ভোটচোর ভ্যানিশ কুমারের শেষ দেখে ছাড়বো: মমতা

৩৬৫ দিন।  আপনাকে পদত্যাগ করতেই হবে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন। এভাবেই ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারকে ফের ভ্যানিশ কুমার বলে তাঁর উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ দুপুরে ২০ বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিল ইন্ডিয়া জোট। আলোচনায় ঘুরে ফিরে এল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারির দাবি। বৈঠক শেষে প্রেস কনফারেন্স থেকে ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন খাড়্গ। তিনি জানান, ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকে গণতন্ত্র বাঁচাও কর্মসূচি শুরু হবে। জেলায় জেলায় যৌথ মিছিল করবে বিরোধীরা। খারগে পরই মমতাকে কিছু বলার অনুরোধ জানানো হয়। আর তাতেই গর্জে ওঠেন তৃণমূলনেত্রী। তিনি বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ, একজোট। এর চেয়ে বড় দুর্নীতি আগে হয়নি। বিহারে রাহুল গান্ধী, তেজস্বী যাদব ভোট চুরির কথা বলেছিলেন। ২০২৪ সালে ভোট চুরি করে জিতেছে বিজেপি। মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, বিহারেও ভোট চুরি করে জিতেছে। বাংলায় পুরোটাই লুঠ করেছে। আমরা এখানে কমিশনের কাছে গিয়েছিলাম। সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি। কড়া নেড়েছি সব দরজায়। আর এখন তো সব প্রকাশ্যে। এই মঞ্চ থেকেই রণংদেহি মেজাজে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ভ্যানিশ কুমার চোর, ভ্যানিশ কুমার ডাকাত। ভোট চুরি করেছেন, ইভিএম পুড়িয়েছেন।হাইজ্যাক করেছেন ইভিএম। গণনায় কারচুপি হয়েছে। অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে ওঁকে। এখনই করতে হবে, করতেই হবে। পাশেই বসেছিলেন সনিয়া গান্ধী। মমতার বক্তব্য শেষ হতেই পিঠ চাপড়ে দিলেন। তারপরই সনিয়ার হাত শক্ত করে ধরলেন মমতা। এই মুহূর্তই বুঝিয়ে দিল ইন্ডিয়া ব্লকে মমতার অবস্থান! বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও বার্তা দিলেন, আমরা একসঙ্গে আছি। মমতা বলেন, বড় দুর্নীতি হয়েছে। এর ফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ। ভোটচুরি করে মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, বাংলায় জিতেছে বিজেপি। আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়েছিলাম, সুপ্রিম কোর্টের দরজায় এসেছিলাম। ভ্যানিশ কুমার চোর, ডাকাত। ইভিএম জ্বালিয়ে দিয়েছিল। রিগিং করেছিল গণনায়। ওঁকে পদত্যাগ করতে হবে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমাদের দাবি, ভ্যানিশ কুমারকে সরানো না হলে আন্দোলন অনেক দূরে যাবে। আমরা একসঙ্গে লড়াই করব। ইভিএম কেন জ্বালালেন? সীমা খান্না কে? ৯২ লাখ লুঠ করেছে। ১৩ কোটির বেশি লুঠ করেছে ভারতে। সফটওয়্যার বানিয়ে লুঠ করেছে ভোট। আমরা একসঙ্গে লড়াই করব। আমাদের ঘর থেকে বেরোতে দেয় না। আমরা লড়ব, জিতব। গণতন্ত্রের রক্ষা করব। প্রাণের ঝুঁকি থাকলেও আমরা তৈরি। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বসে দেশের সর্ব স্তরের মানুষকে এই আন্দোলনে শামিল হতে আহ্বান জানিয়ে মমতা বলেন, গোটা দেশে ১৩ কোটির বেশি। ইআরও-দের ডেডলক করে দিলেন! সিস্টেমকে শেষ করে দিয়েছেন। এক মিনিটও পদে থাকা উচিত নয় ওঁর। এখনই ইস্তফা দেওয়া উচিত। মানুষকে অনুরোধ, বিরোধী জোট কর্মসূচি শুরু করছে। আমাদের বেরোতে দেয় না বাড়ি থেকে। তাও আমরা সবাই শামিল হব। আমাদের না হয় বেরোতে দেবে না। ওরা কোথায় যাবে? গণতন্ত্র ফেরাতে, সংবিধান বাঁচাতে আমরা লড়ব, জিতব। এর জন্য প্রাণ বাজি রাখতেও প্রস্তুত আমরা। ছাত্রছাত্রী, মহিলা, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সকলের সমর্থন প্রার্থনা করছি।

Scroll to Top