বিজেপিতেও যাব না, এনডিএ-কে সমর্থন জানাবো না – কাকলি সুদীপদের চাপে ফেলে প্রকাশ্য ঘোষণা আবু তাহেরের

৩৬৫ দিন। আমরা বিজেপিতেও যাব না, এনডিএ-তেও যাব না। এভাবেই আরো একবার স্পষ্টভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন ২০২৪ সালে মুর্শিদাবাদ থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিজয়ী হয়েও এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ৩ সাংসদ। মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের জানিয়ে দিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে আসা সংসদরা ইতিমধ্যেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন জানানোর কথা ঘোষণা করলেও তারা তিনজন সেই পদক্ষেপ সমর্থন করছেন না। শুধু তাই নয় এন সি পি আই এর বাকি সাংসদরা সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের শরিক দল হিসেবে নিজেদের দাবি করে আসলেও আবু তাহের, ইউসুফ পাঠান এবং খলিলুর রহমান বিজেপিকে সমর্থনের প্রশ্নই নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর একাধিকবার চিঠির প্রেক্ষিতে প্রথমে সুপ্রিম কোর্ট এবং তারপরে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়ে তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই তে রাতারাতি যোগ দেওয়া ১৯ সংসদের কাছে নোটিশ পাঠিয়েছেন জবাবদিহি করার জন্য। লোকসভার অধ্যক্ষ ৭ দিন সময় বেঁধে দিলেও ইতিমধ্যেই তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া সাংসদরা উত্তর দেওয়ার জন্য আরও তিন সপ্তাহ সময় প্রয়োজন বলে স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন মুর্শিদাবাদের তিন সংখ্যালঘু সংসদ যদি নিজেদের পুরনো অবস্থান থেকে সরে এসে আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলে ফিরে আসেন তাহলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে এমনিতেই সাংসদ পদ খারিজ হয়ে যাবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের।
অংকের নিরিখে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের লোকসভার সংসদ ছিল 29 জন। হাজী নুরুল ইসলামের মৃত্যুর পরে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় 28। তার মধ্যে থেকে এনসিপিআই তে যোগ দিয়েছিলেন ১৯ জন। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশের একজন বেশি। ‌ কিন্তু এখন তিনজন সেখান থেকে বেরিয়ে এলে এন সি পি আই সাংসদদের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৬।
মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু ভোটে জিতে আসা আবু তাহের নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, আমরা একটা কথা পরিষ্কার বলি, যে আমরা এখন এমন একটা অবস্থান আমাদের বর্তমানে, যে এনসিপিআই যদি কাল এনডিএ-এর সঙ্গে যোগ দিতে চাইছে, বা যোগ দেবে কিছু লোক ভাবছে, আমরা সেই সব দিকে নেই। আমরা বিজেপিতেও যাব না, এনডিএ-তেও যাব না। এর মাঝে তাঁদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল নেতাদের যোগাযোগ হচ্ছে বলে স্বীকার করে নিয়ে আবু তাহের বলেন, বিভিন্ন দিক থেকে আমাদের কাছে অনেক বার্তাই আসছে।
আবু তাহের সহ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ থেকে বিজয়ী তিন সংসদ যেভাবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটে যেতে অস্বীকার করেছেন সেই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে তৃণমূলের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, এটা তাঁদের আদর্শগত প্রশ্ন থাকতে পারে, বা মানুষের কাছে জবাবদিহি করার প্রশ্ন থাকতে পারে। সেই জন্য তারা হয়তো ভাবছে এই কথাটা। আমি মনে করি, সঠিক ভাবছে।

Scroll to Top