পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে অগ্নিমিত্রার ধমক খাওয়া মহিলাকে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

৩৬৫ দিন।পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে বাচ্চার জন্য দুধ গরম করার অপরাধে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ধমক খাওয়া মহিলার থাকার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ বিজেপির পক্ষ থেকে পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে বসবাসকারী ওই মহিলাকে নিয়ে যাওয়া হয় সল্টলেকে বিজেপি সদর দপ্তরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথবাসী সীতা।
তাদের কাছ থেকে বাসস্থানের সমস্যার কথা জানার পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সীতাদেবী বাচ্চাকে নিয়ে আমার কাছে এখানে এসেছিলেন। আমি তাঁকে বলেছি, আর ফুটপাথে থাকার দরকার নেই, আমরা ব্যবস্থা করে দেব। পুরসভাকে বলেছি। ওরা ব্যবস্থা করবে। উনি মুখ্যমন্ত্রীর উপর ভরসা করেন, রাজ্য সরকারের উপর ভরসা করেন বলে জানিয়েছেন আমাদের। প্রসঙ্গত গতকাল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে ফুটপাতে বসবাসকারী ওই মহিলা এবং তার পরিবারের থাকার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব নিতে রাজি বলে জানিয়েছিলেন। গতকাল অর্থাৎ সোমবার তিনি বলেন, একটা ছোট্ট দুধের শিশুর খাবার তৈরি করছিল, দরিদ্রকে ঘৃণা করবেন না দয়া করে। যে মা রাস্তার উপর বাচ্চার জন্য দুধ ফোটাচ্ছে, সে অসহায়। দুধটা ফেলে দিতে খারাপ লাগল না? মনে রাখবেন মায়ের অভিশাপ, বড় অভিশাপ।আমি এই পরিবারটার দায়িত্ব নিতে তৈরি। ওঁরা রাজি থাকলে, আমি কোনও কর্মীর বাড়িতে ওঁদের থাকার ব্যবস্থা করে দেব। বাচ্চার পড়াশোনার দায়িত্বও নেব।
মমতার সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিগত তৃণমূল সরকার এবং তার আগের সিপিএম সরকারের সমালোচনা করে বলেন, উনি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। আমি জানিয়েছি, ফুটপাত থাকার জায়গা নয়। মুখ্যমন্ত্রী, বিজেপি সরকার সকলের জন্য কাজ করে। বামপন্থী, যাঁরা কবিতা-ছড়া লিখছে তাঁদের বলব, খোঁজ নেননি কেন? ৫০ বছর তো ছিল। সীতাদেবী এখানে এসে বলেছেন ভরসা মুখ্যমন্ত্রীকে করি। অন্যদিকে, এই ঘটনার জেরে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়ে নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা জরুরি এবং দুর্নীতির অভিযোগ তোলা দলগুলির থেকে মানবিকতা শেখার প্রয়োজন নেই।
এ বছরের দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে ক্লাবগুলির সরকারি অনুদান নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর ধোঁয়াশা। আগের সরকারের মতো এ বারও অনুদান মিলবে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত বছরগুলিতে পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক ছাড় দেওয়া হলেও, বর্তমান সরকার যোগ্য এবং কম বাজেটের পুজোগুলির কাছে অনুদান পৌঁছানোর কথা ভাবছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে রাজ্য সরকার। ওই দিনই অনুদান সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Scroll to Top