৩৬৫ দিন। সংসদে জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব কেন্দ্রে মোদি সরকার পাশ করতে দেবে এমন আশা যে কংগ্রেস সহ কোনো বিরোধী দল করছে না তা হলফ করে বলে দেওয়া যায় এবার তাই দিল্লির পথে প্রতীকী সংসদ বসাতে চলেছে ইন্ডিয়া জোট। প্রতীকী সংসদে বসবে প্রতীকী অধিবেশন। সেখানে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনবেন বিরোধী দলের সাংসদরা। সেই প্রস্তাব নিয়ে একেবারে নিয়ম মেনে আলোচনা হবে। এস আই আরের নাম করে জ্ঞানেশ কী ভাবে কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দিয়ে বিজেপিকে অন্যায় সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন তা ফের একবার তুলে ধরা হবে। তারপর খুব স্বাভাবিক ভাবে ভোটাভুটিতে ইমপিচমেন্টের পক্ষে অধিক ভোট পড়বে ও জ্ঞানেশের ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাশ হয়ে যাবে। কংগ্রেস সূত্রে খবর, ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে বড় সমাবেশ মিছিল হবে। এক প্রকার শক্তি দেখাবে ইন্ডিয়া জোট তার ঠিক ১ দিন আগে অর্থাৎ ৩০ অক্টোবর এই কর্মসূচি রাখা হয়েছে। জনতার দরবারে জ্ঞানেশ বিদায় হবে। ওই দিন থেকেই কার্যত ১ নভেম্বরের কর্মসূচির সূচনা হয়ে যাবে। কংগ্রেস তো বটেই ইন্ডিয়া জোটের সব দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জনতার দরবারে জ্ঞানেশের ইমপিচমেন্টে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে এবং তারা সম্মত-ও হয়েছেন। কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল জানিয়েছেন, দিল্লির বুকে একটি প্রতীকী সংসদ ভবন তৈরি করে জনতার দরবারে জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হবে। সেখানে বিরোধী জোটের সাংসদ ও শরিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।
রাহুলের ‘দিল্লি চলো’
১ নভেম্বর রামলীলার সমাবেশে রেকর্ড ভিড় করানো কংগ্রেসের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ইন্ডিয়া জোটের কর্মসূচি হলেও তার নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাহুল। ফলে তার ওপর দায়িত্ব বেশী। সমাবেশে ভিড় টেনে যাতে বিজেপিকে চাপে ফেলা যায় তাই এবার সরাসরি নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে রামলীলার সমাবেশে যোগ দানের আহ্বান জানালেন তিনি। ডাক দিলেন ‘দিল্লি চলো’। রাহুল লিখছেন, এস আই আর করে আমাদের ভোট চুরি করানো হয়েছে। আমরা কি চুপ করে বসে থাকবো? ভোট চুরি হচ্ছে তার প্রতিবাদ করলে লাঠি পেটা করছে পুলিশ এবার দেশ জবাব দেবে। তাই ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে আসতেই হবে। কারণ আসাটা জরুরী। ভোট চুরি মানে দেশ চুরি। ভোট ও দেশ দুই বাঁচাতে রামলীলা চলো দিল্লি চলো। রাহুল যোগ করেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে যোগ দিতে হবে। ছাত্র যুব মহিলা, কৃষক, শ্রমিক অথবা ব্যবসায়ী- মোদি সরকার সকলের সর্বনাশ করছে। বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে রাহুল লেখেন, বিজেপিকে আন্তরিক ধন্যবাদ। ওরা আর ওদের শরিকরা দায়িত্ব নিয়ে আমাদের ১ নভেম্বরের কর্মসূচিকে এত প্রচার দিয়েছেন যে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ কাতারে কাতারে সমাবেশে যোগ দেবেন।
নাটক না করে সংসদে আসুন, বিজেপি
ইন্ডিয়া জোটের মক পার্লামেন্ট করে জ্ঞানেশ ইমপিচমেন্ট ও ১ নভেম্বর রামলীলার কর্মসূচি, দুটিকেই তীব্র ভাষায় আক্রমণ করছে বিজেপি। রবিবার দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, কংগ্রেস ও তার দলবল দেশের সবকটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে দিয়ে এক অরাজক পরিস্থিতি তৈরী করতে চাইছে। সামনেই দিওয়ালী, উৎসবের সময় এখন রাজনৈতিক কর্মসূচি করে গন্ডোগোল পাকানোর কী খুব দরকার ছিল! সম্বিতের প্রশ্ন, রাহুল তো বিরোধী দলনেতা, উনি তো জানেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনারকে ইমপিচ করার নিয়ম। ওরা প্রস্তাব আনুন না। ভোটাভুটি হোক। এরপর তিনি যোগ করেন, আসলে ওদের সংখ্যা নেই সংসদে লাভ হবে না বুঝে রাস্তায় নেমে নাটক করছেন। ১ নভেম্বর শিখদের কাছে কালো দিন। রাহুলকে ওই দিন-ই বাছতে হল সমাবেশের জন্য উনি শিখদের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিচ্ছেন।
প্রতীকী সংসদ বসিয়ে জ্ঞানেশ ইমপিচমেন্ট
৩০ অক্টোবর কর্মসূচি ডাকল ইন্ডিয়া
- khabar365din
- October 25, 2026
- 4:57 pm
- No Comments





