বাংলায় বিপুল বিনিয়োগ করতে আগ্রহী মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স গোষ্ঠী, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক রিলায়েন্স প্রতিনিধি দলের

৩৬৫ দিন। পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপুল অংকের বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স গোষ্ঠী। কয়েকদিন আগে ই মুকেশ আম্বানির ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গিয়েছিলেন মুম্বাইতে আম্বানিদের বাসভবন অ্যান্টিলিয়াতে। সেখানেই মুকেশ আম্বানি এবং তার ছেলে অনন্ত আম্বানির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বিনিয়োগ করার জন্য রিলায়েন্স গোষ্ঠীকে আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। মুকেশ আম্বানি সেই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গে কোন কোন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে তা খতিয়ে দেখার জন্য রিলায়েন্স গোষ্ঠীর একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল খুব তাড়াতাড়ি যাবে নবান্নে।
সেই প্রতিশ্রুতি মতো আজ রিলায়েন্স গোষ্ঠীর একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠকে বসে। আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও পশ্চিম মেদিনীপুরের বীর সিংহ গ্রামে বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে তে দাঁড়িয়ে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বলেন, রিলায়েন্সও এ রাজ্যে বড় বিনিয়োগ করছে। কলকাতায় তারা বড় দল পাঠিয়েছে। এ রাজ্যের রিলায়েন্স অনেক বিনিয়োগ করবে। প্রসঙ্গত গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করার পর থেকেই রাজ্যে একের পর এক বিনিয়োগ আনার জন্য বিভিন্ন শিল্প গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন শুভেন্দু। ইতিমধ্যেই আদানি গোষ্ঠীর নিউটাউনে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল তৈরির জন্য ভূমি পূজো অনুষ্ঠান করে ফেলেছে এবং আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে এক লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানি। এর পাশাপাশি আম্বানিদের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে গত সপ্তাহেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, অনন্ত আম্বানির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। উনি ও মুকেশ আম্বানি বাংলায় আসছেন। বাংলায় বিনিয়োগ করবেন ওঁরা। ডেটা সেন্টার ও সেমি কন্ডাক্টর হাবে কাজ করবেন।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের তথ্যপ্রযুক্তি, পরিকাঠামো, ডাটা সেন্টার এবং জ্বালানি সহ একাধিক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয় বিনিয়োগ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিনিধিদল। এছাড়াও জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের রিলায়েন্সের সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে ডেটা সেন্টার, আন্তর্জাতিক কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন, কয়লা গ্যাসিফিকেশন ও বায়োগ্যাস, ফুড পার্ক, পরিকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্প। বৈঠকে সম্ভাব্য প্রকল্পগুলির রূপরেখা ও বাস্তবায়নের পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

Scroll to Top