অদৃশ্য কাবাল প্রিন্স হাফিজ ও দ্য ডেভিলস

৩৬৫ দিন। এক অদৃশ্য গুপ্ত সংস্থা যাদের সম্পর্কে কোন ইনফরমেশন নেই ইন্টারনেটে। গুগল সার্চে রেস্ট্রিক্টেড নির্দেশ। অথচ বিগত ২৩ বছর ধরে পূর্ব ইউরোপে নিঃশব্দে চলছে এই সংগঠন দ্য ডেভিলস। একাধিক মিউজিয়াম থেকে বহু মূল্যবান তৈলচিত্র মূর্তি প্রাচীন ম্যাপ এমনকি বিরল গ্রন্থ চুরির পেছনে এই সংস্থার নাম বারবার সামনে এসেছে ইন্টারপোল কিংবা অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা দের সামনে। এই বহু মূল্যবান হার চুরির সন্দেহের তালিকায় প্রথম ছিলেন,রাজার খুড়তুতো ভাই সালেন উল আফিক হাফিজ। গুজব, তাকে দেশছাড়া করা হয়। প্রায় এক দশক নিখোঁজ থাকার পর,এই প্রিন্স হাফিজের খোঁজ মেলে বসনিয়ায়। আমেরিকা ও ইউএন পিস টিমের হাতে ধরা পড়ে বিদ্রোহী দল। তাদের কমান্ডারকে জেরা করার সময় উদঘাটিত হয় তথ্য। এই কমান্ডার আসলে উধাও হওয়া প্রিন্স হাফিজ। ইজিপ্টের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বোঝাপড়ায় আমেরিকা হাফিজকে মুক্তি দেয় কিন্তু গোয়েন্দারা নজরে রাখে। আবার গোটা এক দশক ধরে নিখোঁজ থাকার পর এই প্রিন্স হাফিজকে পাওয়া যায় জর্জিয়ায়। সংগঠিত একটি বিপ্লবী দলের সঙ্গে গোপনে বোঝাপড়া চালাচ্ছিলেন তিনি। আমেরিকান গোয়েন্দারা তাকে নজরে রাখে। পরে  প্রাগ শহরে অজ্ঞাত পরিচয় কোন আততায়ীর হাতে তিনি খুন হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। যখন মার্কিন গোয়েন্দারা এক প্রকার ধরেই নেন এই হাফিজ মারা গিয়েছে ।আবার প্রায় সাত বছর পর হাফিজের মত চেহারার একজনের সন্ধান পায় মার্কিন গোয়েন্দারা। ইস্তানবুল থেকে অমূল্য একটি সোনার সুতোয় বোনা কার্পেট চুরি হয়ে যায়। তার তদন্ত করতে গিয়ে ইন্টারপোলের হাতে ধরা পড়ে একজন মহিলা সহ তিনজনের একটি টিম। যাদের মধ্যে দুজন অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীর হাতে ঘটনাস্থলেই মারা পড়ে অন্যরা ধরা পড়ে। তাদের জেরা করে জানা যায়, দ্য ডেভিল নামে একটি গুপ্ত সংস্থার ভাড়াটে সৈন্য তারা। গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী এই দ্য ডেভিল নামক গুপ্ত সংস্থার মাথায় যিনি রয়েছেন তিনি সেই প্রিন্স হাফিজ। ভাড়াটে সৈন্য দিয়ে ছোটখাটো রাষ্ট্রে বিপ্লব ঘটানো থেকে শুরু করে, গোটা বিশ্বজুড়ে দুর্মূল্য শিল্প-সামগ্রী চুরি এবং বহুমূল্যবান প্রাকৃতিক পারফিউম চক্রের মাথা এই ইজিপ্টের প্রিন্স হাফিজ। সম্ভবত তার মৃত্যুর খবর টা ছিল ভুয়ো। গোয়েন্দাদের মত তিনি প্লাস্টিক সার্জারি করে চেহারা আমূল বদলে ফেলেছেন। সম্ভবত লো প্রোফাইল মেনটেইন করে চলেন। মেঘের আড়াল থেকে মেঘদূতের মত তার অদৃশ্য অংগুলি হেলনে বিশ্ব জুড়ে চলছে এক অন্ধকার কর্মকাণ্ড।
অপরাধীদের ধরতে ভিয়েনাজুড়ে প্রশিক্ষিত কুকুর ও বিশেষ দল নিয়ে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সবার সাহায্য চেয়েছে পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল জানিয়েছে, কোনো আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের ভাড়াটে সদস্য হিসেবে ওই দুজন হারটি চুরি করেছে বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার আকস্মিকতায় জাদুঘরের প্রদর্শনীটিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

(সৌজন্য দ্য গার্ডিয়ান, ভিয়েনা ডট এট)  

Scroll to Top