নির্বাচন কমিশনারকে মোক্ষম চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর

কোন রাজনৈতিক দলের স্বার্থরক্ষা,
কেন ? কেন ? কেন ?

৩৬৫ দিন। চিরাচরিত প্রথা মেনে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণ কেন্দ্র যেখানে সরকারি বা আধা সরকারি বিল্ডিং-এ হওয়ার কথা, রাতারাতি তা পরিবর্তন করে বেসরকারি আবাসনে ভোট গ্রহণ কেন্দ্র তৈরীর সিদ্ধান্ত কেন? কোন রাজনৈতিক দলের বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চাপে? নির্বাচন কমিশন কি তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে? এমন বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে চিঠি দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ‌ এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোন রকম আলোচনা না করেই যেভাবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন রাতারাতি ফতোয়া জারি করে জানিয়েছে চুক্তিভিত্তিক ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের বা বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের কর্মীদের নির্বাচনী কাজে ব্যবহার না করার জন্য, সেই সিদ্ধান্ত কোন বিশেষ রাজনৈতিক দলের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে কিনা সেই প্রশ্ন তুলে দিলেন মমতা। মমতার অভিযোগ, এই পদক্ষেপগুলি কোনও রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য করা হচ্ছে। এই কারণে ভোটের নিরপেক্ষতা নষ্ট হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে তিনি বারবার প্রশ্ন তোলেন, কেন? কেন? কেন?
আজ দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠিয়ে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, দুটি উদ্বেগজনক ও জরুরি বিষয় আমার নজরে এসেছে। যা নিয়ে অবিলম্বে কমিশনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। প্রথমত, জেলা আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তাঁরা যেন চুক্তিভিত্তিক ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের বা বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের কর্মীদের নির্বাচনী কাজে আর ব্যবহার না করেন। দ্বিতীয়ত, সিইও-র দপ্তর এক বছরের জন্য ১০০০ ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও ৫০ জন সফটওয়্যার ডেভেলপার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। \জেলা স্তরে যেখানে কাজের জন্য লোক রয়েছে, সেখানে কেন এত বিপুল সংখ্যক কর্মীকে বহিরাগত সংস্থার মাধ্যমে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ল? চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের দিয়ে কাজ করানো যাবে না বলে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি, বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের কর্মীদের ডেটা এন্ট্রির কাজে যোগ দেওয়াতে নারাজ ছিল কমিশন। তারপরেও কীভাবে রাজ্যের সিইও ১ হাজার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং ৫০ জন সফ্টওয়্যার ডেভেলপার নিয়োগের টেন্ডার পাশ করলেন? এটা কি কোনও রাজনৈতিক দলের স্বার্থপূরণে নেওয়া সিদ্ধান্ত? মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এই ধরনের পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে? কোনও রাজনৈতিক দলের চাপেই কি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে? সিইও-এর অফিস কেন জেলা অফিসগুলির হয়ে এই ভূমিকা পালন করছে? প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে নিয়োগ হওয়া কর্মীদের চাকরির শর্তাবলী বা চুক্তিভিত্তিক বাধ্যবাধকতার দিক থেকে বর্তমানে নিযুক্ত কর্মীদের থেকে কী এমন বিশেষ পার্থক্য থাকছে? এই অনুশীলনটি কি কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষার জন্য করা হচ্ছে?
পাশাপাশি, কলকাতা-সহ রাজ্যে বিভিন্ন পুর এলাকায় বহুতলে বুথ করার যে পরিকল্পনা করেছেন, তারও বিরোধিতা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, আমাদের নজরে এসেছে বিভিন্ন বেসরকারি স্থানে বা রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে পোলিং স্টেশন তৈরির ব্যাপারে বিবেচনা করছে। জেলা আধিকারিকদের এমন জায়গা তৈরি করতে বলা হচ্ছে। এটা কেন হবে? এই ধরণের প্রস্তাব গভীর সমস্যার কারণ হবে। সবসময় সরকারি বা আধা সরকারি সংস্থাতেই বুথ হয়। এখন যদি বেসরকারি বিল্ডিংয়ে বুথ করা হয়, সেক্ষেত্রে নির্বাচনী বিধিভঙ্গ হবে। ভোটদানের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ তুলনায় বাড়তি সুবিধা পাবেন আবাসনের বাসিন্দারা। প্রাইভেট কমপ্লেক্সে ভোটকেন্দ্র তৈরি করলে বৈষম্য তৈরি হবে, একদিকে সচ্ছল বাসিন্দারা, অন্য দিকে সাধারণ মানুষ। বেসরকারি বা ব্যক্তিগত আবাসন এড়িয়ে চলাই উচিত। কেন কেন কেন? এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে নির্বাচনী অস্বচ্ছতা ডেকে আনবে। এই সিদ্ধান্ত কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার কারণে জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করুক৷

 

 

 

 

Scroll to Top