৩৬৫ দিন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম সহ অন্যত্র দেওয়ালে লেখা মার্ক্স বা মাওবাদী উক্তি বা গ্রাফিত্তি রাতের অন্ধকারে মুছে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পড়ুয়াদের একাংশের প্রশ্ন,রাতের অন্ধকারে এভাবে কেন হোয়াইট ওয়াশ করা হল ? কারা রয়েছে এই কাজের পিছনে? এই বিষয়ে আর এস এফ নেতৃত্বের অভিযোগ,রাত সাড়ে ১২ টা নাগাদ ৪ নম্বর গেট দিয়ে বাইরে থেকে পুর কর্মী পরিচয় দিয়ে কিছু মানুষ ঢোকে। দেওয়াল লিখন মুছতে আসা পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ছিল বলে অভিযোগ।এফ আই য়ের পক্ষে অঞ্জিল দাস জানিয়েছেন,’ মঙ্গলবার রাতে অডিটোরিয়ামের দেওয়ালে এস এফ আইয়ের পক্ষ থেকে যে মার্ক্সের উক্তি লেখা হয়েছিল তা দেখা যাচ্ছে, সাদা চুনকাম করে দেওয়া হয়েছে। শুনছি সাদা পোশাকের পুলিশের উপস্থিতিতে পুরসভার কর্মীরা এই কাজ করেছে। ক্যাম্পাসে কিভাবে বাইরের মানুষ ঢুকল সেটাই বড় প্রশ্ন? আমরা আবার দেওয়াল লিখনের কর্মসূচি নেব, সাংগঠনিক স্তরে আলোচনা করে নেওয়ার পর।’এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন,’ পুরসভার কর্মীরা ঢুকবে বলে ইনটিমেশন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনোও পারমিশন চাওয়া হয়নি।পুলিশ ঢুকেছে কিনা আমি তা জানি না। আমি যতদূর জানি উপাচার্যের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে কখনও পুলিশ ঢুকতে পারে না ‘
বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢোকা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।এই ঘটনা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।’দেওয়াল দখলে রাখার রাজনীতিতে পারদ চড়ছে যাদবপুরের ক্যাম্পাসে ‘দেওয়াল দখলে রাখার রাজনীতি র জন্য পারদ ক্রমশ চড়ছে। বামপন্থী বনাম ডানপন্থী এবিভিপি সংগঠনের লড়াইতে চাপা উত্তেজনা রয়ে গেছে। গত ১৯ তারিখ রাতের অন্ধকারে ক্যাম্পাসে বহিরাগদের তাণ্ডব ও ২০ তারিখ দিনে দুপুরে ৪ নম্বর গেটে থাকা শিল্পাচার্য নন্দলাল বসুর হাতে আঁকা এমব্লেম ভাঙা হয় বলে অভিযোগ। এবিভিপি অভিযোগ করে, ইউনিট সভাপতি নিখিল দাস সহ তাঁদের সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে। পাল্টা বাম ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব সরব হন, তাদের সমর্থক কে মারধর করা হয়েছে। এই ঘটনার পর দুই শিবির অবস্থান- বিক্ষোভে সামিল হয়।যাদবপুর থানায় বেশ কয়েকজন বাম নেতৃত্বের বিরুদ্ধেঅভিযোগ জানান নিখিল দাস। এর মাঝে যাদবপুরে সহস্রাধিক কণ্ঠে বন্দেমাতরম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সেই সভায়মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়াও বিতর্কিত বিষয় দেওয়ালে লেখার অভিযোগ করে সরব হন। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই দ্রুত দেওয়াল লিখন মুছে সাদা চুনকাম করে দেওয়া হয় কর্তৃপক্ষের তরফে। এরপর আবার বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতারা ‘রিক্লেম দ্য ওয়াল’ বা দেওয়াল পুর্ণদখল করার ডাক দেয়। দ্রুত দেওয়ালে মার্ক্স, মাওবাদী উক্তি লিখে দেওয়ার অভিযোগে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।এবিভিপি সমর্থকরা এই দেওয়াল দখলের রাজনীতির বিরোধিতা করে সোচ্চার হয়েছেন। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের তরফ থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়ে বন্দেমাতরম যাত্রার আয়োজন করছে।
হরিপদ ভারতী স্মৃতি রক্ষা সমিতির ব্যানারে বেদপাঠ, বন্দেমাতরম সঙ্গীত পরিবেশন, থাকতে পারেন শমীক ভট্টাচার্য,স্বপন দাশগুপ্ত সহ অন্যান্য নেতারা বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের। ক্যাম্পাসে বহিরাগত অনুপ্রবেশের ইস্যু আবার জোরালো হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতের অন্ধকারে অডিটোরিয়ামের দেওয়াল চুনকাম করার জন্য বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব সমালোচনায় মুখর তখন একটি অসরকারি সংগঠনের ব্যানারে বেদ পাঠ ও বন্দেমাতরম সঙ্গীতের অনুষ্ঠান আয়োজন ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। হরি ভারতী স্মারক সমিতির নামে বৃহস্পতিবার, ৩ রা সেপ্টেম্বর ত্রিগুণা সেন মঞ্চে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। এখানে উপস্থিত থাকতে পারেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংদ শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মধ্যে কিভাবে বাইরে থেকে আসা নেতারা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তাই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব ।এদিকে,উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কর মাঝে উপাচার্য ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় রাখার আবেদন করেছেন।
যাদবপুরে আবার মার্কসের গ্রাফিত্তিতে চুনকাম
মধ্যরাত্রে মুছলো কারা উঠছে প্রশ্ন
- khabar365din
- September 2, 2026
- 7:25 pm
- No Comments




