কলকাতা লিগে ইস্টবেঙ্গল ভবানীপুর ড্র, লাল কার্ড! উত্তেজনা মাঠে

ইস্টবেঙ্গল – ১ (অনন্তু)
ভবানীপুর – ১ (শ্যামল)
৩৬৫ দিন।রোহন রায় চৌধুরী।এবারের কলকাতা লিগে অন্যতম সেরা দল ভবানীপুর সেটা মোহনবাগানের বিরুদ্ধে প্রমাণ করেছিল তারা। দলটা দীর্ঘদিন একসঙ্গে আছে সেই কারণে তাদের মধ্যে বোঝাপড়া খুব ভালো জায়গায়। সেটা প্রতিটা ম্যাচে মাঠে নেমে প্রমাণ করছে রঞ্জন চৌধুরীর দল। সঙ্গে লড়াকু মনোভাব দলটাকে একটা ইউনিটে কনভার্ট করেছে। ভবানীপুর এবার চ্যাম্পিয়ন হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। গত শুক্রবার মোহনবাগানকে হারিয়েছিল ভবানীপুর। ঠিক একটা সপ্তাহ পর তাদের কোচ রঞ্জন চৌধুরীর ছেলেদের সামনে আরেক প্রধান ইস্টবেঙ্গল। ছয় ম্যাচের মধ্যে টানা পাঁচটি জিতে নজর কেড়েছে তারা। গতবারের চ্যাম্পিয়নদের হারাতে পারে কিনা ভবানীপুর, সেই দিকে নজর ছিল সকলের। টানা ছয় ম্যাচ জেতার সুযোগ হারালেও লাল-হলুদকে ৩ পয়েন্ট পেতে দেয়নি তারা। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে টানা চার ম্যাচে জিতে দুরন্ত ছন্দে থাকা ভবানীপুর উজ্জীবিত ফুটবল উপহার দিয়েছে গোটা ম্যাচেই। এমনিতেই তাদের আক্রমণভাগের ফুটবলার সাহিল হরিজন ও জিতেন মুর্মুরা দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন।
এই ম্যাচেও নিজেদের উজাড় করে দিলেন তাঁরা। মনে রাখতে হবে, এবারের লিগে ইস্টবেঙ্গলও যথেষ্ট ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছে। লিগ টেবিলে তারা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এই ম্যাচে জিততে পারলে লিগ শীর্ষে থাকা ভবানীপুরের সমান পয়েন্ট হয়ে যেত তাদের। তবে সেই সুযোগ হারালেন বিনো জর্জের ছেলেরা। প্রথমার্ধে দুই দলই তুল্যমূল্য লড়াই করেছে। ইস্টবেঙ্গলে যেমন নজর কেড়েছে ডান উইং বরাবর বিজয় মুর্মুর দৌড়, তেমনই সাহিল হরিজনদের নিয়ে কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। ‘ক্যাপ্টেন ব্যান্ডে’র মর্যাদা রাখলেন জিতেন মুর্মুও। সুযোগ পেলেও আক্রমণে উঠছিলেন। পাশাপাশি বেশ কিছু সুযোগ হারান লাল-হলুদ ফুটবলাররা। প্রথমার্ধে কোনও পক্ষই কোনও গোল করতে পারেনি। গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের ভোল বদলে দেন শ্যামল বেসরা। ৪৬ মিনিটে ২১ বছর বয়সি এই ফুটবলারের গোলে এগিয়ে যায় ভবানীপুর। ৪৯ মিনিটে ডান দিক থেকে বিজয় মুর্মুর দিশাহীন সেন্টার কোনও সতীর্থরই মাথা পায়নি। ঠিক জায়গায় বল রাখতে পারলে সমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারত। তবে সমতায় ফিরতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ৫২ মিনিটে অনন্তু এনএস বাঁ পায়ের বাঁকানো শটের দুরন্ত গোলে ম্যাচে ফেরে মশাল বাহিনী। ৫৬ মিনিটে বিজয়ের ভাসানো বল মাথা ছোঁয়াতে পারেননি মনতোষ চাকলাদার। ৭১ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত ইস্টবেঙ্গল। প্রায় ৩০ গজ থেকে অনন্তুর নেওয়া শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হলে প্রতিযোগিতার সেরা গোল হতে পারত। ৮০ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হারান লাল-হলুদের সঞ্জীব ঘোষ। ৮৯ মিনিটে তিন কাঠিতে রাখতে পারেননি মোহনবাগানের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে গোল করা রবি হাঁসদা।ম্যাচের পর ভবানীপুর কোচ রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “আমার মনে হয় এবারের কলকাতা লিগে আপাতত সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচ ছিল এটা। তাই এই ধরনের ম্যাচে রেফারিং একটু ভালো হওয়াটা জরুরি।” উল্লেখ্য, টানা পাঁচ ম্যাচ পর ‘জয়রথ’ থেমেছে ভবানীপুরের। যদিও ৭ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে তারা। দ্বিতীয় স্থানে লাল-হলুদ। রঞ্জন চৌধুরী মনে করেন তার ছেলেরা একটু বুদ্ধি করে গোলের সামনে ফিনিশ করতে পারলে আজকেও তারা জিততে পারতেন। তবে ফুটবলে সব সুযোগে গোল হয় না। তাই এই ম্যাচের রেজাল্ট যা হয়েছে ঠিক হয়েছে বলেই মনে করেন তিনি। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের ডাগ আউটে থাকা অর্চিষ্মান বিশ্বাস বারবার মেজাজ হারিয়েছেন শেষ দিকে। রেফারির সঙ্গে তর্ক করেছেন। তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা মেনে নিয়েছেন আজ দুর্দান্ত টক্কর দিয়েছে ভবানীপুর। তাই এই ড্র খুব একটা অখুশি করবে না তাদের।

Scroll to Top