ঘনিষ্ট মাও নেতার আত্মসমর্পণ
মাথার দাম ছিল মোট ৭ লক্ষ টাকা

৩৬৫ দিন। রাজ্যে মাওবাদী দমনে ফের বড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশ এর এস টি এফ । শুক্রবার লালবাজারে এক সাংবাদিক বৈঠক করে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানান, শহরের বুকে আত্মসমর্পণ করেছেন এক মাওবাদী দম্পতি। আত্মসমর্পণকারী ওই দুই মাওবাদী নেতার নাম মঙ্গল এবং মালতী । এদের মাথার দাম ছিল যথাক্রমে ৫ লাখ ও ২ লক্ষ টাকা ।পশ্চিমবঙ্গ তথা ঝাড়খণ্ডের সীমানায় দীর্ঘকাল ধরে সক্রিয় থাকা এই মাওবাদী দম্পতি নিজেদের সঙ্গে থাকা একটি একে-৪৭ এবং একটি ইনসাস রাইফেল সহ বেশ কিছু গোলা ও কার্তুজঅ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এরা মাওবাদী নেতা কিষেনজি ও তারপর কমান্ডার আকাশের ঘনিষ্ঠ ছিল বলেও পুলিশকে জানিয়েছে এরা ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী দু’জনেই মূলতঃ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। মঙ্গলের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে এবং মালতীর বাড়ি ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে। ২০১০ সালে শালবনিতে ‘জনসাধারণের কমিটি’ যখন সক্রিয় ছিল, ঠিক সেই সময়েই মাওবাদী সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন মঙ্গল। তিনি একসময় মাওবাদী শীর্ষ নেতা কিষেণজির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১১-১২ সাল নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে ঝাড়খণ্ডের দলমা এবং পরে সারান্ডা জঙ্গল এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপের দায়িত্ব নেন মঙ্গল। কিছুকাল পর মালতীও সারান্ডায় তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। এরা মূলত বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের সীমানাতেই তাদের জাল বিস্তার করেছিল । এ রাজ্যে তাড়া খেয়ে ঝাড়খণ্ডে পালাতো আবার সেখানে নকশাল বিরোধী অভিযান জোরদার হলে ওই রেড কোররিডোর দিয়েই আবার বাংলাতেই পালিয়ে আসত ।
আত্মসমর্পণ করার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ভুল স্বীকার করে মঙ্গল বলেন, সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে সমাজের পরিবর্তন করা এভাবে সম্ভব নয়। সে চিন্তা আমাদের ভুল ছিল তাই আমরা সেই পথ ছেড়ে জীবনের মূল স্রোতে ফিরে আসতে চাই। সেই কারণে আমরা এখানে এসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করলাম। উল্লেখ্য পুলিশ কমিশনার হওয়ার আগে অজয় নন্দ মূলত জঙ্গি , নকশাল দমন নিয়েই তার অধিকাংশ কর্ম জীবন কাটিয়েছেন। বাংলার পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ড পুলিশের খাতায় মঙ্গলের বিরুদ্ধে অন্তত ৬-৭টি গুরুতর অপরাধমূলক মামলা ঝুলছিল এবং তাই তাঁর মাথার দাম রাখা হয়েছিল ৫ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, মালতীর মাথার দাম ছিল ২ লক্ষ টাকা। পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সারান্ডা জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের মুখে মাওবাদীদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে ২০২৬ সালের শুরু থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা প্রায় ১৩ জন শীর্ষ মাওবাদী ক্যাডার এলাকা ছাড়তে শুরু করেন। তাঁদের মধ্যেই একাধিক জন বিভিন্ন জায়গায় গ্রেফতার হন এবং অনেকে আত্মসমর্পণ করেন। যারা আত্মসমর্পণ করছেন তাদের পুনর্বাসন প্যাকেজের মাধ্যমে সমাজে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে পুলিশ ।
উল্লেখ্য এই প্রথম নয় চলতিবছরেই একের পর এক শীর্ষ মাওবাদী নেতানেত্রীরা হয় গ্রেফতার হয়েছেন বা আত্মসমসর্পন করেছেন এর আগে গত জুন মাসে কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন বর্ষীয়ান মাওবাদী নেত্রী পুষ্পা ওরফে শকুন্তলা। তারও আগে মে মাসে উত্তর কাশীপুর এলাকা থেকে প্রবীণ মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলাকে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। একের পর এক এই আত্মসমর্পণ ও গ্রেফতারির ফলে জঙ্গলমহল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাওবাদী সংগঠন কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ল বলে মনে করছে নকশাল আন্দোলন নিয়ে কাজ করা ওয়াকিবহাল মহল।

Scroll to Top