৩৬৫ দিন। অনন্ত রায়। বুধবার দক্ষিণ কলকাতার লেক ভিউ স্কুলের শিক্ষকদের ঘরে ঢুকে মাও সেতুং, লেনিন ও হোচি মিনের ছবি সরিয়ে ফেলেন কয়েকজন। তাঁরা আর এস এস পন্থী শিক্ষক সংগঠন রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের সদস্য বলে অভিযোগ। এভাবে শিক্ষাঙ্গনে ঢুকে দীর্ঘদিন ধরে টাঙানো থাকা সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্বদের ছবি সরিয়ে দেওয়ায় তৈরি হয়েছে বিতর্ক।আর এস এস পন্থী শিক্ষক সংগঠনের মতে, দেশের জন্য বা জাতীয় জীবনে যাদের অবদান আছে , তাঁদের সম্মান না জানিয়ে বিদেশি নেতাদের ছবি কেন থাকবে? এই বিষয়ে অখিল ভারতীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের জেলা সভাপতি প্রদীপ পালের মন্তব্য,লেক ভিউ স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা চলছে, কসবা থেকে আসা
অভিভাবকদের একাংশের নজরে আসে, বিদ্যালয়ে হো চি মিন, স্ট্যালিন সহ অনেক একনায়কের ছবি আছে।অভিভাবকদের একাংশের থেকে আপত্তি মেলার পর আমরা সংগঠনের তরফে সেখানে গিয়ে দেখতে যাই।শিক্ষকদের কাছে গত মঙ্গলবার এই বিষয়ে প্রশ্ন রেখেছিলাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জায়গায় কেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, সংবিধান প্রণেতা বি আর আম্বেদকর, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম, বর্তমান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ছবি না রেখে চে গুয়েভারা, স্ট্যালিনের মতো একনায়ক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছবি রাখা আছে খোদ প্রধান শিক্ষকের ঘরে? যদিও এই স্কুলে দীর্ঘদিন কোনোও প্রধান শিক্ষক নেই। ওখানে উপস্থিত শিক্ষকরা বলেন,গত ২০ বছর ধরে এভাবেই স্কুলের মধ্যে মার্ক্স,মাও সেতুং দের ছবি আছে। আমরা এবিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। মঙ্গলবার কোনো সদুত্তর না পেয়ে আবার বুধবার যখন টিচার ইনচার্জ রণদেব চক্রবর্তীকে কে এই বিষয়টি জানতে চাই, তখন তিনি বলেন, আমরা ৭ দিন পর এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। যখন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা আসেন তখন দেখলাম
টি আই সি সহ স্কুলের কিছু শিক্ষক নিজেরাই সেইসব ছবি সরিয়ে ফেলেন।
বিজেপি নেতা ও অধ্যাপক বিমল শঙ্কর নন্দ বলেন, আমি জানি না কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে আমার মনে হয়,স্কুলের মধ্যে মাও সেতুং, লেনিনের ছবি কেন থাকবে ? তাঁরা দেশের জন্য কী করেছেন? যেকোনো ভারতীয় মনিষীর ছবি থাকতে পারে। এব্যাপারে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের সঙ্গে আমাদের কোনোও সম্পর্ক নেই। কারা এই ঘটনা করেছে তা জানা নেই। তবে আমার মনে হয়,স্বদেশের ঠাকুর ফেলে বিদেশি কুকুরদের পুজো করতে হবে। আমাদের দেশে কোনও মনিষীর অভাব পড়েনি,যে বিদেশ থেকে কারুর ছবি লাগাতে হবে। শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে চাপ দিয়ে এইভাবে দীর্ঘদিন ধরে টাঙানো ছবি সরিয়ে ফেলার ঘটনা নজিরবিহীন বলে শিক্ষকদের একাংশের অভিমত। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় জানান, কাউকে পছন্দ বা অপছন্দ হতেই পারে। অনেকেই এইসব ব্যক্তিদের পছন্দ করেন।
কার্ল মার্ক্সের মতো বিপ্লবীদের তো সম্মান জানাতে হবে। আর স্কুলের ভিতরে এভাবে ঢুকে পড়ে ছবি খোলার ঘটনা এই রাজ্যের শিক্ষা – সংস্কৃতির বিরোধী। বাংলার শিষ্টাচার বিরোধী এই ধরনের ঘটনা না হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
স্কুলের টিচার্স রুমে টাঙানো কম্যুনিস্ট নেতার ছবি, বিতর্কের পর খুলে ফেলা হল সমস্ত ছবি
- khabar365din
- October 1, 2026
- 7:05 pm
- No Comments





