প্রয়াত শিল্পী যোগেন চৌধুরী

৩৬৫ দিন।প্রয়াত শিল্পী যোগেন চৌধুরী। বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। ছিলেন ভেন্টিলেশনে। শেষ রক্ষা হল না। শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। চিকিৎসা চলছিল। সম্প্রতি দুর্গাপুজোর সময় আক্রান্ত হন মূত্রনালীর সংক্রমণে। সেই থেকেই ভর্তি হাসপাতালে। ১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের দাহারপাড়া গ্রামে যোগেন চৌধুরীর জন্ম। দেশভাগের সময় কলকাতায় চলে আসা, এখানেই শিল্পশিক্ষা, পরে প্যারিসে উচ্চশিক্ষা এবং রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্ট গ্যালারিতে কিউরেটরের দায়িত্ব পালন। তাঁর বাবা প্রমথনাথ চৌধুরী ছিলেন জমিদার এবং মা ছিলেন আলপনা আঁকায় দক্ষ। পারিবারিক এই শিল্পচর্চাই ছোটবেলা থেকে যোগেনের মধ্যে ছবি আঁকার আগ্রহ তৈরি করতে সাহায্য করে। শুরুর দিকে হাওড়া জেলা স্কুলে শিল্পের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন যোগেন।
১৯৬২ সালে কলকাতার হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীকালে মাদ্রাজেও টেক্সটাইল ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৫ সালে ফরাসি সরকারের বৃত্তি নিয়ে প্যারিসে শিল্পশিক্ষার জন্য যান যোগেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয় চিত্রশিল্পী হিসেবে। সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক চিত্র এঁকে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পাশাপাশি নিজস্ব ঘরানা তো ছিলই। ভারতীয় শিল্প আন্দোলন ও ইয়োরোপীয় শিল্প আন্দোলনের প্রভাব দেখা যায় তাঁর আঁকায়।২০১৪ সালে রাজ্যসভার তৃণমূলের সদস্যও ছিলেন তিনি। যোগেনের মৃত্যুতে শোকের আবহ শিল্প জগতে।
প্রসঙ্গত,চিত্রচর্চার পাশাপাশি তিনি দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের সংগ্রহশালার অবেক্ষক হিসেবে এবং পরবর্তীকালে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর কলাভবনের অধ্যাপক এবং অধ্যক্ষ হিসেবে সুদীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছেন। সমাজ, শিল্পভাবনা, পরিবেশ, শিল্পকলা-শিক্ষা, সংস্কৃতি বিষয়ে নানা সময়ে তিনি প্রবন্ধ রচনা করেছেন, এমনকি একসময় কাব্যচর্চাও করেছেন। তাঁর রচনা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এবং কখনও গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলেও এ-যাবৎ সেইসব রচনা একত্রিত করার উদ্যোগ চোখে পড়েনি। কলকাতায় পরিবারের শুরুর দিনগুলোতে যোগেন চৌধুরী তাঁর কাকার কোয়ার্টারের দেয়ালে ছবি আঁকা শুরু করেন, বলা চলে সেখান থেকেই শিল্পীর হাতেখড়ি শুরু হয়।

Scroll to Top