রিলস বানানোই হলো কাল, গঙ্গায় ড্রাইভ মেরে স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়ে গেলেন শিবপুরের যুবক

৩৬৫ দিন। সুমন আদক। বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে গঙ্গার ঘাটে রিলস বানানোর নেশাই ডেকে আনল বিপদ। সঙ্গীদের আপত্তি উপেক্ষা করে গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়ার পরই ঘটে বিপত্তি। কিছুক্ষণ সাঁতার কাটার পর প্রবল স্রোতের মধ্যে তলিয়ে গেলেন এক যুবক। বুধবার দুপুরে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাটের ওই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিখোঁজ যুবকের নাম শেখ মহঃ তৌহিদ আক্রম ওরফে কৈয়ফি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে রামকৃষ্ণপুর ঘাটে যান কৈয়ফি। সেখানে রিলস তৈরির জন্য গঙ্গার জলে নামার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। বন্ধুরা একাধিকবার তাঁকে বাধা দেন। এমনকি বিষয়টি বাড়িতে জানিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন। প্রথমে জলে না নেমে ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকলেও পরে একটি ছোট নৌকা দেখতে পেয়ে ফের জলে ঝাঁপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ওই যুবক। বন্ধুদের দাবি, শেষ পর্যন্ত জলে নামার পর বেশ কিছুক্ষণ স্বাভাবিকভাবেই সাঁতার কাটছিলেন কৈয়ফি। বন্ধুদের সঙ্গে হাসিঠাট্টাও করছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ঘাটের চেন ধরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। এরপরই জলে বিপদে পড়ার কথা জানান। বন্ধুরা চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রাও ছুটে আসেন।
কিন্তু তাঁদের চোখের সামনেই গঙ্গার জলে তলিয়ে যান ওই যুবক। নিখোঁজ যুবকের বন্ধু মহঃ গুলফামের দাবি, প্রথম দিকে কৈয়ফি মজা করছেন, নাকি সত্যিই বিপদে পড়েছেন, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি। কারণ জলে নামার পরও তাঁকে বেশ কিছুক্ষণ স্বাভাবিকভাবে সাঁতার কাটতে দেখা গিয়েছিল। স্থানীয় যুবক মুকেশ গুপ্তা জানান, রিলস তৈরির জন্য গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়ার বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাঁর দাবি, হাওড়া-হুগলি এলাকায় লঞ্চ বা নৌকা ধরার মতো ঝুঁকিপূর্ণ রিলস তৈরির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও লঞ্চ ধরার চেষ্টা করতে গিয়ে ওই যুবক জলে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি। পরে ঘাটে ফেরার চেষ্টা করলেও প্রবল স্রোতের কারণে তিনি পাড়ে উঠতে পারেননি। এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। গঙ্গায় বোট নামিয়ে শুরু হয় তল্লাশি। রিভার ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয় থানার পুলিশও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে। তবে বুধবার সন্ধ্যে পর্যন্ত নিখোঁজ যুবকের সন্ধান মেলেনি। ঘটনার পর ফের একবার প্রশ্ন উঠেছে, সামাজিক মাধ্যমে নজর কাড়তে গিয়ে কতটা ঝুঁকি নেওয়া উচিত। স্থানীয়দের সতর্কবার্তা, রিলস তৈরির জন্য কোনওভাবেই প্রাণের ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।

Scroll to Top