৩৬৫ দিন। গত চার মাসে পুলিশ হেফাজতে তৃতীয়বার মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের বাখরাহাটে পুলিশ হেফাজতে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মৃতের নাম পালান রায়। তিনি বাখরাহাটের বাকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। গত ৭ ই সেপ্টেম্বর দুপুর বেলা বাখরাহাট ফাঁড়িতে পুলিশের অত্যাচারের জন্য মৃত্যু হয় পালান রায় নামের এক ব্যক্তির। পুলিশ ফাঁড়িতে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন, অঞ্জন দাস এবং গণমঞ্চের সদস্যরা নির্যাতিতর বাড়িতে যান এবং তাঁর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন বলেন, ক্ষ্মচার মাসের মধ্যে পুলিশি হেফাজতে এটি তৃতীয় মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। এই ঘটনার নিন্দার কোন ভাষা নেই। বারুইপুর, হালিশহর এর পর বাখরাহাট। আমরা এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার চাই। পালান রায়ের মৃত্যুর বিচার চাইছে তার পরিবার। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন পালান রায়। আমরা চাই বর্তমান প্রশাসনের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। পুলিশি হেফাজতের মৃত্যু বন্ধ হোক।
৭ই সেপ্টেম্বর এর ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তা তৈরির কাজ সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে পালানের সঙ্গে বিজয় সিংহ নামে এক ব্যক্তির বচসা হয়। গত সোমবার বাড়ির সামনের রাস্তা তৈরির বিষয়ে খোঁজখবর নিতে পালান রায় স্থানীয় এক বিজেপি নেতার কাছে গিয়েছিলেন বলে দাবি প্রতিবেশীদের। সেখানেই বিজয় সিংহের সঙ্গে তাঁর তর্কাতর্কি শুরু হয়। অভিযোগ, দুজনের মধ্যে বচসা হয়। এরপর বিজেপি কর্মী বিজয় সিংহ-এর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পালান রায়কে বাখরাহাট পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পালান রায়কে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাবার পর, তার পরিবারের লোকেরা ফাঁড়িতে যান। কিন্তু পরিবারের লোকেদের সঙ্গে পালান রায়কে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি। সেখ ানে তাঁকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। আরও দাবিপুলিশের হেফাজতে থাকার সময় পালান অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু তাঁকে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এমনকী বুকে ব্যথা হলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পালান রায়ের প্রতিবেশীদের দাবি, তাঁর আগে থেকেই হৃদযন্ত্রের সমস্যা ছিল। প্রায় তিন বছর আগে তাঁর বুকে স্টেন্ট বসানো হয়েছিল। সেই বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। প্রতিবেশীদের একাংশের অভিযোগ, ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর পালান বুকে যন্ত্রণার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও তা করা হয়নি। পুলিশের হেফাজতেই তাঁর উপর অত্যাচার করা হয় বলে অভিযোগ। এর কিছুক্ষণ পরেই পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পালান রায়ের বাড়িতে ফোন করে বলা হয়পালান অসুস্থ তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে পালানের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার পালানের পোস্টমর্টেম হয় এবং বুধবার ভোরে তাঁর সৎকার হয়। যেভাবে পুলিশি হেফাজতে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু
বাখরাহাটে পালান রায়ের পরিবারের অভিযোগ
- khabar365din
- September 9, 2026
- 7:46 pm
- No Comments



