৩৬৫ দিন, রোহন রায় চৌধুরী। মানুষ ভুল থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করে। সেটাই করতে চাইছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগের সরকারের সময় মেসি সবর ঘিরে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল এবং যার জন্য কলকাতার নাম কিছুটা হলেও খারাপ হয়েছিল সেটা যাতে ব্রাজিল বনাম ভারত ম্যাচে না হয় তার জন্য আগে থেকে সব রকম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। গত বছর লিওনেল মেসির কলকাতা সফরের সময় ভিড় সামলানো নিয়ে যে বিশৃঙ্খলার ছবি সামনে এসেছিল, তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। তবে কল্যাণ চৌবের মতে, কোনও তারকা ফুটবলারের সফর এবং একটি সরকারি আন্তর্জাতিক ম্যাচের আয়োজন সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। তিনি বলেন, ‘ওটা আসলে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান ছিল, যেখানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে দেখতে মানুষ এসেছিলেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। একাধিক বিভাগ একসঙ্গে কাজ করে। তাই আমরা বিশ্বাস করি, এই ম্যাচ সুন্দর ভাবেই সম্পন্ন হবে।’ চৌবে আরও মনে করেন, সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এমন বড় আয়োজন সম্ভব নয়। তাই সব পক্ষই এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইবে।বর্তমানে ফিফা ক্রমতালিকায় ব্রাজ়িল রয়েছে পঞ্চম স্থানে, আর ভারত রয়েছে ১৩৮ নম্বরে। এমন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ ভারতীয় ফুটবলের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান বলে মনে করছেন ফেডারেশন সভাপতি। তাঁর দাবি, ‘আমরা হয়তো সব ম্যাচ জিততে পারব না, কিন্তু শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেললে নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। উন্নতির জায়গাগুলোও চিহ্নিত করা যায়। ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে ম্যাচ সেই সুযোগ এনে দেবে।’
তিনি মনে করিয়ে দেন, ভারত আগামী ফিফা উইন্ডোয় নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধেও খেলবে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের মুখোমুখি হয়েছে। যত বেশি শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলা যাবে, ভারতীয় ফুটবল ততই উন্নতি করবে বলে তাঁর বিশ্বাস। চৌবে স্বীকার করেছেন, ভারতের বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের কারণে ব্রাজ়িলের মতো দলকে খেলতে রাজি করানো মোটেই সহজ ছিল না। দীর্ঘ আলোচনা এবং বিশেষ উদ্যোগের ফলেই এই ম্যাচ সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যখন আপনার র্যাঙ্কিং খুব ভালো নয়, তখন বড় দলকে খেলতে রাজি করানো কঠিন। আমাদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ এবং অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে ভারতের গুরুত্ব রয়েছে। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত ব্রাজ়িলকে এখানে আনা সম্ভব হয়েছে।’
চৌবে জানান, এর আগে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের সঙ্গে ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ব্রাজ়িলের মতো বিশ্বশক্তিকে কলকাতায় আনা গিয়েছে। ভারতে অতীতে পেলে, দিয়েগো মারাদোনা এবং লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তিরা এসেছেন। বিভিন্ন বিদেশি ক্লাবও প্রদর্শনী ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু ভারতীয় জাতীয় দল নিজেদের মাটিতে বিশ্বের প্রথম পাঁচে থাকা কোনও দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি। সেই কারণেই কল্যাণ চৌবের মতে, ৩ অক্টোবরের ভারত-ব্রাজ়িল ম্যাচ ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য ভারতের মহিলা ফুটবল দল এর আগে ব্রাজিলের মহিলা দলের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচ খেলেছিল। কিন্তু পুরুষ ফুটবলে এটাই ভারত বনাম ব্রাজিল ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ হতে চলেছে। আসলে ফিফার দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ভারত বিশ্বকাপ খেলুক। ১৪০ কোটির দেশ অথচ কুড়ি জন বিশ্বকাপ খেলার মত ফুটবলার নেই এটা সত্যি অপমানজনক এবং অবাক করার মতো ঘটনা। যে ভারত ১৯৫০ সালে বিশ্বকাপ খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছিল এবং ১৯৬২ এশিয়াডে দক্ষিণ কোরিয়ার মত দলকে ফাইনালে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেই ভারতের ফুটবলে পিছিয়ে পড়া সত্যিই অবাক করার মত। তবে কল্যান জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং ক্রীড়ামন্ত্রী সম্পূর্ণভাবে চেষ্টা করবেন এক ইঞ্চি নাম খারাপ যাতে না হয় বাংলা এবং কলকাতার। সেভাবেই সম্পূর্ণ আয়োজন করা হবে। ব্রাজিলের সঙ্গে ফুটবলের কোয়ালিটিতে ভারতের আকাশ পাতাল পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু ভিনি, রাফিনা, রায়ান, মারকুইনোসরা যাতে কলকাতা এবং ভারতকে তাদের স্মৃতিতে চিরকাল রেখে দিতে পারেন এমন ব্যবস্থা করা হবে।
ভারত বনাম ব্রাজিল ম্যাচ কলকাতাকে গর্বিত করার মঞ্চ! নির্ভুল আয়োজন করতে মরিয়া রাজ্য সরকার
- khabar365din
- August 9, 2026
- 3:41 pm
- No Comments





