এসআইআর-এর সময় নাম বাদ দেওয়ার জন্য কোন সফটওয়্যার?
তীব্র প্রতিবাদ বিরোধীদের

৩৬৫ দিন। নয়াদিল্লি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশে এসআইআর-এর সময় ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছিল, তা জানাতে অস্বীকার করল নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি তথ্য জানার অধিকার আইনে এক ব্যক্তি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন কোন বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া চলার সময়ে।
কিন্তু জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যে জবাব দেওয়া হয়েছে সেখানে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে এই তথ্য জানানো হবে না। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের এই জবাব প্রকাশ্যে আসার পরেই তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় মুখপাত্র জয়রাম রমেশ এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।সম্প্রতি তেলেঙ্গানার করিমনগরের সমাজকর্মী এমএ মুজিব আয়ুব আরটিআই আইনে আবেদন করে জানতে চেয়েছিলেন, ভোটার তালিকায় ত্রুটি, অসঙ্গতি ধরার জন্য কোন সফটওয়্যারের কোন সংস্করণ, অ্যাপ্লিকেশন বা এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছিল? সেই সিস্টেম কি নিজে থেকেই যাচাই, সংশোধন, নাম অপসারণের জন্য ত্রুটি শনাক্ত করে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সহায়তা কি নেওয়া হয়েছিল? সফটওয়্যার কি নিজে থেকেই নাম মুছে ফেলে? কারা পর্যালোচনা করেছিল? গত ১৬ অক্টোবর আয়ুবের প্রশ্নের জবাব দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মাঝেই তারা জানায়, ওই কাজের জন্য আলাদা ভাবে কোনও সফটওয়্যার তৈরি করা হয়নি। তালিকায় ভোটারের নাম সংযোজন বা বাদ দেওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইআরও বা ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার। তারা নথি এবং তথ্যের ভিত্তিতেই সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দ্য হিন্দুস্তান টাইমস-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে তথ্য জানার অধিকার আইনে প্রশ্নের উত্তরে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই তথ্য বাণিজ্যিক ভাবে গোপন এবং মেধাস্বত্ব বিষয়ক। কমিশনের দাবি, আরটিআই আইনের ৮(১)(ডি) ধারা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক গোপনীয়তা, ট্রেড সিক্রেট বা মেধাস্বত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়। তবে তারা জানিয়েছে, এসআইআরের কাজের জন্য নতুন কোনও সফটওয়্যার তৈরি করা হয়নি। কমিশন জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় ভাবে ত্রুটি শনাক্ত করা, এআই বা মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহার এবং ভুল শনাক্তকরণ ঠেকানোর সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আবেদনকারীর প্রশ্নগুলি ব্যাখ্যা চাওয়ার সমতুল। কমিশনের মতে, আরটিআই আইনের ২(এফ) ধারায় এ ধরনের ব্যাখ্যা চাওয়ার বিষয়টি তথ্য হিসেবে গণ্য হয় না।
তীব্র প্রতিবাদ বিরোধীদের
এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরেই কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি কংগ্রেসের সর্বভারতীয় মুখপাত্র তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয় রাম রমেশ কমিশনের তীব্র সমালোচনা করে লিখেছেন, ইসিআইনেট সফটওয়্যার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব নাগরিকদের কাছে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ধ্বংস করেছে। নির্বাচন কমিশন বার বার এই তথ্য দিতে অস্বীকার করছে, কারণ এটি প্রকাশ পেলে ভোটার তালিকায় যে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে, তা প্রকাশ পেয়ে যাবে। আজ একটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয়স্তরের দৈনিক জানিয়েছে, তথ্য অধিকার (আরটিআই) আইনের আওতায় করা আবেদনের জবাবে নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এ ব্যবহৃত সফটওয়্যারটির বিষয়ে তথ্য দিতে অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশন ভিত্তিহীন অজুহাত দেখিয়ে সফটওয়্যারটির নাম প্রকাশ করতে চায়নি। এমনকি এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, বা কী ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে— সে বিষয়েও কোনও তথ্য প্রদান করা হয়নি।

Scroll to Top