৩৬৫ দিন। বক্সার জঙ্গল ছেড়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে যাওয়া বাঘিনীকে ফের বক্সায় ফিরিয়ে আনতে অসমের জঙ্গলে পৌঁছে গেলেন পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও নিজেই। বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে বিপুল আশা নিয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে আনা হয়েছিল তাকে। কিন্তু জঙ্গলে ছাড়ার পরই বক্সার সীমানা পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে যায় প্রায় তিন বছরের বাঘিনী। তাকে ফিরিয়ে আনতে এ বার অসম সরকার ও অসমের বনদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের বন দফতর। যার নেতৃত্ব দিতে পৌঁছে গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী নিজে। তবে ভিন রাজ্যের অভয়ারণ্যে বাঘিনীকে খুঁজে বের করার এই গোটা প্রক্রিয়ায় দুই রাজ্যের সম্মতির পাশাপাশি প্রয়োজন ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি বা এনটিসিএ-র অনুমতি। আজ অসমের কচুগাঁও ফরেস্ট ডিভিশন অফিসে অসমের বন বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই বিষয়টি জানান পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, অসম প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারপর একবার বনে ঢুঁ মারলেও মারতে পারেন। শনিবার দেখা গেল, এটা কেবল কথার কথা ছিল না। বক্সার জঙ্গল থেকে অসমের জঙ্গলে পালিয়ে যাওয়া ডুয়ার্স রানি-কে ফেরাতে অত্যাধুনিক রেডিওকলার নিয়ে নিজেই ময়দানে নেমে পড়েছেন তিনি। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই আপলোড করেছেন মনোজ। ঘুমপাড়ানি বন্দুক, রেডিওকলার, ড্রোন এবং নাইট ভিশন বাইনোকুলার নিয়ে অভিযানে বেরিয়ে পড়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ২ অক্টোবর বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে তিন বছর বয়সি ওই বাঘিনিকে বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে এনে ছাড়া হয়। বক্সায় বাঘের পরিবারের স্থায়ী বসবাস গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছিল রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বক্সার জঙ্গলে বাঘিনিটিকে ছাড়েন। কিন্তু, এক মাসের মধ্যেই বাংলার জঙ্গল ছেড়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভিন রাজ্যে চলে যায় বাঘিনি। বন দফতর সূত্রের খবর, বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার পর থেকেই তার গতিবিধি বনকর্তাদের চিন্তায় ফেলে। উত্তরবঙ্গের বক্সার জঙ্গলের সীমানা পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে যায় সে। এর পর থেকেই বাঘিনীকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য তৎপরতা শুরু হয়। বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও জানিয়েছেন, বাঘিনীটি বর্তমানে কোথায় রয়েছে, তার গতিবিধি এবং শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অসম সরকারকে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠিয়েছে রাজ্যের বন দফতর। সেই চিঠি পাঠানো হয়েছে এনটিসিএ-র কাছেও। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও নির্দেশ পাওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
বনদপ্তরের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দু’-এক দিনের মধ্যে ঘুমপাড়ানি গুলি ছুঁড়ে বাঘিনীটিকে অচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তার পর নিরাপদে উদ্ধার করে নির্দিষ্ট এনক্লোজারে রাখা হবে। সেখানে পর্যবেক্ষণের পর ফের বক্সার জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বন দফতরের।






