আমরা চাই, বাংলার মহিলারা সিদ্ধান্ত নিন, এগিয়ে যাওয়ার সাহস হোক তাঁদের – নিজের জন্মদিনে ভার্চুয়াল বক্তব্যে বাংলার মহিলাদের সশক্তিকরনের জন্য কাজ করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

৩৬৫ দিন। আমরা চাই, বাংলার মহিলারা সিদ্ধান্ত নিন, এগিয়ে যাওয়ার সাহস হোক তাঁদের। এভাবেই আজ নিজের জন্মদিনে পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের আত্মনির্ভর করে তোলার জন্য পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের নেতৃত্বে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ ভার্চুয়াল বক্তব্য রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, বিজেপির মূলমন্ত্র ছিল কথা কম, কাজ বেশি, অন্নপূর্ণা যোজনার সূচনা সেই ভাবনাচিন্তা থেকেই। ৪ মে পশ্চিমবঙ্গে যে পালাবদল হয়েছে, তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মা-বোনদের। তাই এ রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম পরীক্ষা-ই ছিল মহিলাদের উন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে আজ অন্নপূর্ণা দিবস পালনের ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে ভাষণ দেন মোদী। তিনি জানান, মহিলাদের আত্মবিশ্বাস মজবুত করার জন্যই এই অন্নপূর্ণা যোজনা।
মহিলাদের যখন সংসারের খরচের চিন্তা কমে, তখনই তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে। প্রতি মাসে এই যোজনার ৩০০০ টাকা তাঁদের বড় সম্বল। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দেড় কোটি বোনের খাতায় অন্নপূর্ণা যোজনার চতুর্থ কিস্তি পৌঁছোচ্ছে। আমরা চাই, বাংলার মহিলারা সিদ্ধান্ত নিন, এগিয়ে যাওয়ার সাহস হোক তাঁদের। পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশের মহিলাদের জন্য কী কী করেছে তাঁর সরকার, তা-ও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, অন্তঃসত্ত্বা এবং স্তন্যদায়ী মহিলাদের জন্য মাতৃবন্দনা যোজনা চালু করা হয়েছে। কন্যাভ্রূণ হত্যা বন্ধ করতে এবং মেয়েদের শিক্ষা ও সুরক্ষার জন্য বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও শুরু হয়েছে। মেয়েরা বড় হলে যাতে স্কুলছুট না হয়, তাই স্কুলে শৌচালয় তৈরি করানো হয়েছে। মেয়েদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার জন্য সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা চালু করা হয়েছে। উজ্জ্বলা যোজনায় মহিলাদের গ্যাস সংযোগ, সৌভাগ্য যোজনায় বিদ্যুৎহীন পরিবারগুলিকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে, আয়ুষ্মান ভারত যোজনায় স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। মহিলারা যাতে বাড়ির মালিকানা থেকে বঞ্চিত না হন, তাই পিএম আবাস যোজনায় তাঁদের নামে বা যৌথ মালিকানায় বাড়ি দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর পরেই পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মানুষের বড় সমস্যা হল, কেন্দ্রের অনেক যোজনার সুবিধা থেকে তাঁরা দীর্ঘদিন বঞ্চিত হয়েছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এসে সব থেমে থাকা যোজনার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কোন সরকারি প্রকল্পে কোনও রকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না, বলে মনে করিয়ে তিনি বলেন, কোনও কাটমানি নেই, কোনও মধ্যস্বত্বভোগী নেই। এখন বাংলায় কাটমানি চলবে না।

Scroll to Top