৩৬৫ দিন। প্রায় ৭ মাস আগে কলকাতার সঙ্গে সুন্দরবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ গোসাবার যোগাযোগের জন্য তৈরি হয়েছিল অত্যাধুনিক রো-রো জেটি। উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে অগাস্ট মাস পর্যন্ত প্রায় সাত মাস কেটে গেলেও আজ পর্যন্ত সেই অত্যাধুনিক জেটি দিয়ে যাতায়াতের অধিকার রয়ে গিয়েছে শুধুমাত্র প্রশাসনিক আধিকারিক ও রাজনৈতিক নেতাদের। আর তার ফলে দৈনন্দিন দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হচ্ছে সুন্দরবনের সাধারণ মানুষকে।
আজ বিকেলেও নদীতে ভাটার সময় নাব্যতার অভাবে চরা পড়ে যাওয়ায় কয়েক ঘন্টা নদী পারাপার করতে না পেরে নৌকা চলাচল শুরু হওয়ার পরে পুরোপুরিতে নদী পেরতে গিয়ে নদীতে পড়ে গেল শিশুসহ দুজন। একদিকে যখন ঝাঁ চকচকে অত্যাধুনিক মানের রো-রো জেটি শোভা পাচ্ছে, তার কয়েক হাত দূরেই ভাঙাচোরা কর্দমাক্ত মান্ধাতা আমলের ব্লক বসানো জেটি দিয়ে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে সুন্দরবনের লক্ষ লক্ষ মানুষকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গদখালি-গোসাবা এবং বিরাজমনি-গদখালি খেয়া পারাপারের ক্ষেত্রে এই সমস্যা নতুন নয়। গত তিন-চার বছর ধরে প্রায় প্রত্যেকটি ভরা কোটালে সার ভাটার সময় নদীর নাব্যতা কমে গিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ। বিশেষ করে ভাটার সময় নদীতে বিস্তীর্ণ চর জেগে ওঠায় নৌকা ঘাট পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। কখনও কখনও যাত্রীদের নৌকা থেকে চরে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর এক হাঁটু কাদা ঠেলে নদীর পাড় ধরে গদখালিতে পৌঁছতে হয় বলে অভিযোগ। ওই সময় বাইক ও সাইকেল পারাপারও কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রতিদিনের যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, শ্রমিক, চাকরিজীবী, পড়ুয়া ও চিকিৎসার জন্য যাতায়াতকারীদের চরম সমস্যায় পড়তে হয়।
যাত্রীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ভাটার সময় একটি নৌকা চরে আটকে যায়। নদীতে অনেকটা চর জেগে ওঠায় অন্য নৌকাগুলিও অত্যন্ত ধীর গতিতে চলতে থাকে।
ফলে খেয়াঘাটে যাত্রীদের ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকে।এই ভিড়ের মধ্যেই গোসাবা থেকে চণ্ডীপুর হয়ে গদখালি ঘাটে একটি যাত্রীবোঝাই ভুটভুটি পৌঁছলে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। সেই সময় শিশু-সহ দু’জন নদীতে পড়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। সৌভাগ্যবশত দু’জনের কেউ গুরুতর আহত হননি। নদীতে পড়ে যাওয়া প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিই শিশুটিকে উদ্ধার করে উপরে তুলে আনেন। প্রসঙ্গত, প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এই জলপথের উপর নির্ভরশীল। পড়াশোনা, চিকিৎসা, চাকরি, ব্যবসা, মজদুরি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা কাজে শহরে যেতে কিংবা গোসাবা ব্লকের বিভিন্ন দ্বীপে ফিরতে এই খেয়াই তাঁদের অন্যতম প্রধান ভরসা। অথচ পূর্বতন সরকারের আমলে এই বিপজ্জনক ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় খেয়া পারাপার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে কলকাতা ও হাওড়ার গঙ্গায় চলাচল করা শক্তপোক্ত উন্নত মানের ভেসে চালু করা হলেও আজ পর্যন্ত তাতে সাধারণ যাত্রীরা ওঠার অধিকার পাননি। পাশাপাশি রয়েছে সুন্দরবনের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে গদখালী থেকে গোসাবা এবং বিরাজমনির মধ্যে সেতু তৈরীর ইস্যু। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও বিদ্যাধরী নদীর উপরে সেতু তৈরীর এসেছিল বিজেপির প্রচারের এক নম্বরে। তাই বিধানসভা নির্বাচনে গোসাবা কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী বিকর্ণ নস্কর যেতে বিধায়ক হওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গোসাবার প্রস্তাবিত সেতুর জন্য দরবার করেছেন বলেও জানিয়েছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কবে সেতু তৈরি হবে বা আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
নদীতে ভাটার সময় চরে আটকে গেল নৌকো, হুড়োহুড়িতে নদীতে পড়ল শিশু-সহ ২ জন
- khabar365din
- August 14, 2026
- 4:04 pm
- No Comments





