রান্নাঘরে ঢুকে মাছের পেটি বেছে নিয়ে  খেলেন রূপা 

৩৬৫ দিন।সৌগত মণ্ডল।  সোনারপুরের স্কুলের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে পাত পেড়ে বসে মিড ডে মিল খেলেন সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়িকা রূপা গাঙ্গুলী। আজ সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সোনারপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের হাসানপুর বিদ্যাধরপুর জুনিয়র হাইস্কুলের একটি নতুন কক্ষ উদ্বোধন করার জন্য গিয়েছিলেন রূপা। এখানে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আড্ডার মেজাজে গল্প করার পাশাপাশি সেলফিও তোলেন তিনি। তবে বারে বারে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পরামর্শ দেন যতটা সম্ভব কম মোবাইল ব্যবহার করার জন্য। মোবাইল ব্যবহার করলেও তা যেন শিক্ষামূলক কাজে ব্যবহার করে সেই পরামর্শ দেন অভিভাবক অভিভাবিকাদের।
সেখানেই ছাত্র-ছাত্রীদের আবদারে তাদের সঙ্গেই স্কুলের বেঞ্চে বসে জমিয়ে গল্প করতে করতে মিড ডে মিলে রান্না হওয়া মাছ ভাত আর ডাল খেলেন রূপা। রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে যখন মিড ডে মিলের খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ নিজেই স্কুলের মিড ডে মিল রান্না হওয়ার কিচেনে গিয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যা রাঁধুনীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি নিজে হাতে হাত বেড়ে নিয়ে মাছের থালা থেকে রুই মাছের পেটি বেছে নেন রূপা।
ভারত স্বাধীন হওয়ার পরে প্রায় ৮০ বছর কেটে গেলেও এখনো পর্যন্ত এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একটিও মাধ্যমিক স্তরের হাইস্কুল নেই জানতে পেরে রূপা গাঙ্গুলী জানান স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তিনি রাজ্য সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। স্কুলে নবনির্মিত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কক্ষের উদ্বোধন করার পরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক অলোক নায়েকের কাছ থেকে স্কুলটিকে মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত করার পাশাপাশি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারি সহায়তার আবেদন পাওয়ার পরেই জানিয়ে দেন, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতে একেবারে ছোট থেকেই কম্পিউটার শিক্ষায় প্রশিক্ষিত করা যায় তার জন্য নিজের বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা থেকে কম্পিউটার কেনার পাশাপাশি স্কুলের পরিকাঠামো নির্মাণের জন্যও আর্থিক সহায়তা করবেন। স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত রাস্তাঘাট এবং পানীয় জলের সমস্যার সমাধান করার জন্য আরো কিছুদিন সময় দেওয়ার আবেদন জানান এলাকার মানুষের কাছে। তিনি বলেন, মাত্র ৪ মাস হলো আমাদের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তবে মুখ্যমন্ত্রী দূর্গা পূজার আগেই সমস্ত রাস্তা সংস্কার করার যে নির্দেশ দিয়েছেন তা মেনে চলার জন্য আমরা বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে করে কাজের দায়িত্ব বন্টন করে দিয়েছি। এই চার মাসে এখনো পর্যন্ত যে কাজ করতে পেরেছি তা প্রায় কিছুই নয়। এক শতাংশ কাজও করে উঠতে পারিনি। তবে এলাকার মানুষের কাছে আমার প্রতিশ্রুতি আমাদের কিছুটা সময় দিন এলাকার উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার সর্বতোভাবে কাজ করছে।

Scroll to Top