৩৬৫ দিন। মাত্র ২৪ ঘন্টা। তাতেই রাতারাতি বদলে গেল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চেনা ছবি। গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির পরে মাত্র ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল ও হোস্টেলের দেওয়াল থেকে রীতিমতো হোয়াইট ওয়াশ করে মুছে দেওয়া হল দেশবিরোধী বলে অভিযুক্ত ও রাজনৈতিক ভাবে বিতর্কিত স্লোগান ও গ্রাফিতি। গত শুক্রবার যাদবপুর ৮বি বাস স্ট্যান্ডে ১০ সহস্র কন্ঠে বন্দেমাতরম গাওয়ার অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে চলছে দেশ বিরোধী কার্যকলাপ এবং এখানে সক্রিয় রয়েছে একাধিক টুকরে টুকরে গ্যাং। প্রশ্ন তুলেছিলেন কিভাবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে দিনের পর দিন ধরে লেখা হয়ে চলেছে একের পর এক দেশবিরোধী স্লোগান ও গ্রাফিতি। তারপরে শনিবার গভীর রাতে এবং আজ সকালে রীতিমতো সাদা রং করে মুছে ফেলা হলো সমস্ত বিতর্কিত স্লোগান। জানা গিয়েছে, এই কাজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গত শুক্রবার যাদবপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, কলকাতায় কেন কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি স্লোগান তোলা হবে? কীসের আজাদি চান? হেরোইন খাওয়ার আজাদি? গাঁজা খাওয়ার আজাদি? ড্রাগ নেওয়ার আজাদি? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ড্রোন ওড়ানো হবে। কোথায় গাঁজা, ড্রাগ, হেরোইন খাওয়া হচ্ছে, সেইসব দেখা হবে। এরা কারা! হিসেবের শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছে গিয়েছে। হয় এরা থাকবে, নয় আমরা থাকব। মাঝে আর কিছু হবে না। কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি! কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি! এই বেয়াদবরা শুনে রাখ, অপারেশন সিঁদুরে মাসুদ আজহারের বংশকে নির্বংশ করেছে আমাদের এয়ারফোর্স। আর আমরা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরও দখল করব। কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি!
যাদবপুরে কেন কিষেণজিকে রেড স্যালুট দেওয়া হয়, সেই প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সেন্টার ফর এক্সিলেন্স যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। গর্বের। সেখানে কলা বিভাগের দেওয়ালে লিখবেন রেড স্যালুট কিষেণজি। কী শেখাচ্ছেন নতুন প্রজন্মকে? এই কিষেণজি কে? যিনি বলেন ভারতকে ভাগ করব। খারাপ লাগে যখন কলকাতার রাস্তায় আজ়াদি স্লোগান ওঠে। কীসের আজ়াদি? কেন যাদবপুরে কিষেণজিকে রেড স্যালুট দেওয়া হয়?
তবে শুধুমাত্র বন্দেমাতরমের অনুষ্ঠান থেকে নয় তারপর একদিন আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে একের পর এক স্লোগান এবং দেওয়াল লিখনের পাশাপাশি গ্রাফিতির ভিডিও পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লিখেছিলেন, কয়েক জন সচেতন ছাত্রের কাছ থেকে উদ্বেগজনক কিছু ভিডিও এবং ছবি পেয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর। কলা বিভাগের ছাত্রদের হস্টেল চত্বরে আপত্তিকর, হিংসাত্মক, সমাজবিরোধী এবং দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিটি রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জ্ঞানচর্চা, শিক্ষার উৎকর্ষ এবং দেশ গঠনের পবিত্র জায়গা। কোনওভাবেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসকে বিকৃত প্রচার বা ভারতবিরোধী মনোভাব ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উচ্চশিক্ষা দফতরের প্রধান সচিব এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আধিকারিকদের অবিলম্বে তদন্ত শুরু করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। প্রথমে কলা বিভাগের ছাত্রদের হস্টেল এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে সেখানে ওই ধরনের আপত্তিকর দেওয়াল লিখন বা ছবি আদৌ রয়েছে কিনা, তা যাচাই করতে হবে। তা পাওয়া গেলে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে পদক্ষেপ করতে হবে। রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে দেশবিরোধী কার্যকলাপের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকার জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসের ক্ষেত্রে এই নীতি আরও কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। সংশ্লিষ্ট দফতর এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। পাশাপাশি নির্দেশ দিয়েছিলেন, তদন্তে দেশবিরোধী বার্তা বা বিকৃত ও আপত্তিকর ছবি থাকার বিষয়টি সত্যি বলে প্রমাণিত হলে অবিলম্বে সেগুলি মুছে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে কারা এর জন্য দায়ী, তা চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক এবং আইনি পদক্ষেপ করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেই যাদবপুর ক্যাম্পাসের দেওয়ালে হোয়াইট ওয়াশ
মোছা হল বিতর্কিত স্লোগান ও গ্রাফিতি
- khabar365din
- August 30, 2026
- 1:20 pm
- No Comments





