৩৬৫ দিন। গড়বেতা। ছোট আঙারিয়া থেকে শুরু করে নন্দীগ্রাম, যারা গড়বেতা থেকে বন্দুক নিয়ে রক্তাক্ত সূর্যোদয় করতে গিয়েছিল, সেই মামলা আমি রিওপেন করব। নন্দীগ্রামের সূর্যোদয় মামলা আমি রিওপেন করব। এভাবেই আজ পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় দাঁড়িয়ে এভাবেই সিপিএম আমলে পশ্চিমবঙ্গের বুকে ঘটে যাওয়া একই পর এক গণহত্যার মামলায় নতুন করে তদন্ত শুরু করার ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছোট আঙারিয়া কিংবা নন্দীগ্রামের হামলায় জড়িতদের রেয়াত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। গড়বেতার একদা প্রভাবশালী সিপিএম নেতা তপন ঘোষ এবং সুকুর আলির নাম জড়ানো মামলার দিকে ইঙ্গিত করে তপন ঘোষ এখন কোথায়, তা-ও জানতে চান। জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানার উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, পুলিশ সুপার ম্যাডামকে নির্দেশ দিয়ে যাব, ওদের খুঁজে আনতে হবে। আমি জেলে দেখতে চাই।
আজ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা চোর তৃণমূলকে শূন্য করেছেন। গত কয়েকদিন আগে মহম্মদ সেলিম এত সাহস আপনি বলেছিলেন, বিজেপি এসেছিল সিপিএম-কে আক্রমণ করতে। জনগণ নাকি প্রতিরোধ করেছে। আমি আজ বলে গেলাম, ছোট আঙারিয়া থেকে শুরু করে ২০০৭ নন্দীগ্রামে আমাদের গড়বেতায় যে সিপিএম অফিস ছিল সেখান থেকে যাঁরা যাঁরা রক্তাক্ত সূর্যদয় ঘটাতে গিয়েছিল তাদের কেস রিওপেন করব। একটাকেও ছাড়া হবে না।
হামলার ঘটনায় ফের তদন্ত
2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। আজ সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পুরুলিয়া থেকে ফেরার পথে চন্দ্রকোনায় আমি আক্রান্ত হয়েছিলাম। সারারাত থানায় বসেছিলাম। সেদিন অনেকেই আক্রান্ত হয়েছিলেন। আমি সব মনে রেখেছি। টেনে আনেন ২০২৪ সালে মে মাসে ঝাড়গ্রামের বিজেপি প্রার্থী প্রণত টুডুকে মারধরের যে অভিযোগ উঠেছিল সেই প্রসঙ্গও। শনিবার তার এফআইআর কপি চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু জানতে চাইলেন, ওই মামলায় কত জন গ্রেফতার হয়েছিলেন। শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের দিন প্রণত টুডুর মাথা ফাটিয়েছিল মনে আছে। ওই দিনের এফআইআর কপিটা দেবেন আমাকে। ওই ঘটনায় কতগুলো গ্রেফতার হয়েছে দেখব। যারা গ্রেফতার হয়নি, তাদের প্রত্যেককে চুলের মুঠি ধরে জেলে ঢোকাব। কেশপুরেও একই ভাবে অত্যাচার করেছে।
এখন যাহা তৃণমূল তাহাই সিপিএম – দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে যেভাবে ইন্ডিয়া জোটের শরিকদল হিসেবে সিপিএম এবং মমতার তৃণমূল কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে এবং সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে চিঠি চালাচালি ও ফোনে কথাবার্তা হয়েছে তার প্রেক্ষিতে মমতা ও সিপিএমকে এক বন্ধনীতে রেখে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখন যাহা তৃণমূল তাহাই সিপিএম। দুইয়ে মিলে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছে। আপনারা রুখে দেবেন।
সেই সঙ্গে দিল্লিতে মমতার যাওয়া এবং সেখানে সিপিএম এর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইন্ডিয়া জোটের শরিকদল হিসেবে লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠীর লোকেরা যেখানে অত্যাচার করেছে এখন জামা বদল করে লাল জামা পরার চেষ্টা করছে। কারণ আজ দিল্লিতে বেবি আর আন্টি দুজনের ভাব হয়ে গেছে। আন্টি মানে একটাই পিসি। এদের মধ্যে ভাব-ভালবাসা হয়ে গেছে। তাই যখন উন্নয়ন করতে তখন অশান্তি করছে।






