অজেয় সংহতিতে মধ্যরাত্রে দুষ্কৃতি হামলা

৩৬৫দিন।  গত রবিবার হরিদেবপুর অজেয় সংহতির মণ্ডপ তৈরির সময় একদল দুষ্কৃতি হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।এই ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আক্রান্ত অরিজিৎ নন্দী এব্যাপারে জানিয়েছেন, রবিবার রাতে যখন আমাদের প্যান্ডেল বাঁধার কাজ শেষ হয়ে আসে, তখন আমরা বাড়ি ফেরার তোড়জোড় করছিলাম।এমন সময় ৮-৯জন আমার ওপর হামলা চালায়। আমি ছাড়াও ক্লাবের ২-৩জন সদস্যকে মারধর করে ,বন্দুক উঁচিয়ে ভয় দেখায়,আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলাকারীরা তাণ্ডব চালায়,মারধর, গালিগালাজ করে। যারা রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলেন তাঁদের ও মারধর করে। ক্লাবের সদস্যদের মতোই পথচারীদের কয়েকজন আহত হয়। যেহেতু আমি তৃণমূল কংগ্রেস করি তাই আমাকে টার্গেট করা হয়। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা এই ধরনের ঘটনার পিছনে রয়েছে।পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।আমাদের ক্লাবে সব দলের সদস্যরা রয়েছেন।৬৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম এই ধরনের ঘটনা ঘটল। মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীর মন্তব্য, হরিদেবপুর অজেয় সংহতির মতো ঐতিহ্যবাহী পুজোর মণ্ডপ তৈরির সময় এইধরনের হামলার তীব্র নিন্দা করছি। যারা এই ধরনের ঘটনার পিছনে রয়েছে তাদের গ্রেফতার করে শাস্তি দেওয়া দরকার। স্থানীয় মানুষের মতে ,শাসক দলের লোকজন এতে যুক্ত। দুর্গা পুজোয় কোনোরকম রাজনৈতিক রং লাগা উচিত নয়। মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেলের নেত্রী উপাসনা চৌধুরী, রাজ্যের বিজেপি সরকারের আমলে দুষ্কৃতিদের তাণ্ডব ও আক্রমণ বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। দুর্গা পুজোর কার্নিভাল বন্ধ করে দেওয়া থেকে শুরু করে পুজো মণ্ডপে দুষ্কৃতি হামলা প্রমাণ করে আইনের শাসন নেই। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর শিকদার বলেন, এটি পুরোপুরি দুষ্কৃতিদের কাজ।এর সঙ্গে রাজনৈতিক দলের কোনোও যোগ নেই। অহেতুক রাজনৈতিক রং লাগানো হচ্ছে। আমরা পুলিশকে বলেছি যারা এই ধরনের ঘটনায় যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। লালবাজার তদন্ত করছে। অজেয় সংহতির পুজো হবে কিনা, বলে যে কথা প্রচার করা হচ্ছে তা মোটেও সত্য হবে না। ওখানে পুজো হবে,যথারীতি তার প্রস্তুতি চলছে। ক্লাবের সম্পাদক পীযূষ হালদার জানিয়েছিলেন দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত অজেয় সংহতিতে পুজো প্রস্তুতির কাজ স্থগিত থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেনে তারা । তবে মঙ্গলবার বিকেল থেকে এনিয়ে প্রশাসন তৎপর হওয়াতে ক্লাবের নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় ।তাতে সন্তুষ্ট হয়ে ও প্রশাসনিক আস্বাসে বুধবার থেকে ফের পুজো প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলেও জানিয়েছেন ক্লাবের সদস্যরা।

Scroll to Top