৩৬৫ দিন। আবার সে এসেছে ফিরিয়া! এক, দুই, বা দশ কুড়ি বছর পর নয়, প্রায় ৯৫ বছর পর তার কামব্যাক। উত্তরবঙ্গ থেকে সম্ভবত হারিয়ে যাওয়া বলে মনে করা একটি পাখি ৯৫ বছর পর আবারও পাখিপ্রেমীর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। হোয়াইট-হুডেড ব্যাবলার নামে পরিচিত এই পাখিটিকে ঐতিহাসিকভাবে বাংলার তরাই অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা বলে মনে করা হতো। তবে ১৯৩১ সালের পর থেকে এর আর কোনো দেখা মেলেনি।সম্প্রতি রংটংয়ের উপকণ্ঠে পাখিপ্রেমী সন্দীপ বিশ্বাস পাখিটির ছবি তোলেন।
উত্তরবঙ্গে হোয়াইট-হুডেড ব্যাবলারের উপস্থিতির ইতিহাস দীর্ঘ হলেও তথ্য খুবই সীমিত। দার্জিলিং ও উত্তরবঙ্গ থেকে সংগৃহীত বেশ কিছু ঐতিহাসিক নমুনা বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। সর্বশেষ জানা নমুনাটি সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৯৩১ সালের ১৫ জানুয়ারি, তিস্তা উপত্যকার তারখোলা থেকে, সংগ্রাহক ছিলেন এইচ. স্টিভেন্স । আলি ও রিপলি এবং রাসমুসেন ও অ্যান্ডার্টনের মতো পক্ষীবিদদের গবেষণাতেও পাখিটির উল্লেখ রয়েছে এবং এখনও এটি আঞ্চলিক পাখির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
কলকাতাভিত্তিক বার্ডওয়াচার্স’ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বিশ্বপ্রিয়া রাহুত জানান, এই পাখির আবাসস্থল মূলত নিচু উচ্চতার বাঁশঝাড়, বর্তমানে যা খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। কারণ মহানন্দা বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যের নিচু এলাকাগুলিতে এই ধরনের বাঁশঝাড় ক্রমশ কমে গেছে।
রাহুত বলেন, “নিচু উচ্চতার বাঁশঝাড়ের ক্রমশ কমে যাওয়া এবং এই আবাসস্থলগুলিতে সহজে পৌঁছাতে না পারাই সম্ভবত পাখিটিকে দেখতে পাওয়া কঠিন করে তুলেছে। হয়তো পাখিগুলো এখানেই ছিল, কিন্তু এতদিন নজরে আসেনি।”
রাহুতের মতে, হোয়াইট-হুডেড ব্যাবলারকে অরুণাচল প্রদেশ ও ভুটানেও দেখা যায়। ফলে রংটংয়ে সাম্প্রতিক এই দেখা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এর মাধ্যমে বোঝা যেতে পারে, উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চল-ঘেরা উপযুক্ত আবাসস্থলগুলিতে এখনও এই প্রজাতির কোনো স্থায়ী উপস্থিতি রয়েছে কি না।সন্দীপ বিশ্বাস জানান, বর্তমানে পাখিটি ভুটান থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্ব ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার এবং মায়ানমার-সংলগ্ন দক্ষিণ চিনের হিমালয়ের পাদদেশীয় কিছু বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে টিকে রয়েছে। এসব অঞ্চলে এটি সাধারণত স্থায়ী প্রজাতি হিসেবে পরিচিত, যদিও স্থানীয়ভাবে কিছুটা চলাচল করতে পারে। তবুও পাখিটিকে সামগ্রিকভাবে স্থানীয়ভাবে বিরল বা কম দেখা যায়। বিশ্বাস জানান, তিনি সহ-পাখিপ্রেমী মিতালি বিশ্বাসের সঙ্গে পাখিটির ছবি তুলেছেন। তিনি বলেন, “আমরা বাঁশঝাড়ের মধ্যে একটি Pale-headed Woodpecker খুঁজছিলাম। আমাদের বার্ডিং গাইড বিক্রম মণ্ডা ঢাল বরাবর আমাদের নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় হঠাৎ করেই এই ব্যাবলারের দেখা পেয়ে যাই।”বার্ডওয়াচার্স’ সোসাইটির কানাদ বৈদ্য জানান, প্রকৃতিবিদ পিটার বেক গত কয়েক বছর ধরে ওই এলাকায় এই প্রজাতিটির সন্ধান করে আসছিলেন। তিনি বলেন, “এই আবিষ্কারের কৃতিত্ব সন্দীপ, বিক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সকলেরই প্রাপ্য।”




