৩৬৫ দিন। সৌগত মণ্ডল। কয়েকদিন আগেই কলকাতায় এসে আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এক লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মাদানী গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানি। এবারে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকেপশ্চিমবঙ্গে ২ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব এলো। শুভেন্দু অধিকারীর নিজের জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের হরিপুরে অত্যাধুনিকমানের পরমাণু চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করার বিষয় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল। পাশাপাশি ডেটা সেন্টার, হোটেল এবং কয়লা গ্যাসিফিকেশন প্রকল্প নিয়েও প্রস্তাব দিয়েছে রিলায়েন্স। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের হরিপুরে রিলায়েন্সের প্রস্তাবিত পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে পারে। বিনিয়োগটি ৬-৭ বছরের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এটি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে বড় শিল্প বিনিয়োগের একটি সম্ভাবনা তৈরি হবে।
কেন হরিপুরে পরমাণু কেন্দ্রের প্রস্তাব রিলায়েন্সের?
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির কাছে উপকূলবর্তী হরিপুরে আগে থেকেই পরমাণু প্রকল্পের জন্য একটি জমি চিহ্নিত হয়েছিল। হরিপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্রজেক্টের জন্য নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া এনপিসিআইএল-এর অনুমোদিত প্রায় ২০০০ একর জমি এখনও রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। পূর্বতন মমতার সরকারের সিদ্ধান্তে প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার আগে এনপিসিআইএল জমিটির জন্য ভূমিকম্প ও ভূ-প্রযুক্তিগত সমীক্ষা, জলবিদ্যা, সমুদ্রবিজ্ঞান, আবহাওয়া, জনসংখ্যা এবং পরিবেশ সংক্রান্ত একাধিক সমীক্ষা সম্পূর্ণ করেছিল। তবে জানা গিয়েছে রিলায়েন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যদি হরিপুরে কোন কারণে সম্ভব না হয় তাহলে বিকল্প হিসেবে পূর্ব মেদিনীপুরের নয়াচড়ে এই প্রকল্প স্থাপন করতে চান তাঁরা। যদিও প্রথম পছন্দ হিসেবে হরিপুর কেই এগিয়ে রেখেছে রিলায়েন্স।রিলায়েন্সের বিনিয়োগ আরো বহু ক্ষেত্রে গত মাসে মুম্বইয়ে নিজের বাসভবন অ্যান্টিলিয়াতে গণেশ পুজোর দিনে শুভেন্দুঅধিকারী কে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির পশ্চিমবঙ্গে বেনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার শুধুমাত্র পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। রিলায়েন্সের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের কাছে সেই অনুযায়ী, একটি অত্যাধুনিক এআই ডেটা সেন্টারের কথাও রয়েছে। নিউটাউনে রিলায়েন্সের জন্য বরাদ্দ করা ৪০ একর জমির মধ্যে ১৫ একর অংশে আগামী তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পুরো ডেটা সেন্টারের কাজ আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। এছাড়াও হোটেল ও কয়লা গ্যাসিফিকেশনেও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী রিলায়েন্স।রিলায়েন্স পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে হোটেল তৈরির আগ্রহও প্রকাশ করেছে। কলকাতা,পাহাড় এবং সুন্দরবন এলাকায় হোটেল গড়ে উঠলে পর্যটনের প্রসারের পাশাপাশি হবে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান।





