ইন্ডিয়া জোট ইমপিচ করল জ্ঞানেশকে

৩৬৫ দিন। পদত্যাগ তো করতেই হবে তবে তাতেই সাত খুন মাফ হবে না, জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতার মামলা করে তদন্ত করতে হবে। শনিবার ‘মক পার্লামেন্ট’ বা ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি থেকে নতুন দাবি তুলল ইন্ডিয়া জোট। কেন জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতার মামলা প্রয়োজন তাও ব্যাখ্যা করেন রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে। তাঁর মতে, জ্ঞানেশ কুমার যদি ধরেও নেওয়া যায় এস আই আর উদ্ভাবন করেন নি, সেটা মোদি-শাহদের মাথা থেকে বেরিয়েছে তারপরেও তাকে তো ছাড় দেওয়া যায় না। তিনি এই চক্রান্তের কোনো প্রতিবাদ‌ করেননি বরং ওপরওয়ালার নির্দেশ মত, সচতুর ভাবে এস আই আর কার্যকর করেছেন ও কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দিয়েছেন সুতরাং তিনিও সমান দায়ী। ভোট চুরিতে তাঁর ভুমিকা রয়েছে তাই শুধু ইমপিচমেন্ট নয় দেশের সঙ্গে গদ্দারি করেছেন এর শাস্তি তাকে পেতেই হবে। বস্তুত, পার্লামেন্টের বাইরে সংসদের আদলে একটি সভা করা ও তাতে এত সংখ্যক বিরোধী সাংসদদের উপস্থিতি স্মরণাতীত কালে এ দেশে হয়েছে কি না সন্দেহ। আইনি গেরোয় আগেই মক পার্লামেন্টের বদলে কর্মসূচির নাম রাখা হয় ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’,স্পীকারের দায়িত্ব দেওয়া হয় লোকসভার প্রাক্তন স্পীকার মীরা কুমারকে। ছিল না সরকার পক্ষ। শনিবার ১০ রাজাজি মার্গে খাড়্গের সরকারি বাসভবনের লনে বসে সভা। সূচনা করেন খাড়্গে নিজেই। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ব্যক্তিগত কোনও আক্রোশ নেই। তবে সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা ও নির্বাচন কমিশনের মতো নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি বজায় রাখতেই এই অভিশংসন প্রস্তাব আনা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে ১৪৫ জন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করে সরকার যে আইন পাস করেছিল, তাতেই নির্বাচন কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে— যা দেশের রাষ্ট্রপতি বা প্রধান বিচারপতির সুরক্ষার চেয়েও বেশি। এর পাশাপাশি, এসআইআর প্রক্রিয়ার আড়ালে বিজেপি-বিরোধী ভোটারদের নাম ছেঁটে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও দাবি করেন।
জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ৬ অভিযোগ
‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’ বা ‘মক পার্লামেন্ট’থেকে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ৬ দফা অভিযোগ আনা হয়। বিরোধীদের মতে যে অভিযোগ গুলো ইতি মধ্যে প্রমাণিত ও যেগুলোর জন্য জ্ঞানেশকে ইমপিচ করতে হবে।
১ ১৩.২ কোটি ভোটার বাদ
বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র অভিযোগ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে ১৩ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
২ ইসিআইনেট-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা বাজেয়াপ্ত বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ইসিআইনেট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভোটার তালিকা নিয়ন্ত্রণ করেছে। আর সেটা সবটাই হয়েছে জ্ঞানেশের অঙ্গুলিহেলনে।
৩ভোট চুরির চক্রান্ত
জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপিতে সাহায্য করার অভিযোগ তুলেছে বিরোধী শিবির।
৪ সংসদকে অন্ধকারে রেখে ফর্ম ৬
এসআইআর আবহে বর্তমান ফর্ম ৬-এ থাকা ঘোষণাপত্র ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। যেখানে আবেদনকারীদের উল্লেখ করতে হয় যে তিনি প্রথমবার ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, সংসদীয় অনুমোদন ছাড়াই ফর্ম ৬ বদলে ফেলেছেন জ্ঞানেশ।
৫ দুই কমিশনার কিছুই জানতেন না
কোনও কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জ্ঞানেশ দেশের অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশীকে ‘অন্ধকারে’ রেখেছিলেন। এমনকি তাদের নানা বিষয়ে আপত্তি থাকলেও তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

৬ মোদী-শাহের নির্দেশে কাজ
প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই কাজ করেছেন জ্ঞানেশ। বিরোধীদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন স্বশাসিত সংস্থা। তাকে নিরপেক্ষ থাকতে হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার যে ভাবে মোদী-শাহের নির্দেশ মেনে কাজ করেছেন তা বেআইনি।
বিরোধী সাংসদরা যা বললেন
খাড়্গের বাসভবনে শনিবারের কর্মসূচিতে সনিয়া, রাহুল, প্রিয়াঙ্কারা তো ছিলেন-ই ইন্ডিয়ার সব বিরোধী দলের নেতৃত্ব যোগ দেন। সাংসদ সংখ্যা অনুযায়ী তারা বক্তব্য রাখার সুযোগ পান যেমন সংসদে সুযোগ মেলে। আবার অতিরিক্ত সময় নেওয়ায় স্পীকার মীরা কুমারের ধমকের মুখেও পড়তে হয়। মক পার্লামেন্ট থেকে রাহুল বলেন, এই প্রতীকী কর্মসূচির কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে একটি চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, “এ শুধু একটা প্রতিবাদ নয়, এটা একটা সতর্কবার্তা।” অনুষ্ঠানে সিইসি-র বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন অন্যান্য বিরোধী নেতারাও। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র এসআইআর প্রক্রিয়াকে একটি “অপরাধমূলক অপারেশন” বলে কটাক্ষ করেন। অভিযোগ তোলেন যে, পশ্চিমবঙ্গে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘নীরব এবং অদৃশ্য কারচুপি’র ছক কষা হয়েছে। পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি সিইসি-কে ‘হুকুমের গোলাম’ আখ্যা দিয়ে আসল ষড়যন্ত্রকারীদের সরানোর দাবি জানান। অন্যদিকে, আইসার নেহা বোরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সিইসি-কে শুধু অভিশংসন করাই যথেষ্ট নয়, তাঁকে গারদে পাঠানো উচিত।

Scroll to Top