এসআরএফটিআই এর পড়ুয়ারা কাঁধে তুলে নিল দলহীন নীল পতাকা

৩৬৫ দিন। অনন্ত রায়। টানা ৩৪ দিন ধরে নীল পতাকা নিয়ে অবস্থান আন্দোলনে সামিল হয়েছেন এস আর এফ টি আইয়ের ছাত্র -ছাত্রীরা। ২৭ সেপ্টেম্বর ও ৪ অক্টোবর ,দু-দুবার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে বহিরাগতদের তাণ্ডব ও দাদাগিরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার নির্দেশে বারবার হেনস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে,এই অভিযোগ করে এবার তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রকের হস্তক্ষেপ দাবি করলেন,আন্দোলনকারীরা। নীল পতাকাকে হাতিয়ার করে তাঁরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যেতে চান।সংবিধান প্রণেতা বি আর আম্বেদকরের নীল পতাকা সত্যের জয় আনবে বলে মনে করছেন ছাত্র -ছাত্রীরা। সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কেন নীল পতাকাকে হাতিয়ার করছেন.এস আর এফ টি আইয়ের ছাত্র -ছাত্রীরা ?
সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ উঠেছে, এই আক্রমণের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতের চলচ্চিত্র নির্মাতারা নীল পতাকাকে বিশেষ মর্যাদা দিচ্ছেন। কেন নীল পতাকাকে হাতিয়ার করা হচ্ছে?এব্যাপারে আন্দোলনকারীদের তরফে সুদীপ চক্রবর্তী জানান, ‘আমরা বি আর আম্বেদকরের নীল পতাকাকে বেছে নিয়েছি ন্যায় বিচার আদায়ের জন্য। যেভাবে এখানে দলিত- আদিবাসী ছাত্রদেরউদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে, তার জন্য বাবা সাহেবের নীল পতাকা যথেষ্ট তাৎপর্যবাহী।সামাজিক ন্যায় ও সাম্যের পূজারী বাবা সাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের আদর্শকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা মুখে জয় ভিম জি স্লোগান আর হাতে নীল পতাকা নিয়ে লাগাতার হরতাল আন্দোলন জারি রেখেছি, যতদিন না উপাচার্য পদত্যাগ করছেন, যতদিন না ভয় দূর হয়ে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’ছাত্রদের আরও অভিযোগ,বহিষ্কৃত ৬ ছাত্রের মধ্যে বেশির ভাগই তফশিলি জাতি ভূক্ত, পুরোটাই প্রভাবশালীদের অঙ্গুলি হেলনে হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
সামাজিক ন্যায় বিচার রক্ষায় ভীমরাও আম্বেদকরের নীল পতাকার গভীর তাৎপর্য রয়েছে — ইতিহাস বলছে,১৯৪২ সালে ডঃ বি আর আম্বেদকর যখন শিডিউল কাস্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া গঠন করেন, তখন তিনি এই নীল পতাকাকে সামাজিক ন্যায় বিচারের লড়াইয়ের জন্য ব্যবহার করেন। নীল পতাকার মাঝে থাকে সাদা রংয়ের অশোকচক্র। আম্বেদকর পন্থীরা মনে করেন,
নীল রংকে আকাশের বিশালতার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আকাশের নিচে যেমন সমস্ত মানুষ সমান, তেমনই এই পতাকার নিচে এক সমানাধিকারের বার্তা দেওয়া হয়েছে,যা প্রগতি ও বৌদ্ধ দর্শনে সাম্যের প্রতীক‌ বলেও ধরা হয়। এস আর এফ টি আইয়ের পড়ুয়ারা এই ভারতীয় দর্শন ও সমাজবাদী ভাবধারার প্রসারের জন্য নীল পতাকাকে বেছে নিয়েছেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা। বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদ করায় সোশ্যাল মিডিয়াতেও আক্রমণ
অশালীন মন্তব্যের বিরূদ্ধে সাইবার সেলে অভিযোগ দায়ের ছাত্রীদের 
চলচ্চিত্র শিক্ষার পীঠস্থানে ২৭ সেপ্টেম্বর অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের সদস্যদের হামলার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ অবস্থান আন্দোলন এখনও চলছে। অভিযোগ , অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বিল্ডিংয়ের সামনে অবস্থানে বসলে বাধা দেওয়া হচ্ছে, স্টাফদের দিয়ে হেনস্থা করার গুরুতর অভিযোগ উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার বিরুদ্ধে। কোনোও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আলোচনায় না বসে ক্ষমতার স্পর্ধা দেখাতে তিনি ব্যস্ত বলে শনিবার পড়ুয়ারা অভিযোগ করেন। এই বক্তব্যকে সমর্থন করেন প্রাক্তনীরাও। এস আর এফ টি আইয়ের ছাত্রী অনামিকা পালের গুরুতর অভিযোগ, ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে অশালীন মন্তব্য যেমন অতীতে করা হয়েছে, তেমনই আবার ইনস্টাগ্রাম সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মে নানা অসম্মানসূচক মন্তব্য করা‌ হচ্ছে। আমরা এই বিষয়ে সাইবার ক্রাইম বিভাগে ই -মেলে অভিযোগ করেছি, কোনোও সুবিচার পাই নি। কলকাতার এই ফিল্ম স্কুলের ছাত্র -ছাত্রীরা দলিত -আদিবাসী পড়ুয়াদের হেনস্থার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ অবস্থান আন্দোলন জারি রাখতে চান নীল পতাকা নিয়ে।

Scroll to Top