৩৬৫ দিন। এয়ার এশিয়ার ঝকঝকে প্ল্যানটা যখন কুয়ালালামপুর থেকে সেপিলকের রানওয়েতে এসে দাঁড়ায়, মনে হয় এক টুকরো অরণ্য সঙ্গে নিয়ে এসেছে। বিমানের সারা শরীরজুড়ে ওরাংওটাংদের দাপাদাপি, বোর্নিয়-র বর্ষাবনের সান বিয়ারের উঁকি, কোথাও রাইনোসরাস হর্নবিল ঠোঁট দিয়ে সোহাগ গুঁজে দিচ্ছে সঙ্গিনীর পালকে। মালয়েশিয়ার বোর্নিও অরণ্য অংশ গোটা ইউরোপ এবং এশিয়ার বিশেষ করে চিন ও জাপানের পয়সাওয়ালা পর্যটকদের কাছে এক বাড়তি আকর্ষণ। আমাজনের বর্ষাবনে মূলত মার্কিনীরা যান। ইউরোপিয়ানদের কাছে বোর্নিও বেশি আকর্ষণীয়। তাই এই পর্যটনকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে প্রশাসন।
সম্প্রতি কেনিয়ান এয়ারলাইন্স, তাদের ডানায় চিতা, সিংহ এবং সেরেঙ্গেটি অরণ্যের গ্রাফিতি আঁকা শুরু করেছে। সেপিলক এক আশ্চর্য শহর। প্লেনের জানলা দিয়ে দেখলে সবুজ অরণ্যে মোড়া একটা ছোট্ট শহর। যদিও সে শহরের চাকচিক্য কোন অংশে কম নয়। ফোর লেনের ঝা চকচকে রাস্তা, মাঝে মাঝে ছোট ছোট জনবসতি, দোকানপাট, রেস্তোরাঁ, ক্যাব, গ্যাব, মেডিকেল ক্লিনিক, উন্নত শহরের সম্পূর্ণ ছোঁয়া। যদিও বোর্নিও-র অরণ্যের আমেজ নিতে গেলে মূল শহর থেকে অনেকটাই দূরে ট্রাভেল করতে হয়। ঘন্টাখানেক গাড়িতে মসৃণ রাস্তা, দু’পাশে চেপে আসা ঘন অরণ্যের বুক চিরে বর্ষা বনের প্রায় হৃদয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া যায় অরণ্য রিসর্টে।
এ এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা। প্রশাসন থেকে দেদার অনুমতি নয়, বরং বাছাই করা কয়েকটি মাত্র বিলাসবহুল রিসর্টকেই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এক একটির জন্য নির্দিষ্ট প্রায় কয়েক একর জমি। এই রিসর্টগুলোর মধ্যে দেশি পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় সেপিলক রেইন ফরেস্ট রিসর্ট। রিসোর্টগুলো আশ্চর্য এই কারণেই, পাঁচ কিংবা সাততারা মানের এই রিসর্টগুলো মাটি থেকে প্রায় তিন তলা বাড়ির সমান উঁচুতে তৈরি। সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ভাবনায় তৈরি। রেইন ফরেস্টের নব্বই শতাংশ প্রাণীকুল থাকে মাটির কাছাকাছি। যেখানে আলো পৌঁছয় না। ফলে, তাদের কোনরকম অসুবিধা না করে রিসোর্ট এর প্রতিটি কটেজ থেকে রিসেপশন কিংবা অন্য কটেজে যাওয়ার রাস্তা, সবটাই শূন্যে ঝুলছে। মজবুত কাঠের ক্যনোপি পথেই হাঁটাচলা। কাঁচ দিয়ে মোড়া, সেই কাঠের বন বাংলোগুলো, যেন ব্যাবিলনের সেই আশ্চর্য ঝুলন্ত উদ্যান।






