‘মা তারার আশীর্বাদে সরকার হয়েছে’ আগের সরকারের একটাই মন্ত্র ছিল নো নো নো আমাদের সরকারের মন্ত্র হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ, শুভেন্দু

৩৬৫ দিন ঃ মা তারার আশীর্বাদে সরকার হয়েছে। আগের সরকারের একটাই মন্ত্র ছিল নো নো নো আমাদের সরকারের মন্ত্র হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ – বীরভূম সফরে এসে তৃণমূল সরকারের সমালোচনায় সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথমবার বীরভূম সফরে এলেন শুভেন্দু। শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ তারাপীঠ সংলগ্ন তারাপুর মাঠে হেলিকপ্টারে এসে পৌঁছান। এখান থেকে তিনি সরাসরি পৌঁছে যান তারাপীঠ মন্দিরে, অসংখ্য ভক্ত এবং পুণ্যার্থী মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য তারাপীঠ মন্দির চত্বরে ভিড় জমিয়েছিল। মন্দিরে গিয়ে পুজোর ডালা নিজের মাথায় নিয়ে সরাসরি তিনি পৌঁছে যান মা তারার গর্ভগৃহে। সেখানে তিনি ষোড়শ আচার মতে মা তারার পুজো দেন, পাঁচ রকমের ফুলের মালা, লাল বেনারসি, মা তারার মাথার চেলি, দুধ মধু, ফল, বেশ কয়েক রকমের মিষ্টি সহ তিনি পূজো দেন। মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পাশাপাশি আরতি  করেন।
পুজো শেষ করে গাড়িতে করে তিনি সরাসরি পৌঁছে যান রামপুরহাটের রক্তকরবী মঞ্চে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে। দীর্ঘ এক ঘন্টা ম্যারাথন বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দিন কয়েক আগে তারাপীঠে যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নজন সহ নাগরিক কে রাজ্য হারিয়েছে সেই ধরনের অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না হয় তা নিশ্চিত করতে বীরভূম জেলা প্রশাসনকে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কয়েকদিন পরেই তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যা, এই উৎসবকে আরো সুন্দরভাবে করার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বীরভূম জেলা প্রশাসনকে অতিরিক্ত পাঁচ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
কৌশিকী অমাবস্যার দিন তারাপীঠ জুড়ে হেলিকপ্টার থেকে পুষ্প বৃষ্টি করা হবে আগত পুণ্যার্থীদের  উদ্দেশ্যে। তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের দুর্নীতি নিয়ে যে তদন্ত শুরু হয়েছে তা চলতে থাকবে। বীরভূমের জেলাশাসককে বলা হয়েছে তারাপীঠে একটি সরকারি টুরিস্ট লজ গড়ে তোলার জন্য, যাতে মধ্যবিত্ত মানুষরা অত্যন্ত অল্প খরচায় এখানে থেকে নিশ্চিন্তে নিরাপত্তায় তারা মায়ের পুজো দিতে পারে। তারাপীঠের কোথায় সেই টুরিস্ট লজ গড়ে উঠবে সেটা বীরভূমের জেলাশাসক ঠিক করে নেবেন। বীরভূমকে মা তারা, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাউলের বীরভূম হিসেবে গড়ে তোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন পাথর শিল্পাঞ্চল থেকে গত তিন মাসে ২৫৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। বীরভূমের উন্নয়নের জন্য অর্থের কোন অভাব হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার মা তারা আশীর্বাদে তৈরি হয়েছে। জগৎ বিখ্যাত এই বিদ্যাপীঠ  তারাপীঠে পৃথিবীর সমস্ত প্রান্ত থেকে মানুষ আরাধনা করতে আসে আস্থা এবং বিশ্বাস রেখে। তাই মা তারার আস্থা অক্ষুন্য রাখতে এই সরকার যাবতীয় সব রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন বীরচন্দ্রপুরে নিতাই বাড়িতে তিনি আসবেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে কালীঘাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন আস্থার জায়গা দর্শন করেছি। তারাপীঠ দর্শন বাকি ছিল। আজ করে গেলাম।’ দেউচা পাচামি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব হবে। আগের সরকারের একটাই মন্ত্র ছিল, নো, নো, নো। বর্তমান সরকারের একটাই মন্ত্র হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্য়াঁ।’ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বীরভূম সফর শেষ করে কলকতা ফিরে যান মুখ্যমন্ত্রী।

Scroll to Top