সরকারি উদ্যোগে রাজ্যে যাদুবিদ্যার স্কুল

চেয়ারম্যানের পদে পি সি সরকার 

৩৬৫ দিন। হগওয়ার্টস স্কুল অফ উইচক্র্যাফ্ট অ্যান্ড উইজার্ডি। জে কে রাউলিংয়ের অমর সৃষ্টি হ্যারি পটারের সিরিজে বারে বারে দেখা গিয়েছে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ছোটবেলা থেকেই জাদুবিদ্যা শেখার জন্য ভর্তি হতো এই জাদু স্কুল বা ম্যাজিক স্কুলে। এবারে বাংলাতেও রীতিমতো সরকারি উদ্যোগে তৈরি হতে চলেছে যাদুবিদ্যার স্কুল। বিখ্যাত ম্যাজিশিয়ান পিসি সরকারের তত্ত্বাবধানে রাজ্যে গড়ে উঠবে এই ম্যাজিক স্কুল। মূলত অতীতে যেখানে জাদুশিল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ ছিল, পাড়ায় পাড়ায় ম্যাজিক শো হত, বর্তমানে তা হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। বর্তমান প্রজন্ম মোবাইলে আটকে। তাই হারিয়ে যেতে বসা শিল্পকে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে এবং এটাকে কর্মসংস্থান তৈরি করতেই এই ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের তত্ত্বাবধানে তৈরি হতে চলেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল স্কুল অফ ম্যাজিক ইলুশন এন্ড পারফর্মিং আর্টস। ইতিমধ্যেই তথ্যসংস্কৃতি দপ্তরের সুপারিশে এই ম্যাজিক স্কুল তৈরির জন্য একটি উপদেষ্টা কমিটি তৈরি হয়েছে। আজ নন্দনে সেই উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। রাজ্যের প্রথম ম্যাজিক স্কুল তৈরির জন্য যে উপদেষ্টা কমিটি তৈরি হয়েছে তার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন বিখ্যাত ম্যাজিশিয়ান পিসি সরকার জুনিয়র, বাংলা তথা ভারতবর্ষের বেশ কয়েকজন বিখ্যাত জাদুকর। আজকের বৈঠকে ম্যাজিশিয়ান পিসি সরকার জুনিয়র এর পাশাপাশি অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের প্রতি মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, রাজ্য তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সৌমিত্র মোহন। এছাড়াও পিসি সরকার জুনিয়র-এর স্ত্রী জয়শ্রী এবং মেয়ে মানেকাও আজকের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
আজকের বৈঠকে হওয়া আলোচনার বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে,শুধু জাদুচর্চার স্কুল নয় সেইসঙ্গে বাংলার জাদুচর্চার ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে একটি সংগ্রহশালাও স্থাপন করা হবে। জাদু শেখানো, গবেষণা ও প্রদর্শনী এক ছাদের তলায় হবে এই প্রতিষ্ঠানে। প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে থাকবে জাদুশিল্পের অ্যাকাডেমি, প্রদর্শনীর জন্য থিয়েটার হল, সংগ্রহশালা, আর্কাইভ এবং গবেষণাগার। তৈরি করা হবে জাদুর সরঞ্জাম ও পোশাক তৈরির কর্মশালাও। শিল্পীদের থাকার ব্যবস্থাও থাকবে। তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে জমি চিহ্নিত করা, ক্যাম্পাসের নকশা তৈরি, প্রশিক্ষণের পাঠ্যক্রম নির্ধারণ এবং শিক্ষক নিয়োগের কাজ হবে। প্রকল্পের খরচ মেটাতে রাজ্য সরকারের বরাদ্দের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রকল্প, বিভিন্ন সংস্থার অনুদান, স্পনসরশিপ এবং অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রির আয়ের উপরেও নির্ভর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Scroll to Top