চুঁচুড়ায় মানবিকতার নজির
ঘুঘু পাখির বাসার জন্য খোলা হচ্ছে না পুজো মণ্ডপ!

৩৬৫ দিন।বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোয় উৎসবের আলো, আনন্দ আর আড়ম্বরের মাঝেও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন হুগলির চুঁচুড়ার সুকান্তনগরের সুকান্ত স্মৃতি সঙ্ঘের দুর্গাপুজো উদ্যোক্তারা। এখানে মণ্ডপের বাঁশের কাঠামোয় বাসা বেঁধেছে একটি ঘুঘু পাখি। সেই বাসায় রয়েছে চারটি ডিম। আর পাখিটির নিরাপত্তার কথা ভেবেই পুজো শেষ হয়ে যাবার পরে মণ্ডপের একটি অংশ খুলে ফেলার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন উদ্যোক্তারা।
দুর্গাপুজোয় এবারে সাঁচী স্তূপের আদলে তৈরি হয়েছিল এই পুজো মণ্ডপ। পুজোর প্রস্তুতির সময় মণ্ডপের কাঠামোয় ঘুঘু পাখির বাসা ও চারটি ডিমের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর বাসাটি নষ্ট না করে কীভাবে পাখিটিকে নিরাপদে রাখা যায়, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেন উদ্যোক্তারা। পুজোর পরে শেষ পর্যন্ত বাসার উপরের অংশ খোলা রেখে বাকি অংশ পাতলা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
উদ্যোক্তাদের এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে এক সহজ বার্তা—মানুষের উৎসবের আনন্দে যেন কোনও নিরীহ প্রাণীর ক্ষতি না হয়। ঘুঘু পাখির ছানারা বড় হয়ে উড়তে শেখার আগে মণ্ডপের ওই অংশ পুরোপুরি খুলে ফেলার ব্যাপারে সতর্ক রয়েছেন তাঁরা। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের এই উদ্যোগে শামিল হয়েছেন।
পুজো উদ্যোক্তা শ্যামল মজুমদারের বক্তব্যেও উঠে এসেছে বাসাটিকে রক্ষা করার ইচ্ছার কথা। স্থানীয় বাসিন্দারাও পাখির ছানারা বড় হয়ে উড়তে শেখার পর মণ্ডপের ওই অংশ খোলার পক্ষে মত দিয়েছেন।
দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ, উৎসব ও মিলন। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেও অন্য প্রাণের প্রতি দায়িত্ববোধ যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, চুঁচুড়ার এই ঘটনা যেন সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়। দেবী দুর্গার আরাধনার পাশাপাশি একটি ছোট্ট পাখির সংসারকে আগলে রাখার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে মানবিকতার এক সুন্দর বার্তা বহন করছে। এলাকা জুড়ে তাই খুশির ছোঁয়া।

Scroll to Top