বারবারা না থাকলে বোর্নিও’র ওরাংওটাং থাকত মিউজিয়ামে

৩৬৫ দিন। সব ছবি ও কপি । কথাকলি দত্ত. ১৯৬৪ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবাদী বারবারা হ্যারিসনের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিই বিশ্বের প্রথম অফিশিয়াল ওরাংওটাং পুনর্বাসন কেন্দ্র। ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে বোর্নিও দ্বীপে (বিশেষ করে সাবাহ ও সারাওয়াক অঞ্চলে) ব্যাপকভাবে কাঠ কাটার ব্যবসা শুরু হয়। বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণে ওরাংওটাংরা তাদের বাসস্থান হারাচ্ছিল এবং তাদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছিল। এই পরিস্থিতি দেখে বারবারা হ্যারিসন আশঙ্কা করেন যেত কোনও পদক্ষেপ না নিলে এই প্রজাতিটি বন্য পরিবেশ থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। জঙ্গল কাটার সময় বা শিকারীদের হাতে মা ওরাংওটাংরা মারা পড়ত এবং তাদের ছোট বাচ্চাদের ধরে এনে স্থানীয়ভাবে মানুষের বাড়িতে অবৈধভাবে পোষা প্রাণীহিসেবে খাঁচায় আটকে রাখা হতো। ১৯৫০-এর দশকে বারবারা ও তাঁর স্বামী টম হ্যারিসনের কুচিংয়ের (সারাওয়াক) বাড়িটি এমন অনেক উদ্ধার হওয়া অনাথ ওরাংওটাং শিশুদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিল।
অনাথ শিশুদের নিজের সন্তানের মতো বড় করতে করতে বারবারা একটি বড় সমস্যার মুখোমুখি হন। ওরাংওটাং শিশুরা পূর্ণবয়স্ক হয়ে উঠলে তাদের ঘরের ভেতর আটকে রাখা অসম্ভব ও অমানবিক ছিল, আবার সরাসরি গভীর বনে ছেড়ে দিলে মানুষের কাছে বড় হওয়া এই প্রাণীরা একা একা বেঁচে থাকতে পারত না। এই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে; মানুষের হাত দিয়ে বড় হওয়া একটি ওরাংওটাংকে কি আবার বন্য পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার মতো করে গড়ে তোলা সম্ভব? এই বৈজ্ঞানিক ও মানবিক জিজ্ঞাসার উত্তর খুজতেই তিনি একটি নিয়মতান্ত্রিক পুনর্বাসন ব্যবস্থার কথা ভাবেন। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার এর সহায়তায় সাবাহ অঞ্চল সফর করে ওরাংওটাংদের বিপন্ন অবস্থার ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন বারবারা। তাঁর প্রচারণার ফলেই ১৯৬৩ সালে সাবাহ সরকার আইন করে ওরাংওটাং শিকার বা পোষা প্রাণী হিসেবে রাখা নিষিদ্ধ করে। আইনি কড়াকড়ির পর যখন মানুষের কাছ থেকে প্রচুর ওরাংওটাং বাজেয়াপ্ত করা শুরু হল, তখন তাদের রাখার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট’ বা পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রয়োজন অপরিহার্য হয়ে ওঠে। এই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৪ সালে সেপিলক সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়।
কেন্দ্রটি সরাসরি মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্য সরকারের সাবহা ওয়াইল্ড লাইফ ডিপার্টমেন্ট দ্বারা পরিচালিত এবং তদারকি করা হয়। এছাড়াও ব্রিটেনের ওরাংওটাং অ্যাপিলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও সংরক্ষণ সংস্থা এই কেন্দ্রের চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে কারিগরী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে। ওরাংওটাংদের বন্য পরিবেশের জন্য উপযোগী করে তুলতে কোয়ারেন্টাইন, ইনডোর ও আউটডোর নার্সারি এবং ফরেস্ট ßুñলের মাধ্যমে ধাপে ধাপে তাদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়। এই অভয়ারণ্যটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত কাবিলি-সেপিলক ফরেস্ট রিজার্ভের মধ্যে অবস্থিতযা প্রায় ৪৩ বর্গকিলোমিটার (বা প্রায় ৪,২৯৪ হেক্টর / ১০,৬১০ একর) আয়তনের এক বিশাল আদিম রেইন ফরেস্ট জঙ্গলজুড়ে বিস্তৃত। অভয়ারণ্যের নিয়ম কানুন ব্যাগ ও খাবার নিষিদ্ধn কেন্দ্রের ভেতরে কোনও ধরনের খাবার, পানির বোতল বা ব্যাগ নিয়ে ঢোকা সম্পূর্ণ নিষেধ। মূল গেটের বাইরে লকার রয়েছে, সেখানে জিনিসপত্র জমা রাখতে হয়। ক্যামেরার নিয়মn মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা ফ্রি, তবে প্রফেশনাল ক্যামেরা বা গোপ্রো ব্যবহার করে তথ্যচিত্র বানানোর জন্য জন্য আলাদা অনুমতি লাগতে পারে। স্পর্শ করা নিষেধ n ওরাংওটাং এবং মানুষের ডিএনএ-র মধ্যে প্রায় ৯৬ু মিল রয়েছে, যার ফলে মানুষের রোগব্যাধি সহজেই তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই কাঠের তৈরি হাঁটার রাস্তায় ওরাংওটাং সামনে চলে এলেও তাদের স্পর্শ করা বা কাছে যাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

Scroll to Top