ইস্টবেঙ্গল – ৪ মোহনবাগান – ১
৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। ইস্টবেঙ্গলের যেন খরা কাটার বছর যাচ্ছে। ২০০২ সালের পর দেশের শীর্ষ লিগ আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইস্টবেঙ্গল। আর এবার শাপমুক্তি ঘটিয়ে ডুরান্ড শিরোপা ঢুকবে লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাবে। ইন্ডিয়ান সুপার লিগ দিয়েছিলেন অস্কার। ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন করলেন হাবাস। ২২ বছর। সময়টা নেহাত কম নয়। শেষ বার ২০০৪ সালে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ট্রফি ঘরে তুলেছিল ইস্টবেঙ্গল। তার পর কেটে গিয়েছে দুই দশকেরও বেশি সময়। লাল-হলুদ ক্যাবিনেটে আর আসেনি ডুরান্ড ট্রফি। রবিবার সন্ধ্যায় সেই অপেক্ষারই অবসান ঘটল। প্রতিপক্ষ সেই মোহনবাগানই। বদলার মঞ্চে উজ্জ্বল মশাল বাহিনী। ৪-১ গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে হারিয়ে ডুরান্ড জিতল ইস্টবেঙ্গল। ইতিহাস লিখলেন এডমুন্ড লালরিনডিকা। বাইচুং ভুটিয়া, কিয়ান নাসিরির পর ডার্বিতে ভারতীয় হিসাবে হ্যাটট্রিক করলেন লাল-হলুদ তারকা। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে আরেকটা গোল বিপিন সিংয়ের। মোহনবাগানের হয়ে একমাত্র গোল মনবীর সিংয়ের। সবচেয়ে বড় ব্যাপার এই চার এক ব্যবধানটা হয়ে গেল প্রথম ৪৫ মিনিটেই। অর্থাৎ সেকেন্ড হাফে আর গোল হয়নি। তবে ইস্টবেঙ্গল পাঁচ নম্বর গোল পেতেও পারত। কেরালার জেসিন প্রায় বল নিয়ে ঢুকে গিয়েছিলেন। বিশাল সময় মত এগিয়ে এসে বাঁচিয়ে দেন। যোগ্য দল হিসেবেই ম্যাচটা এবং ট্রফিটা জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। এবারের ডুরান্ড শুরু হয়েছিল কলকাতা ডার্বি দিয়ে। সেদিন এক গোলের ব্যবধানে জিতেছিল মোহনবাগান। কিন্তু আজ ফাইনালে পালতোলা নৌকাকে ডুবিয়ে বড় ব্যবধানে ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন হল লাল হলুদ। আবার প্রমাণিত হল লোপেজ হাবাস কত বড় কোচ। তার জার্সির রং পাল্টেছে, বদলায়নি ডার্বিতে তার দাপট। তবে প্রথম দশ মিনিট ছিল মোহনবাগানের। কিন্তু এরপরেই কাউন্টার আক্রমণ থেকে রশিদের পাস থেকে গোল করে যান বিপিন সিং। এই গোলটা হয়ে যাওয়ার পর যেন অক্সিজেন পেয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। দুই মিনিট পর আবার গোল।
বক্সের বাইরে থেকে এডমন্ডের শট এমন জায়গায় ড্রপ খেল বিশাল শরীর ছুড়ে দিয়েও কিছু করতে পারেননি। তিন নম্বর গোলটা যেভাবে পড়ে যেতে যেতে ব্যালেন্স রাখলেন এডমন্ড তাতে বোঝা যায় এই মিজো ফুটবলার কতটা উন্নত মানের। স্বাভাবিকভাবেই টুর্নামেন্টের সেরা প্লেয়ার হয়েছেন এডমন্ড। গোল্ডেন বল পেয়েছেন তিনি। আর বলতে হবে ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়ক রশিদের কথা। এমন একটা ফুটবলার ইস্টবেঙ্গল বহুদিন পর পেয়েছে। যার উপস্থিতি ডিফেন্স এবং আক্রমণের মাঝে একটা অদৃশ্য সেতু তৈরি করে। অদ্ভুত নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা। বাগানের মাঝ মাঠে আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধকে খুঁজেই পাওয়া গেল না। ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে আলো ছড়ালেন প্যালেস্টাইনের রশিদ। যেখানে বল সেখানে তিনি। এরকম বক্স টু বক্স প্লেয়ার বিরল ভারতীয় ফুটবলে। যোগ্য লোকের হাতে ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়কত্ব বলতেই হবে। আজ লেফটব্যাকে প্রচুর পরিশ্রম করেছেন জয় গুপ্ত। তার জন্যই মোহনবাগানের সাইড ব্যাক সেভাবে ওভার ল্যাপ করতে পারেননি। আর ডানদিকে তরুণ ফুটবলার হার্দিক ভাট যথেষ্ট দায়িত্ব নিয়ে খেলেছেন। আনোয়ার এবং সন্দীপ মান্ডি ভরসা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে হাবাস ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সকে দুর্ভেদ্য করে তুলেছেন। এটা এমন একটা ম্যাচ খেলল ইস্টবেঙ্গল যেখানে ব্যক্তিগত মুন্সিয়ানার থেকে টিম গেম হাইলাইট হবে বেশি। মোহনবাগানের খেলার স্টাইল যেভাবে ভিডিও অ্যানালিসিস করে হাবাস অকেজো করে দিলেন তার জন্য কোনও প্রশংসা যথেষ্ট নয়। মোহনবাগান ফুটবলাররা চেষ্টা করেছে। মিগুয়েল, চাঙ্গতে, সাহাল, কিয়ান পর পর আক্রমণ তুলে এনেছেন। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সে ধাক্কা খেয়ে সেগুলো ফিরে গেছে। তবে আজ মোহনবাগানের এই বড় ব্যবধানে হারের দায়িত্ব অবশ্যই নিতে হবে কোচ
পানোসকে। দুরন্ত ছন্দে থাকা সাহালকে কেন তিনি প্রথমে নামালেন না বোঝা গেল না। জেমি ম্যাকলরেন গোটা ম্যাচ বোতলবন্দী হয়ে রইলেন। ব্লকিং বলে সবুজ মেরুন দলের কিছু ছিল না। হু হু করে মাঝখান দিয়ে ঢুকে পড়ছিলেন রশিদ। ততধিক খারাপ বসনেয়ার সামির। তিনি সম্পূর্ণ ফিট নন। ইস্টবেঙ্গল বিষ্ণুকে আজকে পায়নি। কিন্তু তার অভাব বোঝা গেল না। ম্যাচ শেষে উপস্থিত লাল হলুদ সমর্থকদের যেমন ক্লাবের নামে জয়ধ্বনি দিতে শোনা গেল, সেভাবেই নতুন ম্যানেজার হাবাসকে বাসে ওঠার সময় জড়িয়ে ধরার আকুলতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিদগ্ধ চাণক্য কোচ হাত জোর করে বাসে উঠে পড়লেন। বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন ডার্বির বস এখনও তিনি।
২২ বছরের অপেক্ষা কাটিয়ে ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল, এডমন্ডের হ্যাটট্রিকে বিধ্বস্ত মোহনবাগান
- khabar365din
- August 23, 2026
- 4:18 pm
- No Comments





