৩৬৫ দিন। বই নিয়ে বচসার জেরে রিসার্চ করে এসে ক্লাসরুমের মধ্যেই সহপাঠীর গলায় ক্ষুর জাতীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটলো দক্ষিণ কলকাতার একটি নামযাদা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। শিক্ষকের সামনেই ঘটা এই আকস্মিক হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন নবম শ্রেণির এক ছাত্র। বর্তমানে আহত ছাত্রটি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার পর স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্কুল ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বই ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে দুই সহপাঠীর মধ্যে মতবিরোধ ও কথা কাটাকাটি হয়। অভিযোগ, এর জেরে শিক্ষক ক্লাসের মধ্যে এক ছাত্রকে বকাঝকা করেন। যার ফলে অপমানিত বোধ করে অভিযুক্ত ছাত্র এবং মনে মনে আক্রোশ পুষে রাখতে শুরু করে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার বাড়ি থেকে একটি ধারালো অস্ত্র বা ক্ষুর ব্যাগে ভরে স্কুলে নিয়ে আসে সে। এদিন দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ যখন ক্লাসে পড়া চলছিল এবং শিক্ষক ব্ল্যাকবোর্ডে ব্যস্ত ছিলেন, সেই সময় পিছনের বেঞ্চে বসা ওই দুই ছাত্রের মধ্যে ফের বচসা শুরু হয়। শিক্ষক তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। অভিযোগ, হঠাৎই ব্যাগ থেকে ধারালো অস্ত্র বের করে সহপাঠীর গলার ঠিক ওপরে সজোরে কোপ বসিয়ে দেয় অভিযুক্ত ছাত্র। চোখের পলকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ক্লাসের অন্য পড়ুয়া ও শিক্ষক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আহত ছাত্র।
দ্রুত স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে আহতকে উদ্ধার করে রুবি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার অস্ত্রোপচার করেন। বর্তমানে তার গলায় গভীর ক্ষত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার পরই অভিযুক্ত ছাত্রকে স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মনোবিদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে তার অভিভাবকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। স্কুলের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই গড়িয়াহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আহত ছাত্রের বাবার অভিযোগ, শিক্ষকের কাছে বকা খাওয়ার বদলা নিতেই ঠান্ডা মাথায় এই খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আক্রান্ত ছাত্রের বাবার দাবি, রীতিমতো রিসার্চ করে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, গতবছর অভিযুক্ত ছাত্রের মা আত্মঘাতী হন। তারপর থেকেই তার ব্যবহারে পরিবর্তন দেখা যায়। কীভাবে স্কুল ও ক্লাসরুমের মতো সুরক্ষিত জায়গায় এক পড়ুয়া ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করল, তা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও স্কুলের নিরাপত্তা কঠোর করার দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিক মহল। এই ঘটনাটির তদন্ত করছে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ।





