নায়ক মনবীর,কঠিন ম্যাচে চেন্নাইকে হারাল মোহনবাগান

মোহনবাগান – ১
চেন্নাইন – ০

৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। প্রথম ম্যাচে গুয়াহাটির মাঠে গিয়ে হেরে এসেছিল মোহনবাগান। দ্বিতীয় ম্যাচে দিল্লির মাঠে লড়াই করে জয় পেয়েছিল তারা। আজ এবারের আইএসএলে মোহনবাগানের ছিল প্রথম হোম ম্যাচ। সপ্তাহের প্রথম দিন হলেও প্রায় ১৫ হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন যুবভারতীতে সবুজ মেরুনের ম্যাচ দেখতে। স্কোর লাইন বলছে মোহনবাগান ম্যাচটা এক গোলে জিতেছে। কিন্তু যারা খেলাটা দেখলেন তারা স্বীকার করবেন অত্যন্ত খারাপ ফুটবল খেলেছে সবুজ মেরুন। সবকিছু ঠিকঠাক হলে মোহনবাগান নয়, ম্যাচটা কমপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জেতা উচিত ছিল চেন্নাইয়ের। নিকোলা পোস্টে মারলেন, সহজ সুযোগ হারালেন তালাল। সোজা কথা বলতে চেন্নাইকে দেখে মনে হচ্ছিল তারা হোম ম্যাচ খেলছে। মোহনবাগান বাইরের মাঠে খেলছে। এতটাই দাপট ছিল দক্ষিণের দলটির। অথচ প্রথম দশ মিনিট শুরু ভালো করেছিল বাগান। কিন্তু তারপর পুরো খেলাটাই ধরে নিল চেন্নাই। ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন মেহেদী তালাল, মহমেডান প্রাক্তন নিকোলা যখনই বল ধরেছেন অস্বস্তি তৈরি হয়েছে মোহনবাগান ডিফেন্সে। মোহনবাগান ফুটবলারদের দেখে মনে হচ্ছিল না তারা একসঙ্গে প্র্যাকটিস করেন এতদিন ধরে। মাঝখানে অত্যন্ত খারাপ খেলেছেন সামির জেলকোভিচ।
দেখে মনে হচ্ছিল না তিনি একজন বিদেশি। একটা সময়ের পর তাকে তুলে নিতে বাধ্য হলেন কোচ। সেকেন্ড হাফ শুরু হতে পরপর তিনটে পরিবর্ত করলেন বাগানের গ্রিক কোচ। সামাদ, অনিরুদ্ধ এবং শুভাশিসকে নিয়ে আসা হল। কিছুটা যেন নিজেদের ফিরে পেল মোহনবাগান। অভিষেক সিং চলে গেলেন ডান দিকে, বাম প্রান্ত থেকে অপারেট করলেন শুভাশিস। আজ বাগানে ছিলেন না অপুঁইয়া, মিগুয়েল, জেমি। তবুও এই তিনজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার না থাকলেও মোহনবাগানের যা ওজন তাতে আজকের খেলার যে স্ট্যান্ডার্ড তারা দেখিয়েছে তার থেকে অনেক ভালো খেলার ক্ষমতা তাদের আছে। তবে দিনের শেষে ম্যাচ জেতা আসল, তিনটি পয়েন্ট সংগ্রহ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেটাই করে দেখিয়েছে সবুজ মেরুন জার্সিধারীরা। ৮৫ মিনিটের মাথায় লিস্ট একটা দুর্দান্ত ক্রস রাখলেন বাঁ দিক থেকে। বল ফলো করে আসা মনবীর বুক দিয়ে জালে প্লেস করে গেলেন। চেন্নাই গোলরক্ষক নেওয়াজ দাঁড়িয়ে দেখলেন।
লি আরেইন বলটা বাড়িয়েছিলেন লিস্টনকে। আজ গোল করতে না পারলেও পরিশ্রম করলেন লি। প্রয়োজনে নিচে নেমে ডিফেন্সকে সাহায্য করেছেন। ডিফেন্সে আলবার্ত এবং মেহতাব লড়াই করেছেন। সব মিলিয়ে মোহনবাগানের খেলা নিজেদের ৫০ শতাংশ হয়েছে আজ লেখা যায়। তবে সমর্থকরা খুশি হবেন ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচ প্রিয় দল জয় পেল। কিন্তু এটাও মানতে বাধ্য হবেন একটা সময় পর্যন্ত অত্যন্ত বিরক্তিকর ফুটবল খেলেছে তাদের দল। মোহনবাগান কোচকে দেখে মনেই হচ্ছিল নিজেদের পারফরম্যান্সে তিনি খুশি নন। কিন্তু কেন এরকম খেলছে মোহনবাগান এর উত্তর তার কাছেই আছে। যেখানে ইস্টবেঙ্গল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করছে সেখানে বাগানের কেন এরকম হাল প্রশ্ন উঠবেই। তবে পরপর দুটো জয় দলটার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।

Scroll to Top