বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য মুখ্যমন্ত্রীর

৩৬৫ দিন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন উপলক্ষে আজ ঘাটালের বীরসিংহ গ্রামে বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দিরে। সেখানে তিনি বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে ফুলের মালা দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তিনি ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভগবতী দেবীর আবক্ষ মূর্তির উন্মোচন করেন। সেখান থেকে বীরসিংহ ভগবতী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বিদ্যাসাগরের জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি বলেন, নবজাগরণের পথিকৃৎ সময় সংস্কারক নারী শিক্ষার অগ্রণী মানুষ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আমাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান বীরসিংহ গ্রামকে এমন ভাবে সাজিয়ে তুলতে হবে যা সারা ভারতবর্ষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে থাকবে। তিনি গোটা বীরসিংহ এলাকাকে আলোয় আলোকিত করে তোলার জন্য এক কোটি ২০ লক্ষ টাকার সোলার লাইট বসানোর কথা ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে ভগবতী বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ৩৪ লক্ষ টাকা, স্থানীয় হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য তিনি অর্থ বরাদ্দ করেন এবং বিদ্যাসাগর পার্কে আরো উন্নত করে তোলার জন্য যেমন আর্থিক বরাদ্দ করেছেন তেমনি বীরসিংহ গ্রামে পর্যটকদের থাকার জন্য একটি আবাসন তৈরি করারও কথা ঘোষণা করেছেন। এছাড়াও বীরসিংহ গ্রামে যাওয়ার প্রতিটি রাস্তাকে সুন্দর করে তৈরি করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন আগের সরকার একটি উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করেছিল শুধু নামে কোন কাজ হয়নি। আজকের অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ, পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা, ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট, দাসপুরের বিধায়ক তপন দত্ত ,চন্দ্রকোনার বিধায়ক শুভেন্দু দোলুই, মেদিনীপুরের বিধায়ক শংকর কুমার গুছাইত, নারায়ণগড়ের বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি সহ একাধিক বিধায়ক ও আধিকারিকরা। আগামী জুন মাসের মধ্যেই বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান এর কাজ অনেকখানি এগিয়ে যাবে বলে আজ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ বীরসিংহ গ্রামে দাঁড়িয়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে ১২০০ কোটি মঞ্জুরের কথা ঘোষণা করে শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য ১২০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হবে। পুজোর পরেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। দ্রুত কাজ শেষ করে ঘাটালের বন্যা সমস্যা থেকে মানুষকে রক্ষা করাই সরকারের লক্ষ্য। বন্যাপ্লাবিত এলাকার মানুষের জন্য ইতিমধ্যেই রিলিফ মেটেরিয়াল দেওয়া হচ্ছে। গঙ্গাপাড়ের কাঁচাবাড়ির তালিকা তৈরি করার নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিটি কাঁচা বাড়ির মালিকদের ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার। দ্রুত টাকা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। যাদের ধান নষ্ট হয়েছে, সেই সমস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও প্রকল্পের কাজ জমি অধিগ্রহণের জটে আটকে ছিল। এখন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ৫০ শতাংশ করে আর্থিক সহায়তায় জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন ঘাটাল-পাঁশকুড়া রেলপ্রকল্প নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। শুভেন্দুর অভিযোগ, জমি না পাওয়ায় আগের সরকারের সময়ে রেলের কাজ আটকে ছিল।

Scroll to Top