বঙ্গোপসাগরে ফুঁসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’
কতটা প্রভাব পড়বে রাজ্যে

৩৬৫ দিন। বঙ্গোপসাগরে ফুঁসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, বাংলার উপকূল থেকে সোমবার বিকেলে অর্ণবের অবস্থান প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে হলেও আবহাওয়াবিদরা বলছেন যত সময় গড়াবে অর্ণবের ঝাপটা লাগবে বাংলায়। তাতেই তটস্থ রাজ্যের উপকূলবর্তী দুই জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা। অর্ণব যাতে বিপর্যয় ঘনাতে না পারে তার জন্য সোমবার থেকে দুই উপকূলবর্তী এলাকাতেই মাইকিং শুরু করল জেলা প্রশাসন। সোমবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সুন্দরবন, নামখানা, কাকদ্বীপ, বকখালিতে মাইকে প্রচার চালানো হয়।
বিশেষ করে মৎস্যজীবীদের সতর্ক করে জানানো হয়, নতুন করে আর যেন তারা সমুদ্রে মাছ ধরতে না যান। এছাড়া নীচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আবহাওয়া দফতর থেকে যা পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছে তাতে মঙ্গলবার বিকেলের পর উপকূলবর্তী এলাকায় বৃষ্টি ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়ে যাবে তাই সতর্কতামূলক প্রচার চলছে। এখন-ই লো ল্যান্ড এলাকার বাসিন্দাদের সরানো না হলেও তাদের তৈরী থাকতে বলা হয়েছে পাশাপাশি ফ্লাড রিলিফ সেন্টার গুলোকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বাঁধ গুলোর ওপর বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, ঘূর্ণিঝড়ের পরো অক্ষ প্রভাবের সঙ্গে বুধবার যদি কোটালের প্রভাব পড়ে তাহলে বিস্তীর্ণ অংশে জল ঢুকতে পারে। তাই ত্রিপল, ওষুধ সহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য মজুত রাখা হচ্ছে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার পাশাপাশি রাজ্যের আরেক সীমান্তবর্তী জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকাতেও প্রচার চলছে। দীঘা, মন্দারমণি, তাজপুর, উদয়পুর, রামনগরে বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে। সোমবার দীঘা, মন্দারমণিতে দীর্ঘক্ষণ মাইকিং করা হয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এখনো পর্যন্ত যা ঠিক আছে তাতে বকখালি, মৌসুনি দ্বীপ, দীঘা, মন্দারমণিতে উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। এই দুই জেলার পাশাপাশি আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও হাওড়া ও হুগলির একাংশেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ধান চাষে ক্ষতির আশঙ্কা
ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব না পড়লেও অর্ণবের জেরে যে বৃষ্টি হবে তা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার করে দিয়েছে আবহাওয়া দফতর আর এই পূর্বাভাসে মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের। কারণ ক্ষেতের ধান এখনো তোলা হয়নি। পাকা ধান তুলতে এখনো বেশ কিছু সময় বাকি। তার মধ্যে উপস্থিত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। হুগলি, পূর্ব বর্ধমানের মত জেলায় বছরের এই সময় কোনও ক্ষেত-ই প্রায় ফাঁকা নেই। কৃষকদের আশঙ্কা পাকা ধানে মই দিতে যদি ঝেঁপে বৃষ্টি আসে তাহলে শিয়রে সর্বনাশ‌। বৃষ্টি বেশী হলে ধসে পড়বে ধান। ফলে বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে। যদিও কৃষি দফতর আশ্বাস দিয়েছে যদি অতি বৃষ্টিতে শস্য নষ্ট হয় তাহলে নিয়ম মত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে তাই চিন্তার কারণ নেই। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

Scroll to Top