টাইগার ইজ ব্যাক
৩৬৫ দিন। শিলিগুড়ি। টাইগার ইজ ব্যাক। রয়্যাল বাঘিনীকে বক্সার বনাঞ্চলে এভাবেই জানানো হল ওয়েলকাম। নতুন ঠিকানায় রয়্যাল বাঘিনীর এনক্লোজারে রাজকীয় আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্ঠনী সহ রাজ্য ও কেন্দ্র বনদপ্তর এর বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে মেডিকেল বোর্ড করে বাঘিনীর চিকিৎসার ওপর নজর দেওয়া হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর এয়ার বেস থেকে বায়ু সেনার সি১৩০জে হারকুলিন এয়ারক্র্যাফটে বুধবার সকালে হাসিমারায় এসে পৌঁছয় বাঘিনী। গোটা যাত্রাপথে বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনী ও লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম মাধ্যমে মেডিকেল বোর্ডের উপস্থিতিতে আনা হয়। বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে বাঘিনীকে বক্সার টাইগার রিজার্ভের ২৫ মাইল এলাকায় ২.৩ হেক্টর জমিতে তৈরি এনক্লোজারে ছাড়া হয়।
বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভার থেকে ট্র্যাকুলাইজেশন এর পরে রেডিও কলার পরিয়ে বিমান সফর ও পরবর্তীতে বক্সার বনাঞ্চলের উন্মুক্ত এনক্লোজারে ছাড়া হয়েছে।এদিন ভোর সাড়ে তিনটায় নাগাদ হাসিমারা এয়ার বেস সেখান থেকে সকাল ৭ টা ১৫ মিনিট নাগাদ বক্সাতে আনা হয় তিন বছর বয়সী বাঘিনীকে। খোশ মেজাজে বক্সার বনাঞ্চলের এনক্লোজারের ভেতরে বাঘিনীর ঘোরাফেরার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন বনমন্ত্রী মনোজ ওরাও। এদিন বনমন্ত্রী মনোজ ওরাও জানান- বাঘিনী একেবারে সুস্থ্য রয়েছে। ২.২ হেক্টর জমির উপর থাকা সুউচ্চ এনক্লোজারের বাঘিনীর খাবারের পর্যাপ্ত সংস্থান করা হয়েছে। যাত্রা পথের ক্লান্তি দূর করতে বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের ডায়েট চার্ট অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত মাংস এবং ওআরএস মিশ্রিত পানীয়।
দীর্ঘক্ষণ যাত্রা পথে ট্রাকুলাইজেশন এর কারণে শরীরে জলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে এই বিশেষ মেনু চার্ট। নিজে থেকে শিকার করে খাবারের জন্য হরিণ, শুকোর ছাড়া হয়েছে এনক্লোজারে। সকালে এনক্লোজারের ভেতরে তৈরী ছোট জলাশয়ে চনমনে মেজাজে গরমের হাত থেকে বাঁচতে বাঘিনীর স্নানের দৃশ্য নজরে আসে। রাজ্য কেন্দ্রীয় বনদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা আলিপুরদুয়ারে রয়েছেন। চব্বিশ ঘন্টা আধুনিক সিসি ক্যামেরা ও ট্র্যাপ ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বাঘিনীকে। আগামী ২ অক্টোবর শুক্রবার বনাঞ্চলে বক্সা টাইগার রিজার্ভের উন্মুক্ত বনাঞ্চলে ছাড়া হবে রেডিও কলার সংযুক্ত বাঘিনীকে। নতুন ঠিকানায় বাঘের বংশবৃদ্ধি ও স্বাভাবিক প্রজননের মধ্য দিয়ে দেশের রয়্যাল বেঙ্গল সংরক্ষনে ছাপ ফেলতে তোড়জোড় জোর কদমে চলছে বক্সায়। টাইগার ইজ ব্যাক টু বক্সা, সে স্বাগত হোর্ডিংয়ে ছেয়ে গিয়েছে বনাঞ্চল। বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ বলেন, “সাড়ে তিনটে নাগাদ হাসিমারা বায়ু সেনা ছাউনিতে নামিয়ে সেখান থেকে সড়ক পথে বাঘিনীটিকে আমরা বক্সাতে এনেছি। সকাল ৭ টা ১৫ মিনিট নাগাদ বক্সাতে ঢোকে খাঁচা বন্দি বাঘিনী। এখন এনক্লোজারে দিব্যি ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। সকালে এনক্লোজারের ভেতরে ছোট জলাশয়ে স্নান সেরে নিয়েছে সে। মাঝে মাত্র একদিন। ২রা অক্টোবর গলায় রেডিও কলার পড়ানো বাঘিনীটিকে আমরা বনাঞ্চলে মুক্ত করে দেব। পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। পরবর্তীতে আমরা আরো বাঘ আনব।”
উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে দেশের মধ্যে ১৫ তম সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে মর্যাদা পায়। রেকর্ড অনুযায়ী সেসময় এই বনাঞ্চলে ২০ টির বেশি বাঘের অস্তিত্ব ও উপস্থিতি মেলে। পাহাড়,সমতল মিলে মোট ৭৬০ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃন এলাকা জুড়ে বক্সা বাঘ বন। কিন্তু কালক্রমে ধীরে ধীরে এই বনাঞ্চল বাঘ শুন্য হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বাঘের বিষ্ঠা কখনো পায়ের ছাপ এ ধরনের অস্তিত্ব জানান দেয়। বর্তমানে এই বনাঞ্চলে একটিও বাঘের উপস্থিতি নেই। তবে শেষ দু বছর ট্রাপ ক্যামেরায় আসাম ও ভুটান থেকে আগুন্তক বাঘেদের ছবি সামনে এসেছে। মূলত ভুটান সীমান্ত হয়ে এই বনাঞ্চলে পুরুষ বাঘেদের আনাগোনা ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়ে। বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বন্যপ্রাণীদের সহজাত স্বভাববশতই বাঘিনীর জন্য বক্সার জঙ্গলে প্রজননের মাধ্যমে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের উপস্থিতিতে বাঘিনীটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বনাঞ্চলে ছাড়া হবে। এই অনুষ্ঠানের সাক্ষি থাকবে গোটা আলিপুরদুয়ার।





