ইস্টবেঙ্গল – ১
মোহনবাগান – ১
৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। কলকাতা লিগে দুই দলই সুপার সিক্সে উঠে যাওয়ায় এই ম্যাচের গুরুত্ব ছিল না। কারণ সুপার সিক্সে গ্রুপ পর্বের পয়েন্ট যোগ হবে না। এই অবস্থায় ইস্টবেঙ্গলকে বাগে পেয়েও হারাতে না পারা মোহনবাগানের কাছে অবাক করা ফল। ডুরান্ড কাপের ফাইনালে হারের বদলা হিসাবেই এই ম্যাচকে দেখেছিলেন ফুটবলার থেকে সমর্থকেরা। তা অধরাই থাকল। বিজয় মুর্মু, চাকু মান্ডিদের সাহসী ফুটবলে আটকে গেল মোহনবাগান। প্রত্যাশামতোই ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গল দলে প্রথম সারির কোনও ফুটবলার ছিলেন না। জয় বাজ, চাকু মান্ডি, আকাশ হেমব্রমদের উপরেই ভরসা রেখেছিল তারা। অন্য দিকে মোহনবাগান একাধিক প্রথম দলের ফুটবলারকে নামিয়েছিল। মেহতাব সিংহ, রাহুল ভেকে, শুভাশিস বসু, আপুইয়া, সাহাল সামাদ, মনবীর সিংহকে প্রথম একাদশে রাখা হয়েছিল।শুরু থেকে ম্যাচের দখল নিয়ে নেয় মোহনবাগান। শুরুতেই বাঁপ্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে আক্রমণে উঠেছিলেন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। ইস্টবেঙ্গল আটকে দেয়। কয়েক মুহূর্ত পরেই ডানপ্রান্ত থেকে ভেসে আসা ক্রসে মোহনবাগানের কেউ মাথা ছোঁয়াতে পারেননি। ইস্টবেঙ্গল চেষ্টা করছিল রক্ষণ জমাট রাখতে। সুযোগ পেলে কাউন্টার আক্রমণ করা লক্ষ্য ছিল তাদের। আট মিনিটের মাথায় ইস্টবেঙ্গল ভাল জায়গায় ফ্রিকিক পায়। বক্সের ঠিক বাইরে পেয়েছিল ফ্রিকিক। বিজয় বাঁকানো শট রেখেছিলেন। অল্পের জন্য তা গোলের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়েছিল বারাসত স্টেডিয়ামে। ফলে ফুটবলারেরা যে স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারবেন না সেটা বোঝাই গিয়েছিল। কিছু ক্ষণ পর থেকেই সেটা স্পষ্ট হতে থাকে। দু’দলের ফুটবলারেরাই নিজেদের মধ্যে পাস খেলতে পারছিলেন না। বলের নড়াচড়ায় সমস্যা হচ্ছিল। তুলে খেলতে হচ্ছিল। স্বাভাবিকভাবে বল রোল হচ্ছিল না। যার ফলে ফুটবলারদের বাড়তি পরিশ্রম করতে হচ্ছিল। প্রথম আধঘণ্টায় দু’দলের শারীরিক ফুটবল নজর এড়ায়নি। মোহনবাগানের আক্রমণের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মনবীর এবং সাহাল। তাঁদের আটকাতে রক্ষণ মজবুত রেখেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারেরা। ফলে ৬০ শতাংশের বেশি বল নিয়ন্ত্রণে রেখেও মোহনবাগান দাঁত ফোটাতে পারছিল না ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণে। ৩৬ মিনিটে মোহনবাগান ভাল সুযোগ পেয়েছিল। রক্ষণ থেকে বল পেয়েছিলেন মনবীর। তবে ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার গৌরব সাউ এগিয়ে এসে বল বিপন্মুক্ত করেন। কিয়ান বলের নাগাল পাননি। ৩৮ মিনিটে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। খুব খারাপ গোল হজম করে ইস্টবেঙ্গল। দূর থেকে বল ভেসে এসেছিল। কয়েকটি ড্রপের পর বল যায় মনবীরের কাছে। তাঁর সামনে ছিলেন অঙ্কন ভট্টাচার্য। তিনি এগিয়ে এসেও মনবীরকে আটকাতে পারেননি। গোল ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন গৌরবও। তা দেখে মনবীর অঙ্কনের পায়ের ফাঁক দিয়ে মারা শটে বল জালে জড়ান। প্রথমার্ধ শেষের আগে আবার এগিয়ে যেতে পারত মোহনবাগান। কিন্তু সায়নের পাস পেয়ে সাহালের দুর্বল শট কর্নার হয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গলের খেলা অনেকটাই পাল্টে যায়। শুরু থেকেই আক্রমণে উঠতে শুরু করে তারা। প্রথম মিনিটেই বক্সের ভেতর থেকে বিজয়ের শট গায়ে লাগে শুভাশিসের। পরের মিনিটেই ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারকে ধাক্কা দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন সায়ন।৫৩ মিনিটে চোট পেয়ে মনোতোষ উঠে যাওয়ায় নামেন বিলাল। শুরু থেকেই তাঁর খেলার মধ্যে ছটফটানি ভাব ছিল। কিছু ক্ষণ পরেই দু’টি সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। ৫৬ মিনিটে মেহতাব এবং গোলকিপার দীপ্রভাত ঘোষের ভুল বোঝাবুঝির কারণের মোহনবাগানের গোল ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। আকাশ শট মারতে একটু দেরি করে ফেলেন।কর্নার থেকে উত্তমের হেড লাগে বারে। ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ দেখেই মনে হচ্ছিল গোল আসা সময়ের অপেক্ষা। সেটাই হয়। বিজয়ের কর্নার থেকে লাফিয়ে উঠে হেড করে বল জালে জড়ান বিলাল। গোল পেয়ে আরও ঝাঁঝ দেখা যায় ইস্টবেঙ্গলের খেলায়।৮৪ মিনিটে খেলার বিপরীতে গিয়ে ইস্টবেঙ্গলের পতন রোধ করেন গৌরব। কিয়ানের হেড মাটিতে লাফিয়ে পৌঁছয় সায়নের কাছে। তিনি শট নিয়েছিলেন। শেষ মুহূর্তে আঙুল ছুঁইয়ে বল মাঠের বাইরে বার করেন গৌরব। তবে এই ম্যাচটা ড্র হওয়ার ফলে মোহনবাগানের কাছে নৈতিক পরাজয় বলা উচিত। ইস্টবেঙ্গলের কাছে এটা জয়ের সমান। হার না মানা মানসিকতা এবং লড়াই করার শক্তি থাকলে ডার্বি ম্যাচে অভিজ্ঞ এবং শক্তিশালী দলকে আটকে দেওয়া যায় সেটা দেখিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল। তাদের সমর্থকরা গর্ব করতেই পারে। অন্যদিকে ডুরান্ড কাপে চার গোল খাওয়ার পর আজ মোহনবাগানের কাছে এটা একটা বদলার প্ল্যাটফর্ম ছিল। কিন্তু ডাহা ফেল সবুজ মেরুন ব্রিগেড। প্রত্যাশার ৫০ শতাংশ খেলতে পারেনি তারা। অভিজ্ঞতায় এত এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও তার প্রতিফলন মাঠে দেখা যায়নি। মোহনবাগান ম্যানেজমেন্ট শুনতে পাচ্ছে কি?




