৩৬৫ দিন। তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে অস্কার ক্লেইন পদক পেলেন বাঙালি তথা ভারতীয় বিজ্ঞানী অশোক সেন। বৃহস্পতিবার প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই পদক অর্জন করেন তিনি। অতীতে এই পদক পেয়েছেন স্টিফেন হকিং ও পিটার হিগসের মতো বিজ্ঞানী।
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিয়োরেটিক্যাল সায়েন্সেস-এর অধিকর্তা রাজেশ গোপকুমার জানিয়েছেন, অতীতে যাঁরা এই পদক পেয়েছেন, তাঁদের তালিকাই এই সম্মানের গুরুত্ব বুঝিয়ে দেয়। সারা বিশ্বের পদার্থবিদদের মধ্যে অশোক সেনের অবস্থানের যথাযথ স্বীকৃতি এই পুরস্কার।
বর্তমানে টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের (টিআইএফআর) অধীন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিয়োরেটিক্যাল সায়েন্সেস-এ কর্মরত অশোক সেন। স্ট্রিং তত্ত্বের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে তাঁর পরিচিতি।অস্কার ক্লেইন পদক ১৯৮৮ সালে অস্কার ক্লেইন পদক প্রদান শুরু হয়। এখনও পর্যন্ত মোট ৩৮ জন বিজ্ঞানী এই সম্মান পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হান্স বেথ, স্টিভেন ওয়েনবার্গ, সিএন ইয়াং, টিডি লি, এডওয়ার্ড উইটেন, ডেভিড গ্রস, কিপ থর্ন, অ্যালান গুথ এবং জেরার্ড ট হুফের মতো বিশিষ্ট বিজ্ঞানীরা।
অশোক সেনের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় তাঁর দীর্ঘদিনের গবেষণার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে বিশ্ব বিজ্ঞানের মঞ্চে ভারতীয় গবেষকদের অবদানকেও স্বীকৃতি দিয়েছে।
অশোক সেনের এস-ডুয়ালিটি বদলে দেবে ভবিষ্যৎ গবেষণা
অল্টারনেট ইউনিভার্স বা কল্পিত দ্বিতীয় মহাবিশ্ব। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অন্তিম থিওরি এখানেই আটকে আছে। এই তত্ত্ব ও গবেষণা অনুযায়ী,গোটা মহাবিশ্বের প্রতিটি ঘটনা ও তার ভবিষ্যৎ দুমুখো, বা তার দুটি সমান্তরাল ফলাফল। আমাদের মহাবিশ্বের ঠিক সমান্তরাল আরেক মহাবিশ্ব, সময়ের সঙ্গে কাটায় কাটায় মেলানো,শুধু ফলাফল অন্য। যেন আয়নায় দেখা নিজের অন্য রকম চেহারা। পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় একে অনেক সময় সমান্তরাল মহাবিশ্ব বা মাল্টিভার্স বলা হয়। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের কারণে মহাবিশ্ব বিভক্ত হয়ে নতুন একটি ইউনিভার্স তৈরি হয়। যেমন,যদি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি জিতে যেত, তবে আজকের পৃথিবী কেমন হতো? আমেরিকা ইথিওপিয়ার থেকেও দরিদ্র কোনো দেশে পরিণত হতো? একদিক সম্ভাবনা। ব্ল্যাক হোল এই দুই সমান্তরাল মহাবিশ্বের একমাত্র দরজা। একই ব্যাখ্যা করে স্ট্রিং থিওরি। অশোক সেনের গবেষণার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র স্ট্রিং থিওরি। সহজ ভাবে বললে, এই তত্ত্বের মাধ্যমে মহাবিশ্বের মৌলিক কণাগুলি কী ভাবে কাজ করে তা নিয়েই গবেষণা। এই ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো এস-ডুয়ালিটি। এর মাধ্যমে স্ট্রিং থিওরির বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে গভীর সম্পর্ক বোঝার নতুন পথ খুলে যায়।ব্ল্যাক হোলের এনট্রপি এবং তার ভিতরের কোয়ান্টাম প্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রেও তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ। ব্ল্যাক হোলের এনট্রপি বা শক্তি কতটা, তা বোঝায়। এই গবেষণা মহাকর্ষ ও কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যাতেও নতুন পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।ব্ল্যাক হোলের এনট্রপির চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর দাড়িয়ে আছে ভবিষ্যতের গবেষণা। প্রায় মিথ্যে হয়ে যাবে কত শত ফর্মুলা, আবিষ্কার। পদার্থ,সময় ও তার অনন্ত যাত্রার নতুন পথ খুলে যাবে।





