। বল ধরতে গিয়ে ইউনাইটেডের গোলরক্ষক পিছলে পড়েন। সামনে তখন কার্যত ফাঁকা গোল। গোল করার জন্য এর চেয়ে সহজ পরিস্থিতি আর কী হতে পারত! কিন্তু সেই মুহূর্তেও মোহনবাগানের ভাগ্য খুলল না। ভারসাম্য হারিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন মনবীর। এই একটি দৃশ্যেই যেন ধরা পড়ে যায় মোহনবাগানের পুরো ম্যাচ। প্রতিপক্ষের বক্সে পৌঁছনোর ক্ষমতা আছে, সুযোগ তৈরি করার ক্ষমতা আছে, কিন্তু গোলের সামনে গিয়ে সব হিসেব ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে। সহজ বাংলায় বললে ফিনিশিং এর অভাব। একটা দলের ফরোয়ার্ড লাইন যদি অনেক সুযোগ তৈরি করেও বল জালে জড়াতে না পারে তাহলে লাভ নেই। গোটা ম্যাচে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করার পর অবশেষে ৯০ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় মোহনবাগান। কর্নার থেকে বক্সে আসা বল ঠিক মতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি সুশোভন ঘোষ। তাঁর হাত থেকে বল ফস্কে যায়। সুযোগের অপেক্ষায় থাকা সন্দীপ মালিক সেই বল পেয়ে কোনও ভুল করেননি। খুব কাছ থেকে সহজ ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে সবুজ-মেরুন শিবিরে স্বস্তি ফেরান তিনি। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে তিন পয়েন্ট প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু নাটক তখনও শেষ হয়নি।
মোহনবাগানের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে শেষ বারের মতো আক্রমণে ওঠে ইউনাইটেড স্পোর্টস। মেরিনার্সদের বক্সে তৈরি হওয়া চাপের মধ্যে একাধিক ডিফ্লেকশনের পর বল পৌঁছে যায় সুময়ের কাছে। সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি। হেডে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান ইউনাইটেড ফুটবলার। এক্ষেত্রে মোহনবাগান গোলরক্ষক দিপ্রভাত বুঝতে পারেনি বলের লাইন। হতাশায় মুখ ঢাকেন সমর্থকরা। মনে হচ্ছিল কষ্ট করে লড়াই করে যে ম্যাচটা থেকে শেষ লগ্নে তিনটি পয়েন্ট নিশ্চিত, একটা মুহূর্তের ভুলে দুটি পয়েন্ট হাতছাড়া হল। আজ জিততে পারলে বাগান পৌঁছে যেত ৬ পয়েন্টে। সেই জায়গায় তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হল ৪ পয়েন্ট নিয়ে। তবুও মোহনবাগান সমর্থকরা আশা রাখছেন শেষ দিন বারাসাত মাঠে মহামেডান দলের বিরুদ্ধে জিতে চ্যাম্পিয়ন হবে মোহনবাগান। সম্ভবত পরের শনিবার ১৯ তারিখ শেষ রাউন্ডের খেলা ঘোষণা করা হবে। মোহনবাগান শেষ ম্যাচ জিতলে ২০১৮ সালের পর কলকাতা লিগ জয় করবে। সেদিন সম্ভবত লিস্টনকে পাওয়া যাবে। ড্র হলেও সম্ভাবনা থাকছে। কিন্তু জিতলে এবং সাত পয়েন্টে পৌঁছতে পারলে মোহনবাগান ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে। তাই পূর্ণ শক্তি নিয়ে সেদিন ঝাপাবে বাস্তব রায়ের ছেলেরা।


