মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় সহ ৬ মন্ত্রীর অফিস তৈরির কাজ জোর কদমে চলছে মহাকরণে, মহালয়ার আগে সংস্কারের কাজ শেষের টার্গেট

৩৬৫ দিন। শুভায়ন বন্দোপাধ্যায়। বিজেপি সরকার বাংলায় ক্ষমতায় আসার পরে মহাকরণ থেকে সরকার পরিচালিত হবে বলে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিংসের সামগ্রিক সংস্কারের কাজ এখনও অনেকখানি বাকি রয়েছে। ফলে আপাতত নবান্ন থেকেই রাজ্যের মূল সচিবালয় চলছে। সময় বেঁধে মহাকরণ সংস্কারের কাজ শেষ করতে আদানি গোষ্ঠী উৎসাহ প্রকাশ করেছে। তবে তার মধ্যেই রাইটার্সের তিন তলায় মুখ্যমন্ত্রী–সহ ছ’জন মন্ত্রী, মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি–সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় পদাধিকারীরদের ঘর তৈরির শেষ পর্যায়ের কাজ করছে রাজ্যের পূর্ত দপ্তর। রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সচিবালয়ের কাজ শেষ করা হয়েছে। আরও ছ’জন মন্ত্রী ও মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি যাতে সেখানে বসতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আদানি গোষ্ঠী মহাকরণের সংস্কারের দায়িত্ব নিলেও পূর্ত দপ্তর তার অসম্পূর্ণ কাজ আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করবে। তবে ক্যাবিনেট রুম ও রোটান্ডার কাজ এখনই করা যাচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। আপাতত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পূর্তমন্ত্রী হিসেবে অজয় পোদ্দারের ঘর থাকবে মহাকরণে। পূর্ত দপ্তরের পাশাপাশি ইতিমধ্যেই আদানি গোষ্ঠী রঞ্জন মিত্র নামে এক জন আর্কিটেক্টকে রাইটার্স সংস্কারের কাজের দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি এক সময়ে হেরিটেজ কমিশনের সদস্য ছিলেন। তিনি প্রাথমিক ভাবে তার টিম নিয়ে মহাকরণ পরিদর্শন করেছেন। সামগ্রিক কাজের পর্যালোচনা এবং পরিদর্শন করতে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মহাকরণে আসছে আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। সেদিনই আনুষ্ঠানিক ভাবে এই কাজের দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেবে রাজ্য সরকার বলে পূর্ত দপ্তর সূত্রে খবর।
মহাকরণের কাজ এখন কোন পর্যায়ে রয়েছে সেটা নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করেছেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। ওই বৈঠকেই আধিকারিকদের দ্রুত সংস্কারের কাজ শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আগামী ১০ অক্টোবর অর্থাৎ মহালয়ার আগেই মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর-সহ ছয় মন্ত্রীর ঘর সংস্কারের কাজ শেষ করা যাতে সম্ভব হয় সেটাও জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার বলেন, “মহাকরণে সংস্কারের কাজ জোড় কদমে চালাচ্ছে পূর্ত দপ্তর। আদানি গোষ্ঠী রাইটার্সের সংস্কারের দায়িত্ব নিলেও পূর্তদপ্তর তার অসম্পূর্ণ কাজ মহালয়ার মধ্যে শেষ করবে, এটাই আমাদের টার্গেট। হেরিটেজের কথা মাথায় রেখেই সংস্কারের কাজ হচ্ছে। আমি জাতীয়তাবাদী মানুষ। তার মানে ইতিহাস ধ্বংস হয়ে যাক সেটা আমরা চাই না। যা আগের সরকার করেছে, মহাকরণে থাকা বহু ঐতিহাসিক সম্পদের হদিশ মিলছে না। সবদিক বিবেচনা করে কাজ করতে হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, সংস্কারের কাজ চলাকালীন মহাকরণের ঐতিহ্য ধরে রাখা শুধু চ্যালেঞ্জ নয়, যুদ্ধও বটে। এই ঐতিহাসিক ভবনের সংস্কারের নামে নষ্ট হয়ে গিয়েছে একাধিক ঐতিহ্য, যা এক কথায় হেরিটেজ ভবন সুরক্ষার পরিপন্থী বলে জানিয়েছেন পূর্তমন্ত্রী। পূর্ত দপ্তরের দাবি, মহাকরণের প্রতিটি তলায় মেঝেতে থাকা ইউরোপিয়ান টালিও উধাও হয়ে গিয়েছে। কংক্রিটের উপরে বসানো হয়েছে গ্র্যানাইট। মহাকরণে থাকা উল্লেখযোগ্য নানান ছবি–সহ ঐতিহ্যশালী এই ভবনের একাধিক ডকুমেন্ট খতিয়ে দেখেছে পূর্ত দপ্তর। মহাকরণে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের বেশ কিছু দপ্তরের বিভিন্ন শাখায় কাজকর্ম চলে। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর, কৃষি দপ্তর, পূর্ত দপ্তর, আইন দপ্তরের বেশ কয়েকটি শাখায় কর্মচারীরা এখনো কাজ করেন মহাকরণে। তবে সামগ্রিকভাবে মহাকরণ সংস্কারের কাজের ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার।
২০১৩ সালে রাজ্যের প্রধান সচিবালয় মহাকরণ থেকে সরিয়ে নবান্নে নিয়ে যান তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্রিটিশ শাসনকালে সাড়ে ৫ লক্ষ স্কোয়ার ফুট জায়গা নিয়ে তৈরি এই ভবনের সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছিল। তাই বর্তমান রাজ্য সরকার রাইটার্সের সংস্কারের দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দিচ্ছে।

Scroll to Top