৩৬৫ দিন। ডুরান্ড কাপ ফাইনালের আগের দিন দলের প্র্যাকটিস বাতিল করে দিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলের কোচ লোপেজ হাবাস। আঁতকে উঠেছিলেন সমর্থকরা। অবাক হয়েছিলেন কর্মকর্তারাও। তারা বুঝতে পারেননি কি করে একটা ডার্বি তাও আবার ফাইনালের আগে এমন সিদ্ধান্ত একজন ম্যানেজার নিতে পারেন। কিন্তু আর পাঁচ জন বিদেশি কোচ বা দেশি কোচের সঙ্গে লোপেজ হাবাসকে তুলনা করা ঠিক নয়। তিনি যে ভারতীয় ফুটবলটা শেষ কয়েক বছরে গুলে খেয়েছেন সেটা আবার প্রমাণ করে দিলেন রবিবার রাতে। যখন এটিকে তে ছিলেন তখন চ্যাম্পিয়ন করেছেন, মোহনবাগানে আসার পর চ্যাম্পিয়ন করেছেন। আই লিগের দল ইন্টার কাশির দায়িত্ব নিয়ে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। আবার ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব নিয়েই ২২ বছর পর ট্রফি এনে দিলেন। অর্থাৎ স্প্যানিশ চাণক্য যেখানেই হাত দেন সেখানেই চ্যাম্পিয়ন করেন। আসলে যেভাবে তিনি প্রতিপক্ষকে মাপতে পারেন এবং গেমপ্ল্যান তৈরি করতে পারেন সেটা ইন্ডিয়ান ফুটবলে দ্বিতীয় কেউ পারে না। তার ফুটবল দর্শন ডিফেন্স টাইট রাখ, কাউন্টার আক্রমণ থেকে গোল তুলে নাও। ডুরান্ড ফাইনালে সেটাই তিনি করেছেন। পরপর তিনটে কাউন্টার অ্যাটাক করেছে ইস্টবেঙ্গল। তিনটে থেকেই গোল এসেছে। অন্যদিকে মোহনবাগানের শক্তিশালী ফরওয়ার্ড লাইনকে বাধ্য করেছেন মাঝখান দিয়ে ঢুকতে। উইং আক্রমণ আটকেই দিয়েছিলেন। আর সম্পূর্ণ আনফিট থাকায় জেমি, মিগুয়েল, চাঙ্গতে শেষ দিকে নেমেও কিছু করতে পারেনি। মোহনবাগানের গ্রিক কোচ ডার্বির পালস ধরতে পারেননি। এই ম্যাচটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং কিভাবে হাবাস দলকে খেলাতে অভ্যস্ত এটা একেবারেই বুঝে উঠতে ব্যর্থ পানোস। প্রথম থেকে দলে রাখেননি মোহনবাগানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং ছন্দে থাকা সাহালকে। সহজ কথায় আজ হাবাসের ট্যাকটিক্স ধরতেই পারেননি বাগানের নতুন কোচ। তার ভাগ্য ভালো, পাঁচ গোলের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়নি। হাবাস যেমন বড় কোচ সেভাবেই একটা দলের ফিজিক্যাল ফিটনেস কিভাবে বাড়াতে হয় সেদিকেও তার বিশাল অভিজ্ঞতা। এই নিয়ে আলাদা একটা কোর্স করা আছে তার। তাই আজ গোটা ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল দলটা ৯০ মিনিট প্রায় সমান গতিতে দৌড়ে গেল। অন্যদিকে বাগান দলটায় প্ল্যান বির পাশাপাশি ফিটনেসের অভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। তাছাড়া দুদিনের মধ্যে পাহাড় থেকে নেমে ক্লান্ত থাকার পর ডার্বি খেলা সেটাও মোহনবাগানের একটা পরাজয়ের কারণ হতে পারে। তাই বলে চার গোল খাওয়াটা অজুহাত দেওয়ার মত নয়।
হাবাসের চাণক্য নীতিতে ইস্টবেঙ্গলের বাজিমাত
ডার্বির পালস ধরতেই পারেননি পানোস
- khabar365din
- August 23, 2026
- 4:25 pm
- No Comments





