বর্ধমানের মিহিদানা,সীতাভোগ থেকে দার্জিলিং এর চা
৩৬৫ দিন। বাংলার সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী খাবার ও রন্ধন শৈলী দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে এগিয়ে এল রাজ্যের পর্যটন দফতর। শুক্রবার থেকে দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্ক এলাকায় শুরু হল বঙ্গ খাদ্য উৎসব ‘ ২০২৬। দিল্লিতে যেসব বাঙালি খাদ্য রসিক রয়েছেন বা যাঁরা
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তৈরি হওয়া খাবার বড় একটা হাতের কাছে পান না, তাঁদের জন্য এই বঙ্গ খাদ্য উৎসব, আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। দিল্লিতে বসবাসকারী মানুষের ভিড়ে জমে উঠেছে উৎসব।
জাতীয় স্তরে বাংলার খাদ্য সম্ভার, রন্ধন শৈলীকে স্পটলাইটে আনার অনন্য প্রয়াস –রাজ্যের নানা প্রান্তে তৈরি হয় নানা রকমের খাবার-মিষ্টি যার স্বাদ, খাদ্য গুণ অনবদ্য। বৈচিত্র্যময় খাবারের সম্ভার নিয়ে দিল্লিতে জমজমাট খাদ্য উৎসব শুক্রবার থেকে শুরু হল,যার লক্ষ্য জাতীয় স্তরে এই রাজ্যের খাদ্যশৈলী, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরা। বাণিজ্যিক প্রসারের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে এক জায়গায় নানান ধরনের সুস্বাদু খাবার ও মিষ্টি রাখা হয়েছে।প্রথম দিন থেকেই বাড়ছে ভিড়। বর্ধমানের মিহিদানা, সীতাভোগ, শক্তিগড়ের ল্যাংচা, নবদ্বীপের লাল দই , কৃষ্ণনগরের সরপুরিয়া, জনাইয়ের মনোহরা সহ নানা আইটেম এই জাতীয় স্তরের উৎসবে আলাদা আকর্ষণ বয়ে আনছে। বঙ্গ খাদ্য উৎসবের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য- নয়াদিল্লিতে বঙ্গ খাদ্য উৎসবের লক্ষ্য হলো ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারকে প্রচার করা, আঞ্চলিক বিশেষ খাদ্যগুলিকে তুলে ধরা এবং বাংলার দেশীয় খাদ্য ঐতিহ্যকে বৃহত্তর দর্শকের সামনে উপস্থাপন করার জন্য একটি মঞ্চ প্রদান করা। এই উদ্যোগের লক্ষ্য রাজধানীতে বাংলার রন্ধন ঐতিহ্যের দৃশ্যমানতা বাড়ানো এবং রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিচয় সম্পর্কে বৃহত্তর সচেতনতা তৈরি করা।
বঙ্গ খাদ্য উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ও বৈশিষ্ট্য—
উৎসবে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সুস্বাদের এক বিশাল সম্ভার প্রদর্শিত হচ্ছে,বিশেষ করে রাজ্যের বিখ্যাত মিষ্টি তৈরির ঐতিহ্য এবং অঞ্চল-ভিত্তিক বিশেষ খাবারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।চন্দননগরের জলভরা; দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের মোয়া; উত্তর ২৪ পরগনার মাখা সন্দেশ; বাঁকুড়ার মেচা সন্দেশ; মুর্শিদাবাদের ছানাবড়া; দার্জিলিং চা; এবং কালিম্পং কফি। এই উৎসব বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্য এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মিষ্টির বৈচিত্র্য প্রদর্শনের একটি অনন্য মেলবন্ধন।খাঁটি ঐতিহ্যবাহী বাঙালি মিষ্টি তৈরিতে বিশেষজ্ঞ কারিগরদের অংশগ্রহণ বাংলার ঐতিহ্যের প্রচার ও বৃহত্তর প্রশংসা আদায় করবে বলে আশা।
জিআই-ট্যাগযুক্ত খাদ্যপণ্যগুলি উদ্বোধনের দিনে প্রদর্শনীতে নজর কাড়ছে —
এমএসএমই ও টেক্সটাইল বিভাগের অধীনস্থ সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ,
খাদ্য-সম্পর্কিত আকর্ষণের পাশাপাশি, উৎসবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বস্ত্র বিভাগের অধীনস্থ ৪টি সংস্থা, যেমন তন্তুজা, মঞ্জুষার মতো রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা অংশগ্রহণ করেছে।এই সংস্থাগুলি বাংলার তাঁত ও হস্তশিল্পজাত পণ্যের প্রদর্শন ও বিক্রয়ের সুবিধা প্রদান করছে, যার মাধ্যমে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প, দেশীয় পণ্য এবং কারিগরি দক্ষতা প্রদর্শনের একটি মঞ্চ তৈরি করেছে।
দিল্লির ঐতিহ্যবাহী স্থানের তাৎপর্য—
উৎসবটি নয়াদিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কে (সি.আর. পার্ক) অবস্থিত সি.আর. পার্ক বঙ্গীয় সমাজে আয়োজিত হচ্ছে, যা জাতীয় রাজধানীতে বাঙালি সম্প্রদায়ের একটি বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।এই উদ্যোগটি বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের প্রচার, এর স্বতন্ত্র রন্ধনশৈলীর সঙ্গে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করবে এবং নয়াদিল্লিতে রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক প্রসারকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।






