নাবালকের মৃত্যু ঘিরে ধুন্ধুমার কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

৩৬৫ দিন। ১১ বছরের বালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রবিবার দুপুরে তুলকালাম বাঁধে কলকাতা মেডিকেল কলেজহাসপাতালে। সকাল ১০ টা নাগাদ পেটে ব্যাথা নিয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় পবন যাদব।পেটে তীব্র ব্যাথা হওয়ায় মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য আসে,
চিকিৎসকরা তাকে ভর্তি করে নেন। দেড়ঘন্টা পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নাবালকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায়। পরিবারের অভিযোগ, জুনিয়র ডাক্তারদের ভুল ইঞ্জেকশনের জন্য এই ঘটনা। দুপুরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৃতের পরিবারের সঙ্গে পুলিশের তুমুল বচসা শুরু হয়। পরে পুলিশ অবস্থা আয়ত্তে আনে।
চিকিৎসার গাফিলতিতে ১১বছরের নাবালকের মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্ত করে অকালমৃত্যুর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস স্বাস্থ্য মন্ত্রীর রবিবার দুপুর থেকেই কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, পুজোর সময় সিনিয়র ডাক্তার না থাকায় জুনিয়র ডাক্তারদের দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা করায়। পেটে ব্যাথা নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীকে পরপর ভুল ইঞ্জেকশন‌ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন পবনের পরিজনরা। তাঁদের আরও অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ বলছে ২ টি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে, তাঁরা জানেন ৩ টি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে।কি করে রোগীর স্বাস্থ্যের অবনতি হলে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বালকের পরিবার।এই ঘটনায় পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চায় ‌। পুলিশকে ঘিরে ধরে পবনের পরিজনরা বিক্ষোভ দেখায়, তাতে পুলিশ – জনতা হাতাহাতি হয় বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। যদিও পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও বিধায়ক বিজয় ওঝা। পবনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন।পরিবার দেহ ময়নাতদন্তে রাজি না হওয়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী তাদের বোঝান।পরে পরিবারের সম্মতিতে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। সোমবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জমা পড়বে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিবারকে আশ্বাস দেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পরিবারের তরফে আরও জানা গেছে,পবনের মামার বাড়ি কলেজ স্কোয়ারে, সেখানে পুজোর সময় বেড়াতে এসে তীব্র পেটে ব্যাথা অনুভব করে সে। বাবার কথায় পবনকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ-হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মাত্র দেড় ঘন্টার ব্যবধানে যেভাবে চিকিৎসাধীন ১১ বছরের বালকের মৃত্যু হল, তাতে চিকিৎসার গাফিলতিকে দায়ী করছেন পরিবার। যেভাবে নাবালকের অকালমৃত্যুর জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়, তাতে হাসপাতাল চত্বরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।

Scroll to Top